স্টাফ রিপোর্টার
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এবং রাজনৈতিক দলগুলো ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা করছে। দায়িত্বশীল এসব কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্ত, দলীয় সংশ্লিষ্টতা, ইতিপূর্বে নির্বাচন করেছেন কি না, দলীয় নেতৃবৃন্দ বা মন্ত্রী এমপি কর্তৃক পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার কারণ, জনমত যাচাইয়ে ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার, নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন কি না, সরকারি দলের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থী কে, জয়ী হতে হলে কি করণীয় এসব বিষয় পর্যালোচনা করে রিপোর্ট তৈরি করেছে। দিরাই ও শাল্লা উপজেলার দায়ি¦ত্বশীল একটি সংস্থা ৮৮ জন প্রার্থীর তালিকা সম্প্রতি তৈরি করেছে। তবে এই তালিকা আরো বর্ধিত হতে পারে বলে ঐ সংস্থা সূত্রে জানা গেছে। দলীয় সূত্র থেকে বিভিন্ন সংস্থার চেয়েও আরো বেশি প্রার্থীর নাম পরিচয় পাওয়া গেছে।
দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের ৯ জন প্রার্থীর তথ্য দায়িত্বশীল একটি সংস্থার তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে ৬ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ৩ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম, আবু এহিয়া, মো.মিজানুর রহমান চৌধুরী (ছুবা মিয়া), হুমায়ুন রশীদ লাভলু, জিল্লুর রহমান ও ইশতিয়াক হোসেন, বিএনপির কামরুল ইসলাম, আলী রব ও মো. কবির মিয়া। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ।
কুলঞ্জ ইউনিয়নে রয়েছে ৭ জন প্রার্থীর তথ্য। এর মধ্যে ৬ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ১ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের মিলন মিয়া, একরাম হোসেন, সুফি মিয়া, এনামুল হক লিলু, মহিউ্িদ্দন জগনু ও সদ্য বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী আহাদ মিয়া এবং বিএনপির আলাউর রহমান তালুকদার (আলা মিয়া)। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ৫ থেকে ২০ শতাংশ।
তাড়ল ইউনিয়নের ৫ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের আকিকুর রেজা পুলিশ, আহমেদ চৌধুরী ও রুহুল আমিন, বিএনপির নুরুল হক তালুকদার ও আব্দুল কুদ্দুস। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ৫ থেকে ৩০ শতাংশ।
চরনারচর ইউনিয়নের ৫ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক, ৩ জন বিএনপি এবং ১ জন ছাত্র ইউনিয়নের সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের জগদিশ সামন্ত, বিএনপির সামছুল আলম তালুকদার, রতি কান্ত দাস, জলিল মিয়া এবং পরিতোষ রায়। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ।
সরমঙ্গল ইউনিয়নের ৫ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ১ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন বিএনপি’র এহসান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সমিরণ সরকার, বাবুল চৌধুরী ও রণজিৎ রায়, বিএনপির মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েল। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ।
ভাটীপাড়া ইউনিয়নের ৫ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ১ জন জাতীয় পার্টির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, পাখি চৌধুরী, কাজী শাহ্ জাহান, বিএনপি’র বেলাল আহমদ এবং ঁজাতীয় পার্টির ফখরুল
ইসলাম। জনমত যাচাইয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ।
করিমপুর ইউনিয়নের ৫ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের আছাব উদ্দিন সর্দার, শাহজাহান সর্দার ও অ্যাড. শহিদুল হাসমত খোকন এবং বিএনপির আব্দুর রহিম ও সেলিম সর্দার। জনমত যাচাইয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ।
রফিনগর ইউনিয়নের ৫ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ৪জন আওয়ামী লীগের ও ১জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মহসীন রেজা শামীম, অ্যাড. অভিরাম তালুকদার, রেজেয়ান হোসেন খান বিএনপি’র বদরুল আলম, । জনমত যাচাইয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ।
