- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিশেষ প্রতিবেদন জামালগঞ্জ শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ ৪৯ শিক্ষকের বেতন বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার
শিক্ষাগত যোগ্যতা কম থাকায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সদ্য সরকারি হওয়া জামালগঞ্জের ৪৯ শিক্ষক  এপ্রিল মাস থেকে বেতন পাবেন না বলে জানা গেছে। বেতন বন্ধের তালিকায় ৪৭ জন সহকারি শিক্ষকের সাথে দুই জন প্রধান শিক্ষকও আছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সদ্য সরকারি হওয়ায় আগের সকল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য জেলা-উপজেলা পর্যায়ে চিঠি মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটিতে দ্বিতীয় বিভাগসহ এইচএসসি পাশ ও সিএনএড প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। সহকারি শিক্ষিকাদের একটিতে দ্বিতীয় বিভাগসহ এসএসসি পাশ ও সিএনএড প্রশিক্ষণ থাকতে হবে। তাহলেই সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি চাকুরিতে (শিক্ষক হিসাবে) যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন । যেসব শিক্ষকের এই যোগ্যতা নেই তাদেরকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করে সার্টিফিকেট দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল মন্ত্রণালয় থেকে।  এই চিঠি পাওয়ার পর অনেক শিক্ষক শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করলেও অনেকেই করতে পারেন নি। যারা যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বেতন-ভাতা চলতি মাস থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে।  
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই তালিকায় অন্যান্য উপজেলায় অল্প কয়েকজন করে থাকলেও জামালগঞ্জের ৪৯ জন শিক্ষক শিক্ষাগত যোগত্যা অর্জনে ব্যর্থ হন। তাই ৯১-এর শিক্ষক নিয়োগ বিধির আলোকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখতে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেয়। মন্ত্রণালয়ের নিদের্শ মোতাবেক চলতি মাসের বেতনের কাগজপত্র গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন ওই শিক্ষকরা।
সদ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির জামালগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শংকর সমাজপতি বলেন,‘ চাকুরি জীবনের শেষ বয়সে এসে হঠাৎ করে বেতন-ভাতা বন্ধ শিক্ষকদের জন্য খুবই কষ্টের ও অপমানজনক। মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পরও অনেক শিক্ষক শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় শিক্ষকরা এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। আমাদের জোর দাবি শিক্ষকদের পরিবার-   
পরিজনদের কথা ভেবে আরো কিছুদিন সময় বৃদ্ধি করা হোক। যাতে এই সময়ের মধ্যে শিক্ষকরা যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হজরত আলী বলেন,‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই তা অর্জন করতে সক্ষম হননি। শিক্ষা মন্ত্রণলায় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সময় বাড়ানোর জন্য চিঠি লেখা হয়েছিল। সময় বৃদ্ধির বিষয়ে কোন জবাব আসেনি। এসব শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ছাড়ের বিষয়ে কোন নির্দেশনাও পাওয়া যায়নি।’

  • [১]