- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগে প্রাধান্য দিতে হবে

মানসম্পন্ন দক্ষ শিক্ষকের অভাব ক্রমে প্রকট আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশে। গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি থেকে শুরু করে অনেক বিষয়ে পাঠদানের মতো দক্ষ শিক্ষকের অভাব রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীর ভিত্তি দুর্বল থেকে যাওয়ায় উচ্চশিক্ষায় তার প্রভাব পড়ছে। জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে গণিত বিষয়ে পাঠদানে নিয়োজিত শিক্ষকদের ৮৫ শতাংশেরই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ কোনো দক্ষতা নেই। এদের বড় অংশেরই গণিত বিষয়ে পড়াশোনা উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত। বাকিরা ডিগ্রি পর্যায়ে গণিত পড়লেও তা ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পড়েছেন। শিক্ষকতা শুরুর পর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও নেই অনেকের। ফলে দক্ষ শিক্ষকের অভাবে গণিতে শিক্ষার্থীদের ভালো ভিত গড়ে উঠছে না। একই কথা ইংরেজি ও বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অথচ এসব বিষয়ে শক্ত ভিত গড়ে না উঠলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত্ অগ্রগতি ব্যাহত হবে।
দেশে মানসম্পন্ন যে কয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত শতক পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল, এখন সে অভিধা ধরে রাখা যায়নি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বেড়েছে। তবে মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়েনি। শিক্ষার প্রাণ প্রথমত শিক্ষক, তারপর শিক্ষার্থী। যেকোনো শিক্ষার্থীরই মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রাপ্তি অনেকাংশে নির্ভর করে শিক্ষকের যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর। দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করা না গেলে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থীও তৈরি হবে না, যার প্রভাব পড়ে পরীক্ষার ফলে। মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নতুন দুনিয়ায় প্রবেশ করে। জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বোঝাপড়ার পর্ব অনেকটাই সম্পন্ন হয় মাধ্যমিক স্তরে। এ স্তরে মানসম্পন্ন শিক্ষা না পেলে তার ঘাটতি সারা জীবনই টানতে হয়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ স্তরে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে প্রায় ৩০ শতাংশই অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক দিয়ে। এটা উদ্বেগের বিষয়।
উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ভিত্তি তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে ধরা হয় মাধ্যমিক শিক্ষাকে। এখানেই একজন শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক প্রাথমিক জ্ঞান তৈরি হয়। ফলে এখানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক দেয়া জরুরি। কোন শিক্ষক কোন বিষয়ে পাঠদান করবেন, সাধারণত তা নির্ধারণ করে দেন প্রধান শিক্ষক। এক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদারকি ও নিয়ম প্রণয়নের মাধ্যমে এর মান বজায় রাখতে উদ্যোগী হতে পারে। গণিতের ডিগ্রিধারীদের গণিতের পাঠদান, ইংরেজি ডিগ্রিধারীদের ইংরেজির পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পাঠদান দক্ষতাও বাড়িয়ে তুলতে হবে নিয়মিত বিরতিতে। প্রত্যাশা থাকবে, শিক্ষক নিয়োগের নিয়মাবলি নির্দিষ্টপূর্বক দ্রুতই গাইডলাইন প্রণয়ন করবে সরকার। এটি বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারিও রাখবে।
দেশের অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয় বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ায় আর্থিক সংকটের কারণে পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে না। এক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব শিক্ষকের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত সরকারেরই। মাধ্যমিক শিক্ষায় ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। আবার শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারায় মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হারও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। ঝরে পড়ার হার সবচেয়ে বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ে। বিদ্যমান এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মান আরো বাড়ানো উচিত। বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। শিক্ষকদের প্রযুক্তিবান্ধব হিসেবে প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। নীতিনির্ধারকদের প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার শতভাগ মান নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয় পরিচালনায় দায়সারা গোছের কমিটি নয়, সমাজের সক্রিয় ব্যক্তিদের এতে সম্পৃক্ত করতে হবে। নিয়মিত তদারকি ও সভার মাধ্যমে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে গতিশীল করে তুলতে হবে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি, অভিভাবক কমিটি, ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী কমিটি ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

  • [১]