স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অস্বাভাবিক পাহাড়ি ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যায় বিভিন্ন ইউনিয়নে লক্ষাধিক জনসাধারণ পানিবন্দি অবস্থায় দিনযাপন করছে। বন্যার ফলে বিশ্বম্ভরপুর- তাহিরপুর সড়কসহ উপজেলার সর্বত্র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অন্ধকার অবস্থায় সারা উপজেলা ভূতের বাড়ির মত হয়ে রয়েছে। সেই সাথে নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থা বিরাজমান। বন্যায় উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, থানাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গলা পর্যন্ত পানি হয়ে যাওয়ায় জনসাধারণকে দুর্ভোগে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। চারিদিকে বন্যার পানি থৈ থৈ করছে, ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট হাওড়ের ঢেউয়ে ভেঙে যাচ্ছে।
এ পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৫০ টি আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যা কবলিত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারিভাবে ত্রাণ সামগ্রি, খাদ্য সামগ্রি বিতরণ করা হয়েছে। তবে পানি বেশি থাকায় ত্রাণ সামগ্রি বিতরণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সমস্যা থাকলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদিউর রহিম জাদিদ বৃষ্টিতে ভিঁজে নৌকাযোগে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ও বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সরকারি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরকারি সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৬০ মেট্রিক টন চাউল, নগদ দুইলক্ষ টাকা, শুকনো খাবার প্যাকেট, গোখাদ্যের জন্য ২৬ হাজার টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার ফতিপুর ইউনিয়ন, বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন সহ, পলাশ, সলুকাবাদ ইউনিয়নে মারাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এই ইউনিয়নগুলোতে বন্যার পানিতে শাকসবজি, আউশধান পানিতে তলিয়ে বিনষ্ট হচ্ছে। অনেক গ্রামে মানুষ এখনো গরুবাছুর নিয়ে বিপাকে রয়েছে। ফতিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, আমার ইউনিয়ন এর হাজার হাজার মানুষ এখনো পানি বন্দী অবস্থায় রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি ত্রাণসামগ্রী আরও পর্যাপ্ত পরিমাণে দেয়া প্রয়োজন। অনুরূপ কথা বলেছেন বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ছবাব মিয়া।
বর্তমানে যেভাবে পানি বাড়ছে এতে বন্যার অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি হাওড়ে বিশাল ঢেউ রয়েছে। বন্যার পানিতে ও হাওড়ের ঢেউয়ে শতশত ঘরবাড়ি ভাঙছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, বন্যার শুরু থেকেই আমরা আশ্রয়কেন্দ্র, কন্ট্রোলরুম খুলেছি, বন্যার্তদের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং ত্রাণ সামগ্রি বিতরণ করে চলেছি এবং তা অব্যাহত রয়েছে।