আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
পৌষের বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে জগন্নাথপুরের কৃষকদের মধ্যে। বোরো আবাদের উপযুক্ত সময় এখন। কিন্তু হাওর থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় চাষাবাদের জন্য সেচের পানি সংকট চলছিল।
সোমবার সকালে ভারি বৃষ্টি হওয়াতে কৃষকের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়। তবে হাওরে এখনো বাঁধের কাজ শুরু না হওয়াতে শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
হাওরপারের কৃষকরা জানান, এবার হাওর থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওযায় বোরো হালচাষে পানি সংকট দেখা দেয়। আবাদের শুরুতেই শঙ্কিত হয়ে পড়েন কৃষকরা। গতকাল ভারি বৃষ্টি হওয়াতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কারণ এখন পুরোদমে হাওরে চাষাবাদ শুরু হওয়ার উপযুক্ত সময়। এরমধ্যেই হাওরের নিচু এলাকায় বোরো চারা রোপন চলছি।
নলুয়া হাওরের কৃষক সুলতান মিয়া জানান, চলতি বোরো মৌসুমের শুরুতেই হাওর পানি সংকট চলছিল। হঠাৎ করেই পৌষের শুরুতেই বৃষ্টি হওয়াতে এখন কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। তিনি জানান, অনেকেই ক্ষেতে সেচের জন্য পানি সংগ্রহে দুঃশ্চিতায় ছিলেন। বৃষ্টি দেখা পেয়ে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে হাওরে এখনো বেড়িবাঁধের কাজ শুরু না হওয়াতে দুশ্চিতায় আছি।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম জানান, পাউবোর নীতিমালা অনুয়ায়ি ১৫ ডিসেম্বর থেকে হাওরের ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। হাওরে একটি বাঁধের কাজ উদ্বোধন করার ১১ দিন অতিবাহিত হলেও হাওরের কোথাও কোন প্রকল্পে কাজ শুরু হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছর ২৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে জগন্নাথপুরে ১৫ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ করা হয়। এবার বন্যায় ফসলরক্ষা বাঁধের ক্ষতি হওয়ায় কমপক্ষে ৫০ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে৭৫ কিলোমিটার বাঁধের কাজের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। গত ১৫ ডিসেম্ব নলুয়া হাওরের পোল্ডার ১ এর আওতাধীন দাসনাগাঁও এলাকায় ৪ নম্বর প্রকল্পের বেড়িবাঁধের আনুষ্ঠানিকভাবে কাজের উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে ৪ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি রনধীর কান্ত দাস নান্টু বলেন, হাওরের এখনো মাটি শুকায়নি। কাঁচা মাটি থাকায় মাটি কাটার গাড়ি প্রকল্প এলাকায় নামানো যাচ্ছে না। এজন্য কাজ বন্ধ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, এবার ৫০টি পিআইসির মাধ্যমে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে জগন্নাথপুরে ৭৫ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বাস্তরায়ন করা হবে। এরমধ্যেই ৩৮টি প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়া গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান, হাওরের যে সব এলাকার পানি সংকট করেছে সেসব স্থানে আমরা পাম্পের ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বোরো আবাদের সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়াতে ফসলের জন্য খুবই উপকারি।
তিনি জানান, জগন্নাথপুরে এবার ২১ হাজার হেক্টর বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।