- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিবিএস সামাজিক সূচক-পিছিয়ে পড়া মানুষ তাদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি নিন

দেশের জনগোষ্ঠীর ১২ দশমিক ৬৪ ভাগ বাস করে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায়। সামাজিক সূচকে তারা যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। সম্প্রতি রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ২ কোটি ২ লাখ মানুষ বসবাস করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে উল্লিখিত প্রতিবেদনে। মোট আয়, সুপেয় পানি ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট সুবিধা ও শিক্ষার হারসহ বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে আছে ওইসব দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ। বাংলাদেশের প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এর হার ৫০ শতাংশের কম। সারাদেশে ১৬ দশমিক ৩ ভাগ পরিবার কেরোসিন তেলের বাতি ব্যবহার করলেও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এর ব্যবহার ৩৯ দশমিক ৫৯ ভাগ পরিবারে। ওইসব এলাকায় প্রায় ৩৬ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে। দিনমজুরের কাজ করে প্রায় সাড়ে ৩২ শতাংশ। এসব এলাকায় ব্যবসায় নিয়োজিত আছে ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ মানুষ। চাকরিতেও প্রায় সমসংখ্যক মানুষ রয়েছে। শিল্প খাতে নিয়োজিত আছে মাত্র দশমিক ৩২ শতাংশ মানুষ।
বিবিএসের প্রতিবেদনে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার যে চিত্র পাওয়া যায়, সেটি সারাদেশের চিত্র থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ৪৩ লাখ ৬১ হাজার পরিবারের ২ কোটি ২ লাখেরও বেশি মানুষের জীবনমান পিছিয়ে থাকলে সারাদেশের সুষম উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষও এদেশেরই নাগরিক। সামাজিক সব সূচকে তারা দেশের সব মানুষের সমান থাকবে, এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ১৮ হাজার ৪২৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষতি হয়েছে ফসল নষ্ট হয়ে, নদীভাঙনের কারণে এবং বসতবাড়ি ভাঙনের ফলে। এ ক্ষতি দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে অবশ্যই প্রভাব ফেলে।
দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। সামাজিক যেসব সূচক রয়েছে, ওইসব এলাকার মানুষকে সেসব সূচকে এগিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষ অনেকটাই পিছিয়ে। দারিদ্র্যের কারণে ওইসব এলাকার বিদ্যালয় থেকে ছাত্র ঝরে পড়ার হার অন্যান্য এলাকা থেকে বেশি। এই ছাত্র ঝরে পড়া রোধ করতে হবে। বিদ্যালয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে ধরে রাখতে হবে। ওইসব এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে অধিকতর মনোযোগ দিতে হবে। শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যুর হার যাতে কম থাকে সে ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের স্যানিটেশনের সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ওইসব এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। শিল্প খাতে দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলো যথেষ্ট পিছিয়ে আছে। শিল্পকারখানা স্থাপনে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। কর অবকাশ বাড়িয়ে হলেও শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকার সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ কর্মসূচি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার যথাযথ করতে হবে।

  • [১]