জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর অফিস
হাওরের ফসল ডুবির সাথে সাথে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় হঠাৎ করে চাল, আটা, ডাল তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে হাওর ডুবির পর নিত্য প্রয়োজনীয় মালামালের দাম বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষদেরকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে। বিশেষ করে চাল ও আটার দাম বৃদ্ধি করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সচেতনমহল উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীকে মঙ্গলবার ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপরও ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিক্রয় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জগন্নাথপুর বাজার ঘুরে ও ক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্যের দাম বেশী নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। টানা বৃষ্টিপাতে প্রয়োজনীয় মালামাল না আসা ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করছেন। বন্যার পানিতে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় অধিক লাভের আশায় কোন কারণ ছাড়াই ব্যবসায়িরা চাল, আটা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করছেন। চাল ও আটার এমন আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ। চালের এমন উর্ধগতিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। তারা অবিলম্বে নায্যমুল্যে চাল বিক্রির দাবি জানিয়েছেন। এখনি চালের দামের মূল্য নিয়ন্ত্রণ না করলে দুর্ভোগ চরমে উঠতে পারে বলে আশংকা তাদের। এছাড়াও চাল,আটাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
সরেজমিনে জগন্নাথপুর সদর বাজার সহ বিভিন্ন হাটবাজারে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে আলোচনাকরে চালের মুল্যের ব্যাপক পার্থক্য দেখা গেছে। তথ্যমতে পুরাতন ২৮ ও ২৯ জাতের চাল বস্তা প্রতি বর্তমান বাজার দর ২৫০০ থেকে বাড়িয়ে অনেকেই ২৯০০ টাকা করে দিয়েছেন। তিন দিন আগে যার বাজারমূল্য ছিল ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা ছিল । আটার দাম হঠাৎ করে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে।
মজিদপুর গ্রামের রমা বৈদ্য বলেন, একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে আমরা যখন কষ্টে আছি ঠিক তখনি রাতারাতি চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে আমাদের ঘুম হারাম করা হয়েছে।
ইজলা গ্রামের কৃষক আনিছ মিয়া বলেন, ব্যবসায়িরা কোন কারণ ছাড়াই অধিক লাভের আশায় চাল, আটা সহ প্রয়োজনীয় মালের দাম বৃদ্ধি করছেন। সার্বক্ষণিক মনিটরিং না থাকলে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়বেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অতিরিক্ত দাম আদায় করলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানোর ব্যবস্থা করা হবে।
শাল্লা
শাল্লা প্রতিনিধি
শাল্লা উপজেলায় অসাধু ব্যবসায়ীরা চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অহেতুক বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। বুধবার শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর, নয়াগাঁও, হবিবপুর, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও, শ্যামারচর সহ আরো ছোটখাটো বাজার থেকে ক্রেতারা এই অভিযোগ করেন। তারা বলেন পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্বেও অসাধু ব্যবসায়ীরা চালের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। গত সপ্তাহে যে চালের কেজি প্রতি ২৮ থেকে ৩৫ টাকা সেই চাল এখন ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বস্তার (৫০ কেজি) মূল্য গত সপ্তাহেও ছিল ১৮০০-১৯০০ টাকা কিন্তু এখন ২৭০০-২৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চালের সাথে সাথে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যও বেড়ে চলেছে লাগামহীনভাবে।
শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর বাজার থেকে ক্রেতা আব্দুস শহীদ বলেন, কয়েকদিন আগেও সাধারণ চালের মূল্য ২৮-৩০ টাকায় ছিল। কিন্তু এখন সেই চালই ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলছে বাজারে চালের পর্যাপ্ত মজুত নেই। তাই দাম বাড়ছে।
হবিবপুর বাজার থেকে সতিশ দাস ও নিতেশ দাস বলেন, প্রতিদিনই বাজারে চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। তিনি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি রোধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রাখার আহবান জানান।