রাজানগর ইউনিয়নের ৬ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ৩ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের সৌম্য চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র জহিরুল ইসলাম জুয়েল এবং বিএনপির আকিক আহমেদ (মধু মিয়া), হুমায়ুন কবির ও এ.কে কুদরত পাশা। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীর ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ।
এছাড়াও নির্ভরযোগ্য সংস্থার রিপোর্টের বাইরেও দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় ও দিরাই উপজেলা বিএনপির নেতা মাসুক আহমদ চৌধুরী ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য বেশ কিছু প্রার্থীর নাম জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের প্রাথীরা হলেন কুলঞ্জ ইউনিয়নে মাসুক মিয়া, ফজলে রাব্বি, শিশু মিয়া, তাড়ল ইউনিয়নে শামসুল হক, চরনারচর ইউনিয়নে নব কুমার বৈষ্ণব, সরমঙ্গল ইউনিয়নে ধন মিয়া, ভাটীপাড়া ইউনিয়নে মাহবুব চৌধুরী, রফিনগর ইউনিয়নে জাহেদ মিয়া এবং বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন কুলঞ্জ ইউনিয়নে আব্দুর রহিম, সৌদি প্রবাসী মুজিবুর রহমান, তাড়ল ইউনিয়নে বায়েছ আলম, আলী আহমদ, চরনারচর ইউনিয়নে রতন কুমার দাস, নজরুল ইসলাম, কবির আহমদ, সরমঙ্গল-ভাটিপাড়া ইউনিয়নে আফজল মিয়া, রফিনগর ইউনিয়নে আনিসুর রহমান, আতাউর রহমান প্রমুখ।
শাল্লার আটগাঁও ইউনিয়নের ৭ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ৪ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের এমদাদুল হক, অ্যাড. সেলিম আহমদ ও জাকির হোসেন হান্নান এবং বিএনপির আব্দুল্লাহ আল নোমান, মো. আব্দুল আউয়াল, মাসুদ আল কাওছার ও নজরুল ইসলাম। জনমত যাচাইয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ।
হবিবপুর ইউনিয়নের ৪ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ২ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের সুবল চন্দ্র দাস ও বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল এবং বিএনপির হুয়ায়ুন কবির আম্বর ও শৈলেন চন্দ্র দাস। জনমত যাচাইয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ।
শাল্লা ইউনিয়নের ৪ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং ৩ জন বিএনপির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের আবু লেইছ চৌধুরী এবং বিএনপির জামাল চৌধুরী ফুল মিয়া, মো. আব্দুস ছত্তার ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।
বাহাড়া ইউনিয়নের ৭ জন প্রার্থীর তথ্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগের সমর্থক, ১ জন বিএনপির সমর্থক এবং ২ জন জাতীয় পার্টির সমর্থক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা হলেন আওয়ামী লীগের বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু, তকবীর হোসেন, বিধান চৌধুরী ও কাজল বরণ চৌধুরী, বিএনপির নিত্যানন্দ দাস নিতাই এবং জাতীয় পার্টির কালীপদ রায় ও মো. জাকির হোসেন। জনমত যাচাইয়ে প্রত্যেক সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোট প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার দেখানো হয়েছে ১০ থেকে ২০ শতাংশ।
নির্ভরযোগ্য সংস্থার রিপোর্টের বাইরেও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকার শাল্লা প্রতিনিধি পিসি দাস পীযুসের দেয়া তথ্য মতে আরও যেসব সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পাওয়া গিয়েছে তারা হলেন, আটগাঁও ইউনিয়নে জুনেদ মনির প্রদীপ, ফসিহ উদ্দিন মনির নওসের, ফজলুল রহমান, আব্দুল কাসেম আখঞ্জি, আবুল কালাম আজাদ, নিহার তালুকদার পিকলু, ভূপেন্দ্র সমাজপতি, মিহির চৌধুরী, আশরাফ মনির, শাহজাহান মনির, সোলেমান মিয়া, খুরশেদ মিয়া, আবুল হাসান চৌধুরী, ওবায়েদুর রহমান তালুকদার, মকবুল হোসেন, নজরুল ইসলাম, আবু বক্কর সিদ্দিকী, আজব আলী। হবিবপুর ইউনিয়নে আব্দুর রকিব, আব্দুল হাসনাত মো. বেনজির করিম লিটন, প্রেমানন্দ সূত্রধর, নিশিকান্ত রায়। বাহাড়া ইউনিয়নে রামানন্দ দাস, রবীন্দ্র কৈবত্র, বিধান চৌধুরী, রতি চন্দ্র বৈষ্ণব, পিযুষ চৌধুরী, রান্টু লাল দাস, হাবিবুর রহমান, ফনী ভূষণ সরকার। শালা ইউনিয়নে আব্দুছ সাত্তার, লুৎফুর রহমান, জামাল চৌধুরী হুমায়ুন আহমদ, আব্দুল গনি।
এছাড়াও শাল্লা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল জানিয়েছেন, আটগাঁও এহিয়া মিয়া,শাল্লা ইউপি সাইফুর রহমান, আনিস চৌধুরী, আরব আলী এবং বাহাড়া ইউপি ব্রজেস চৌধুরী ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।