স্বপন কুমার বর্মন, বিশ্বম্ভরপুর
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বৃহৎ করচার হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে বোর ধান কাটার ধুম পড়েছে। গত ২ দিনের বৈরী আবহাওয়া এবং করোনা ভাইরাস আতংক থাকা সত্বেও কৃষকরা বসে নেই। শ্রমিক লাগিয়ে হাওরের বোর ধান দ্রুত কাটাছেন। করোনা আতংকে ধান কাটার শ্রমিকরা মাস্ক ব্যবহার করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধান কাটছেন। গত কয়েকদিন পূর্ব থেকে ধান কাটছেন কৃষকরা, বর্তমানে বৃহৎ করচার হাওরে ধান কাটা ধুম পড়েছে। কৃষকরা আশা করছেন আগামী ৪ থেকে ৫দিন মধ্যেই করচার হাওরের ব্রি-২৮ জাত ধান কাটা হয়ে যাবে। বাকি থাকবে ব্রি ২৯ জাত ধান, কারণ ব্রি-২৯ জাত ধান একটু দেরীতে পাকে। অন্যান্য হাওরেরও ব্রি-২৮ জাতের ধান দ্রুত কাটা হচ্ছে।

এ বছর শুরু থেকেই প্রশাসনের উদ্যোগে বালু পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় এবং করোনা ভাইরাস আতংকে অনেকেই কর্মহীন অবস্থায় বাড়িতে থাকায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই বললেই চলে। তবে স্থানীয় কৃষকরা জানান, কায়দা করে শ্রমিকরা ভাগের ধান বেশি নিয়ে যাচ্ছে। কাটা ধানের ৬ ভাগের ১ ভাগ নিয়ে যায় শ্রমিকরা। কোন কোন স্থানে ৫ ভাগের ১ ভাগ নিয়ে যায় শ্রমিকরা। অথবা টাকায় শ্রমিকের রোজ ৬শত টাকা থেকে ৭ শত টাকা। এমতাবস্থায় ধান কাটতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, লাভবান হচ্ছে শ্রমিকরা। এ নিয়ে কৃষক এবং শ্রমিকের মধ্যে দর কষাকষি নিয়ে মাঝে মাঝে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর পরও আবহাওয়া যদি ভালো থাকে তবে সম্পন্ন হাওরের সোনার ফসল ঘরে তুলতে পারবেন বলে কৃষকরা আশা করছেন।

মুক্তিখলা গ্রামের কামরুল ইসলাম জানান, গত দু’দিন আগে জমির কিছু ধান কেটেছি, ফসল খুবই ভালো হয়েছে। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় ধান ঘরে তুলতে পারছি না।
এদিকে গত ২/৩ দিন প্রচন্ড বৃষ্টিপাত হওয়ায় হাওরের পার্শ্ববর্তী নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জমিতেও পানি লেগেছে। ফসল ঘরে উঠা না পর্যন্ত বাধ সু-রক্ষায় পিআইসি সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাশ বলেন, এ বছর হাওরে বাম্পার ফলন হয়েছে। দ্রুত গতিতে হাওরে ধান কাটা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমীর বিশ্বাস বলেন, আবহাওয়া খারাপ থাকা সত্বেও কৃষকরা ধান কাটছেন। শ্রমিক সংকট নেই। ফসল রক্ষা ও বাঁধ সুরক্ষায় আমরা তৎপর রয়েছি। চিন্তার কোন কারণ নেই। যে কোন সমস্যা সমাধান করতে যা যা করনীয় সরকারের পক্ষে প্রশাসন থেকে করা হবে।