গত তিন ধরে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ৩৬তম বিসিএসে চূড়ান্তভাবে মনোনীত জেলার তরুণ-তরুণীদের পরিচয়সহ প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। ৩৫তম বিসিএসের ক্ষেত্রেও পত্রিকাটি একইরকমভাবে উত্তীর্ণদের বিবরণসহ পরিচয় প্রকাশ করেছে। এবার ৩৬তম বিসিএসে শুক্রবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে ১৫ জনের মনোনীত হওয়ার খবর মিলেছে। বাস্তবে হয়ত এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। অনেকের খবর পত্রিকা অফিস পর্যন্ত না পৌঁছায় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করা যায় নি। বিসিএস হলো সরকারি চাকুরির প্রধান ও কুলীন জায়গা। শিক্ষার্থীদের আজন্ম ইচ্ছা থাকে শিক্ষা জীবন শেষে বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে একটি ভাল ক্যাডারে চাকুরি করবেন। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে যারা চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়ে ক্যাডার সার্ভিসে যোগদান করেন তাদেরকে ভাগ্যবান বলা হয়ে থাকে। এই ভাগ্যবানদের মধ্যে শিক্ষায় জাতীয় হারের চাইতে পিছিয়ে থাকা সুনামগঞ্জের যেসব মেধাবীরা সুযোগ পেয়েছেন তাঁদেরকে আমরা অভিনন্দন জানাই। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ভ্যারিফিকেশন ইত্যাদি প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁরা অচিরেই নিজ নিজ ক্যাডারে যোগদান করবেন, এই আমাদের প্রত্যাশা। চাকুরি জীবন শুরুর এই শুভলগ্নে আমরা তাঁদের কর্মজীবনের সফলতা কামনা করি।
ক্যাডার কিংবা নন-ক্যাডার অথবা কর্পোরেট বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আমাদের তরুণ-তরুণীরা যেখানেই কর্মজীবন শুরু করুন না কেন, মনে রাখতে হবে সব জায়গায়ই নিজেদের জনসেবায় সম্পৃক্ত করাটা হলো মূল স্বার্থকতার জায়গা। এখন আর ব্রিটিশ ধ্যান-ধারণা মোতাবেক প্রশাসনকে শাসনের প্রতিভূ রূপে বিবেচনা করা হয় না। ‘জনসেবার জন্য প্রশাসন’ এই আপ্তবাক্যকে ধারণ করা হয়েছে এখন সরকারিভাবে। যদিও আমাদের চাকুরিজীবীদের একটি অংশের অহমে এখনও শাসকসুলভ মনোবৃত্তি কার্যকর রয়েছে, আমরা জাতীয়ভাবে ওই অহমের জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি এখন। আমাদের যেসব তরুণ বন্ধুরা ৩৬তম বিসিএসে মনোনীত হয়ে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করছেন তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে- আপনারা নিজেদেরকে অবশ্যই জনগণের সেবকের জায়গায় অধিষ্টিত করার বিষয়টি রপ্ত করবেন। মনে রাখা দরকার সরকারি বিভিন্ন পদে চাকুরিরতদের বেতন-ভাতার বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগানদাতা এই দেশের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ করদাতা সাধারণ নাগরিক সম্প্রদায়। শুধু এই করদাতাদের বেতন-ভাতা জোগানের বিষয়টিই নয়, এখানে বিবেচনাযোগ্য যে, আমাদের মহান পূর্বপুরুষরা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই দেশ স্বাধীন করে কিছু আদর্শ রেখে গেছেন। আমাদেরকে এইসব মহান আদর্শের স্বার্থক উত্তরাধিকারীতে পরিণত করতে হবে। বিসিএস উত্তীর্ণরা দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী হিসেবে এই দায় বোধ মেটানোর তাগিদ তাঁদেরই বেশি। এই জায়গায় নিজ নিজ উজ্জ্বল ভূমিকা রাখাটা তাঁদের অভিপ্রায় হওয়া উচিৎ। বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখতে পাই, সরকারি দায়িত্বশীল পদে যোগদান করে অনেকেই জনস্বার্থ সংরক্ষণ তথা জনসেবার মনোবৃত্তি ত্যাগ করে অবাধ দুর্নীতির ¯্রােতে গা ভাসিয়ে দেন। এরা জনসম্পদের রক্ষকের বদলে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। দেশের সেরা মেধাবীদের এমন চেহারা দেখে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের সমুদ্র বয়। আমরা কষ্টে হতাশায় ভেসে যাই। প্রশাসনের এমন গণবিরোধী চরিত্র মোচনের দায় নতুনদের উপর এসে বর্তায়। আজ যারা নবীন ক্যাডার হিসাবে চাকুরি জীবন শুরু করছেন তাঁরা যাতে আমাদের হৃদয়ে আলোকোজ্জ্বল চেহারায় অধিষ্টিত হতে পারেন সেই চেষ্টাটাই চাই আমরা তাঁদের কাছে।
বিসিএস উত্তীর্ণ আমাদের সোনার ছেলেদের আবারও অভিনন্দন।