- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিশ্বম্ভরপুরে ধান কাটা শেষ পর্যায়ে

স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার হাওর এলাকায় সোনালী বোর ধান কাটা ও ঘরে তোলার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা মনের আনন্দে সোনার ফসল ঘরে তুলছেন। হাওরের ধান কাটা ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
ধান কাটার শুরুতে আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকায় এবং করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ও শ্রমিক সংকটে কৃষকরা অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়েছিল। তবে সব সংকটকে পাশ কাটিয়ে এখন কৃষকরা ধান ও গো-খাদ্য খড় একই সাথে শুকিয়ে ঘরে তুলছেন। ধান মাড়াই, শুকানো, ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাছেন হাওর পাড়ের কৃষক কৃষানীসহ কৃষক পরিবারে লোকজন, ধান কাটার শ্রমিক, মাড়াই কলের শ্রমিকরা। এ বছরের মতো সোনার বৈশাখি বিগত ১০ বছরেও হয়নি বলে অনেক কৃষকরাই বলছেন।
হাওর পাড়ের কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক কাজল বর্মন ও আবুল হোসেন বলেন, এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় শান্তিপূর্ণ ভাবে আমরা কষ্টার্জিত বোর ধান ও গো-খাদ্যর খড় তুলতে পেরেছি।
ধান কাটার শ্রমিক তরঙ্গীয়া গ্রামের নূর মাহমুদ বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আমরা মাস্ক ব্যবহার করেছি এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধান কেটেছি।
মাড়াই কলের মাালিক মিজান বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় ধান কাটা, শুকনো ও মাড়াই করতে সুবিধা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাশ জানান, এবছর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ১০,৬৭৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ও উফশি বোর ধান চাষাবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে হাওরে ৬,৪৩৫ হেক্টর ও হাওর বহির্ভূত ৪,২৪০ হেক্টর জমিতে বোর চাষ আবাদ হয়। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, হাওরে ৯৭% ধান কাটা শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত হাওর ও হাওর বহির্ভূত মিলে ৮,৬৩৪ হেক্টর বোর জমির ধান কাটা হয়েছে। এ বছর বোর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ৫৩,৩৭৫ মে. টন অতিক্রম করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

  • [১]