- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বীর নিবাস নির্মাণ প্রকল্প, কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না নিম্নমানের কাজ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
নিম্নমানের উপকরণ দিয়েই চলছে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের মুদাহরপুর গ্রামে দুই অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণের কাজ। সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে কাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ না করার জন্য আহ্বান জানালেও শ্রমিকেরা তা না করে নিম্নমাণের উপকরণ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বাধা দিলে শ্রমিকেরা উল্টো মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ করছে। এদিকে এ কাজের সাব ঠিকা নেওয়া দাবিদার চুন্নু নামের এক ব্যক্তির আসকারা পেয়ে শ্রমিকেরা নিজেদের খেয়াল খুশিমতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানালে তিনি ওই দুটি বীর নিবাসের কাজ সরেজমিন পরিদর্শন করে নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে কাজ করার সত্যতা পান। পরে তিনি নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে মানসম্পন্ন উপকরণ দিয়ে কাজ করার জন্য চুন্নুকে নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়েছেন চুন্নু। ওইদিন ইউএনও চলে আসার পর আবারও নিম্নামানের উপকরণ দিয়েই মুদাহরপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত গোলাম ওমর ফারুকের স্ত্রী নাছিমা বেগম ও একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত লাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. আমিনার নামে বরাদ্দকৃত বীর নিবাস নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ওমর ফারুকের ছেলে মো. হাবিব বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সাথে যোগাযোগ করেন। তাঁদের পরামর্শে হাবিব বিষয়টি আবারও ইউএনওকে জানালে ইউএনও সোমবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের নিয়ে ওই দুটি বীর নিবাস আবারও সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং নিম্নমানের ইট, বালু ও সুরকি ব্যবহার করে যাচ্ছেতাই কাজ করার সত্যতা পান। নাছিমা বেগমের ঘর নির্মাণে যে সমস্ত ত্রুটি রয়েছে তা ভেঙে পুণরায় নির্মাণ এবং মোছা. আমিনার ঘর মানসম্পন্ন উপকরণ দিয়ে করার জন্য চুন্নুকে নির্দেশ দেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ১ কোটি ২০ লাখ ৫৫৯ টাকা ব্যয়ে ৯টি বীর নিবাস নির্মাণের কাজ চলছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সবক’টি বীর নিবাস নির্মাণের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলও কাজ শেষ করতে পারেনি কাগজপত্রে থাকা এ কাজের ঠিকাদার ধর্মপাশার মেসার্স জব্বার বিল্ডার্সের সত্বাধীকারী মঞ্জুরুল হক সুজন। সুজন জানিয়েছেন, এ কাজ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রোকন তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে চেয়ে নিয়েছেন। আর এ কথা স্বীকার করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। কিন্তু চুন্নু কীভাবে কাজ করাচ্ছেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে চুন্নু দাবি করেছেন, সুজন ঠিকাদার হলেও অফিসিয়াল প্রসেস মেইনটেইন করে তিনি এ কাজ পেয়েছেন। আর সুজন তার ব্যবসায়ীক অংশীদার। আবার চুন্নুর এমন কথা অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মঞ্জুরুল হক সুজন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি চুন্নুকে চিনেন না। আর কাজেও নিযুক্ত করেননি।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়ার স্ত্রী মোছা. আমিনা বলেন, ‘শ্রমিকেরা আমরার কথা শুনেনা। ইউএনও সাহেবের নির্দেশ মোতাবেক কাজ হয়নি। মোটা বালুর কথা বললে আজকাল আসবে বলে সময় পার করেছে আর আগের ইট—বালু (যা নিয়ে অভিযোগ) দিয়েই এতোদিন কাজ করেছে।’
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম ওমর ফারুকের ছেলে মো. হাবিব বলেন, ‘কাজে অনিয়ম হওয়ায় বিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানাই। তিনি এসে নিম্নমানের সামগ্রী পরিবর্তনের জন্য বলে গেলেও তিনি চলে গেলে আবার দুই নম্বর ইট ও বালু দিয়ে কাজ করা হয়।’
ধর্মপাশা সদরের এক মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কায়েস আহম্মদ খান বলেন, ‘বীর নিবাস নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু, সুরকিসহ অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রইং অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না। আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানরা কাজগুলো সরেজমিন দেখেছি। কার্যাদেশ অনুযায়ী মানসম্পন্ন উপকরণ দিয়ে কাজ করার জন্য দাবি জানাই।’
এদিকে চুন্নুকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস জোর গলায় ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে বলেন, ‘অফিসিয়াল ডকুমেন্ট অনুযায়ী যে ঠিকাদার কাজ পেয়েছে সেই ঠিকাদারই কাজ করাচ্ছে।’
নিম্মমানের উপকরণ দিয়ে কাজ হওয়ার সত্যতা রয়েছে স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিকে নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে মানসম্পন্ন উপকরণ দিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারকে শোকজ করা হবে। যদি পরবতীর্তে এ ধরণের অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • [১]