স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের বন্যায় সারা উপজেলা অচল হয়ে গেছে। যোগাযোগ, বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় পানিবন্দি মানুষের আহাজারি চলছে। গত দুইদিন যাবৎ উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি আছেন। সুনামগঞ্জ থেকে বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর পর্যন্ত সড়ক ও এলজিডির সড়কসহ প্রতিটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা পরিষদ, হাটবাজার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পানির নিচে রয়েছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মোট ১৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৪০ থেকে ৪৫ টি স্থানে মানুষ আশ্রয় নেয়। বর্তমানে সুরমা নদীর পানি সহ বিভিন্ন নদীর পানি বাড়ছে।
তবে প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী অপ্রতুল। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে জানা যায় এ পর্যন্ত ৬০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৩ লক্ষ টাকা, কিছু শুকনো খাবার ও গোখাদ্যের জন্য ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
অপরদিকে সরকারি কর্মকর্তা ২৪ তম প্রশাসন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন ঢাকায় অবস্থানরত মোঃ জসিম উদ্দীন বিশ্বম্ভরপুরে পানি বন্দী পানিবন্দি মানুষের জন্য ৫০০ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী সহায়তা করেন। এ প্যাকেটগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদিউর রহিম জাদিদ বিতরণ করেন।
জনপ্রতিনিধিরাও খাদ্যসামগ্রী,পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সহ প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি বিতরণ করছেন।
বিশ্বম্ভরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা অনেক খারাপ হওয়ায় চারিদিকে অভাব অনটন দেখা দিয়েছে। গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে, প্রতিটি চুলায় পানি ঢুকে যাওয়ায় লাকড়ি দিয়েও রান্না করা সম্ভব হচ্ছেনা। প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গিয়েছে।হাওরসহ বিভিন্ন স্থানে গরুছাগল চুরিডাকাতি সহ বিভিন্ন কারণে মানুষ আতঙ্কিত। বন্যা কবলিত এলাকায় টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের খাবার সংক্ট দেখা দেয়ায় মারাত্বক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে ইতিমধ্যেই।