আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের আয়োজন করেছে আমেরিকার জালালাবাদ এসোসিয়েশন। দুই দিনের এই সম্মেলনে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিলেটিদের প্রাণময় উপস্থিতি ঘটবে। বাংলাদেশ, ভারত, ইংল্যান্ড, কানাডা, মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরসহ পৃথিবীর নানা দেশ থেকে বহু সিলেটি এই সম্মেলনে যোগদানের জন্য আমন্তিত হয়েছেন এবং তাঁরাও সম্মেলনে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আশা করা যায়, নিউইয়র্কে আয়োজিত এই বিশ্ব সিলেট সম্মেলনটি আক্ষরিক অর্থেই বিশ্ব সিলেটিদের মিলনমেলায় পরিণত হবে। জানা গেছে এই মিলন মেলায় পেশাগত জীবনে সারা বিশ্বে নাম করেছেন এমন বহু বরেণ্য সিলেটিদের আগমন ঘটবে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একদিকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিলেটিদের মিলন ঘটার পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেটের সুপ্রাচীন সভ্যতা, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও সম্ভাবনাগুলোও বিশ্বপরিসরে উঠে আসবে। সকলের জানা কথা যে, বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল কৃষ্টি ও সভ্যতার দিক দিয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এই অঞ্চলটি বৃটিশ আমলে বৃহত্তর বাংলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। পরবর্তীতে এটি ভারতের আসামভূক্ত করা হয়। পাকিস্তান-ভারত বিভক্তিকালে সিলেটে অঞ্চল আবারও বিভক্তির শিকার হয়ে এক অংশ ভারতে এবং আরেক অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়। দেশভাগের সময় ও পরে বহু সিলেটি এলাকা ত্যাগ করে একটি বড় অংশ ভারতের বিভিন্ন শহরে বসতি গেড়েছেন। বৃটিশ আমল থেকেই সিলেটের বহু ব্যক্তি জীবিকার জন্য ইংল্যান্ড পাড়ি দেন। স্বাধীনতার পর ব্যাপকসংখ্যক সিলেটি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে অভিবাসন করেন। বলা যায়, পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এমন কোন দেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে সিলেটিদের সদম্ভ উপস্থিতি নেই। ইংল্যাড ও আমেরিকায় অর্থনীতি ও রাজনীতির এবং প্রশাসন-বিচার-শিক্ষা অঙ্গনে অনেক সিলেটি সম্মানজনক অবস্থানে অধিষ্ঠিত আছেন। অতিসাম্প্রতিক কালে সিলেটের আখলাকুর রহমান চৌধুরী ব্রিটেনের হাইকোর্টের বিচারপতি হিসাবে শপথ নিয়েছেন। সিলেটি নারী রুশনারা আলী লেবার দলীয় প্রভাবশালী সংসদ সদস্য হিসেবে ইতোমধ্যে সেখানকার মূলধারার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। সিলেটের আরেক কৃতী সন্তান কালিপ্রদীপ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ধনী ব্যক্তিরূপে পরিচিতি পেয়েছেন। জালালাবাদ এসোসিয়েশন, আমেরিকাকে যেসব কৃতী সিলেটি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের সকলেই নিজ নিজ পেশায় সমুজ্জ্বল। এঁরা আমাদের অহংকার। এইসব জ্ঞানী-গুণী-বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আগমন ঘটবে নিউইয়র্কে সিলেট সম্মেলনে। যারা বাংলাদেশ ও ভারত থেকে যাবেন তাদের সাথে মিলন ঘটবে সারা বিশ্ব থেকে আসা সিলেটিদের। আমরা কামনা করি প্রাণের এই মেলা সর্বতোভাবে সফল ও সুন্দরভাবে সুসসম্পন্ন হোক।
সিলেট অঞ্চলে প্রবাসী সিলেটিদের বিনিয়োগের প্রচুর ক্ষেত্র রয়েছে। প্রবাসি সিলেটিরা যদি নিজ এলাকায় বিনিয়োগ করেন তাহলে এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের যে সমৃদ্ধি ঘটবে তা সিলেট অঞ্চলের মানুষের দারিদ্রতা ঘুচাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিকে পুষ্ট করতে পারে। প্রবাসি সিলেটিদের আরেকটি জিনিস মনে রাখতে হবে, কোন ভাবেই দেশের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। আজ যখন বিভিন্ন দেশে সিলেটিদের দ্বিতীয়-তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে, তারা নিজ দেশ সম্পর্কে অনেকটা উদাসীন বলেই আমাদের কাছে মনে হয়। এই উদাসীনতা কাটিয়ে উঠার জন্য নেতৃস্থানীয় সিলেটিদের রাখতে হবে ঐতিহাসিক ভূমিকা। আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন শেষ পর্যন্ত আমরা বাঙালি, আমরা সিলেটি। এই আত্মপরিচয়ের উদ্বোধন ঘটুক আসন্ন সিলেট সম্মেলনে, এটুকুই আমাদের চাওয়া।