- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহা মানব হযরত মোহাম্মদ (স:)

হোসেন তওফিক চৌধুরী
সারা আরব বিশ্ব যখন অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত ছিল, তখন সেই অন্ধকার ভেদ করে সত্য সুন্দরের আলোয় ভর্তি হয়ে আবির্ভাব ঘটে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর। যে সমাজে কন্যা সন্তানকে জীবিত কবর দেয়া হতো, মদ্যপান, ব্যভিচার, জুয়া, গোত্রে গোত্রে           
বিবাদ-সংঘর্ষ, আল্লাহকে ভুলে মূর্তি পূজা, অগ্নিপূজায় লিপ্ত ছিল মানুষ, তখন তিনি সেই পৌত্তলিক যুগে তৌহিদের বাণী নিয়ে আসেন। সম্প্রতি আমেরিকার বিশিষ্ট গবেষক ও মনীষী মাইকেল এইচ. হার্ট একখানি গ্রন্থে বিশ্বে সর্বযুগের সর্বাধিক প্রভাবশালী একশত ব্যক্তিত্বের একটি তালিকা পেশ করেছেন। ‘ইতিহাসের সর্বাধিক প্রভাবশালী ১০০ জন গ্রন্থের’ প্রথমেই হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এটি তার ব্যক্তিগত বিচার, বিশ্লেষণ তবু লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, তিনি হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে সর্বপ্রথম আসন দিয়েছেন। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর চরিত্র ও প্রভাবের বিচারেই এই শ্রেষ্ঠত্বের আসন দিয়েছেন তিনি।
হযরত মোহাম্মদ (সঃ) শুধুমাত্র একটি ধর্ম নয়, একটি ধর্ম, একটি রাষ্ট্র ও একটি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। দুনিয়ায় নতুন ধর্ম বা রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে অনেকেই ছিলেন বা আছেন। কিন্তু একাধারে ধর্ম, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর সমতুল্য কোন দ্বিতীয় ব্যক্তিত্বের সন্ধান ইতিহাসে নেই।
মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আবির্ভাবের আগে বহু নবী রাসুল পৃথিবীতে এসেছেন। তাঁদের কেউ কেউ এসেছেন নির্দিষ্ট কোন জনপদের মানুষদের সত্য পথের দিশা দেবার জন্যে। আবার কেউ কেউ এসেছেন তাঁদের কওমকে সত্য পথের দিশা দেওয়ার জন্য। কিন্তু মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) সমগ্র মানব জাতির জন্য আল্লার রাসুল হিসাবে আর্বিভূত হন। হযরত মোহাম্মদ (সঃ) আর্বিভুত হয়েছেন শান্তির দূত রূপে সমগ্র বিশ্বে মানব জাতির আল্লাহর রসুল হিসাবে আর্বিভূত হন। পবিত্র কোরআনে প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে রহমতুল্লিল আলামীন বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। তেমনি ভাবে তাঁকে খাতেমুন নবীও বলা হয়েছে। তিনি শেষ নবী ও রসুল। নবুওয়াতের দরজা ও ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ হিসাবে তিনি ছিলেন সর্বোৎকৃষ্ট এবং আদর্শ মহাপুরুষ এবং নবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
নবী করিম হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ছিলেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মহা মানব। সর্বকালের সর্ব যুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ মহামানব ছিলেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ)। তিনি মানবজাতির জন্যে এমন একটি জীবন বিধান উপহার দিয়ে গেছেন যার ¯্রােতধারা আবহমান কাল অব্দি যুগোপযোগী ও আধুনিক। মানবতার শাস্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি সাধনে এ বিধানের কোন বিকল্প নেই। তিনি মানুষকে মানুষের মর্যাদা উন্নীত করেছেন। তিনি মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, সমানাধিকার এবং আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি নারী জাতিকে সম্মানের মর্যাদায় অভিসিক্ত করেছেন। তিনি ছিলেন ক্ষমার মূর্ত্ত প্রতীক। জ্ঞান চর্চার জন্য সুদুর চীন দেশে গমনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন ‘জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র’ শিক্ষাক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান এবং নর নারীর জন্য শিক্ষা ফরজ করছেন।
সৃষ্টির শুরু থেকে যুগে যুগে মানুষের হেদায়তের জন্য আল্লাহ অসংখ্য নবী, রাসুল প্রেরণ করেছেন। তিনি ছিলেন সর্বোত্তম। আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের জন্য রসুলের জীবন উত্তম আদর্শ। তাঁর উদারতা, মহানুভতা, ধৈর্য্য-ক্ষমতা, ত্যাগ ও সৌহার্দ্য এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা যুগে যুগে আদর্শ স্থানীয় হয়ে রয়েছে। ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যক্তিত্ব যিনি ধর্মীয় ও বৈষয়িক উভয় ক্ষেত্রেই মহাসাফল্য লাভ করেছেন। পৃথিবীতি বহু নবী, রাসুল এবং মনীষিদের আর্বিভাব হয়েছে। যাঁরা পৃথিবীর লক্ষ্যচ্যুত, পথভ্রষ্ট, মানুষদের সরল, সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য সংগ্রাম করেছেন। যাতে মানুষ তাঁদের বানীর প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ছাড়া এমন কোন মহাপুরুষ বা মনীষী নেই, যার প্রতিটি বাণী সংরক্ষিত ও লিপিবদ্ধ। সে জন্যেই মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জীবনের প্রতিটি দিক দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট। মানুষের ব্যক্তিগত ও সম্মানজনক জীবন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তিনিই হলেন অনুপম ও মহান আদর্শ। তাঁর আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী-চিরঞ্জীব।
লেখক: আইনজীবী-কলামিষ্ট।

  • [১]