লন্ডন প্রতিনিধি
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আসার পর বৃটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটিতে উগ্রপন্থী তৎপরতা বেড়েছে, বিশেষ করে ২০১০ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠনের পর এই তৎপরতা ব্যাপকতা লাভ করে। লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘উগ্রপন্থী সন্ত্রাস থেকে মুক্তমনাদের সুরক্ষা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন লন্ডন থেকে একটি মহল ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে বৃটেনের নবপ্রজন্মের বাংলাদেশী তরুণ তরুণীদের
বিভ্রান্ত করছে অন্যদিকে বাংলাদেশের উগ্রবাদীদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে চিহ্নিত এই গোষ্ঠী। ইসলামের অপব্যাখ্যার কারণে বিশেষ করে বৃটেনের বাংলাদেশী কমিউনিটি উগ্রবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, যুক্তরাজ্য শাখা ও স্বাধীনতা ট্রাষ্ট ইউকে‘র যৌথ আয়োজনে নেটওয়ার্ক ফর সোসিয়েল চেঞ্জের সহযোগিতায় ‘বছরব্যাপী রজত জয়ন্তী’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ২৫ এপ্রিল ইষ্টলন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে ট্রাষ্টের প্রেসিডেন্ট জুলি বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারের অতিথি আলোচক লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস এন্ড পলিটিক্যাল সাইন্সের (এলএসই) অধ্যাপক চেটান বাট বাংলাদেশী কমিউনিটিতে উগ্রপন্থার প্রভাব বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তার বক্তব্যে।
‘ইসলামের নামে সন্ত্রাস: ব্লগার, সেক্যুলার এক্টিভিষ্ট ও মুক্তমনাদের উপর এর প্রভাব’ শীর্ষক স্বাধীনতা ট্রাষ্ট পরিচালিত এক গবেষণা রিপোর্ট পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধ্যাপক চেটেন বাট।
সেমিনারে অতিথি আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিষ্ট এন্ড এথিক্যাল ইউনিয়নের বব চার্চিল ও মনিটরিং প্রজেক্টের সুরেশ গ্রোভার। যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া সেমিনারের শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন, যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির সহ সভাপতি ইসহাক কাজল, গণজাগরণ মঞ্চের অজন্তা দেব রায়, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাহমুদ এ রউফ, ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার, সৈয়দা নাজনিন সুলতানা শিখা, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, সলিসিটর পিয়া মায়নিন, যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পুষ্পিতা গুপ্ত ও সালিম মাহমুদ প্রমুখ।
সেমিনারে সাউথ এশিয়ায় ইসলামের নামে সন্ত্রাস বিষয়ে বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যানিষ্ট এন্ড এথিক্যাল ইউনিয়নের বব চার্চিল। মনিটরিং প্রজেক্টের সুরেশ গ্রোভার মৌলবাদী ধর্মীয় সন্ত্রাস মোকাবিলায় তাদের সংগঠন কি সহযোগিতা করতে পারে, তার উপর আলোকপাত করেন তার বক্তব্যে।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য গণজাগরণ মঞ্চের তৈরী একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। উগ্রপন্থিদের টার্গেট ঝুঁকিতে রয়েছেন, এমন ব্লগার ও মুক্তমনাদের সাহায্যে ডাইরেক্টরী প্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয় সেমিনারে।