স্টাফ রিপোর্টার
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠিন কাজ কঠিনভাবে করেন। আপনারা লক্ষ্য করেছেন একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী অন্যায় করেছিল, দেশের মানুষ প্রতিবাদ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানাভাবে তার সমালোচনা হচ্ছিল। সেইগুলো দেখার সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী তাকে কোন সুযোগ দেন নি। কঠিন অ্যাকশন নিয়েছেন, দেশের মানুষ স্বাক্ষী। মন্ত্রী বলেন, কিছু অ্যাকশন আছে প্রধানমন্ত্রী চাইলেও নিতে পারবেন না। তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে তাকে বাদ দিতে পারবেন না। কারণ তিনি আইন দ্বারা নির্বাচিত সাংসদ, সেখানেও আইন আছে। সেই আইনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অব্যশই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা প্রয়োজনে কঠিনও হতে পারেন, তবে বেশির ভাগ সময় তিনি অত্যন্ত নরম ও কোমল, মায়ের মত, সুতরাং তাকে আমাদের সকলের সহায়তা করা প্রয়োজন, এখনও অনেক সমস্যা আছে যেগুলো সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রয়োজন, আমরা চাই বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে আধুনিক ভাবে তুলে ধরতে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবন্ধীদের পাশে আছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা, শিক্ষার ব্যবস্থা করা, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছে সরকার। যাতে বাবা-মায়ের ব্যথা পুরোপুরি না কমাতে পারলেও, কিছুটা কমে।
মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের বিশাল বাজেটের অংশ ব্যয় হয় এই কল্যাণমুলক কাজে। প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কোটি কোটি টাকা সরকার নানাভাবে ব্যয় করছে। এটাও যথেষ্ট নয়, এখনও আরো লক্ষ লক্ষ প্রতিবন্ধী শিশুর সেবার প্রয়োজন, সুনামগঞ্জ প্রতিবন্ধী স্কুলে ৯০ জন শিশু আছে, এখান থেকে পাঁচ কিলো দূরে যান, কিংবা গ্রামে-গঞ্জে যান দেখবেন শত শত শিশু কষ্ট পাচ্ছে, তাদের পাশে তাদের মা বাবা ছাড়া আর কেউ নেই, আমাদের দায়িত্ব হবে সকল শিশুর প্রতি সমান আচরণ করা, সকল শিশুকে সমান ¯েœহ দেওয়া।
মন্ত্রী বলেন, একসময় আমরা দুর্বল ছিলাম, পরাধীন ছিলাম, এ কারণে আমাদের দারিদ্রতা বেশি। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছিলেন জাতির জনকের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা, মনে রাখতে হবে সকলের প্রতি ন্যায়বিচার করতে হবে, মন্দ লোকের কাছ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে, মনে রাখতে হবে ডাকাতি কিংবা ব্যাংক লুট হক রোজগার নয়, এগুলো আমরা সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারি না।
মন্ত্রী বলেন, পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য আমরা বঙ্গবন্ধুকে সহযোগিতা করেছি, এখন দেশকে পরিবর্তন করার জন্য, রাস্তা ঘাট, মসজিদ, মন্দির বানানো, বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য স্কুল নির্মাণ করার জন্য শেখ হাসিনার মত দেশপ্রেমিক, ইমানদার শক্তিশালী অভিজ্ঞ নেত্রীকে সহযোগিতা করুন।
মন্ত্রী বলেন, ঐক্যের প্রয়োজন আছে, একত্রে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়। ঐক্যের আগে মন পরিস্কার করতে হবে। তিনি বলেন, আমাকে সন্দেহ করা ঠিক হবে না, আমার নিজস্ব কোন এজেন্ডা নেই। তিনি সাম্প্রতিককালের সুনামগঞ্জের নানা উন্নয়ন তুলে ধরে বলেন, সবকিছুই হয়েছে সুনামগঞ্জবাসীর জন্য। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রতিষ্ঠানটি সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে শান্তিগঞ্জের অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে করার প্রস্তাব করেছিলাম। আমি যখন অসুস্থ. মরণাপন্ন, তখন প্রকৌশলী, উকিল, মোক্তার সাহেবরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়ে নালিশ করেছেন। এখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জেলরোড এলাকায় অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের মো. নুরুল হক ভবনের উদ্বোধন শেষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শামীম আল ইয়ামিন (শিক্ষা ও আইসিটি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে একটি পরিত্যক্ত সরকারি ভবনে সুনামগঞ্জ অটিস্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি এই স্কুলের দৃষ্টিনন্দন ভবন করে দিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী জিয়াউল হক। ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে তার বাবা ব্যবসায়ী মো. নুরুল হক’এঁর নামে।