- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বৃষ্টিতে জনজীবন স্থবির, কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শ্রমজীবী মানুষ। গত তিনদিন ধরে সুনামগঞ্জে বিরামহীন বৃষ্টিপাতের ফলে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষজন। কাজ না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিনপার করছেন। সোমবার সকালে শহরের কালিবাড়ি এলাকায় দোজা শপিং কমপ্লেক্স ও জনতা ফার্মেসির সামনে অর্ধশতাধিক শ্রমজীবী মানুষের দেখা মেলে। বৃষ্টি বাদলের কারণে কাজ না পেয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তারা। বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছিলেন কাজের আশায়। কিন্তু কাজ পাননি তারা।
সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের দিনমজুর মিলন মিয়া। তার মা বাবা বৃদ্ধ। ভাই বোন সহ ৬ জনের ভরণপোষণের খরচ তাকেই জোগাড় করতে হয়। প্রতিদিন চারশ থেকে পাঁচশ টাকা রোজগার করেন তিনি। তা দিয়েই সংসারের ভরণপোষণের খরচ বহন করেন। তিন দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় কাজ নেই। ফলে মিলন মিয়া তার পরিবার নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন পার করছেন।
মিলন মিয়া বললেন, রোজ চারশ টাকা রোজগার করতে পারি। নিয়মিত কাজ পেলে সংসার চলত ভাল করেই। কিন্তু তিন দিন ধরে বৃষ্টির কারণে কাজ নেই। পরিবার নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি।
শহরের বড়পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. কাদির মিয়া বলেন, ৮ সদস্যের পরিবারে আমি ও আমার মা দিন মজুরের কাজ করি। আমরা একদিন কাজ পাইলে সাতদিন পাইনা। বৃষ্টি বাদলের লাগি কামকাজ বন্ধ। চারশ টাকা রোজে কাজ করি। আমরার লেভারের কোনো রোজও বাড়েনা। তেল, চাউল এখন প্রচুর দাম অইছে। প্রতিদিন সকালে কাজের আশায় কালিবাড়ি রাস্তায় দোকানের সামনে দাঁড়াইয়া থাকি। এখন বৃষ্টি অইতাছে কামও পাইছিনা। বাড়ি ফিইরা যাইতো অইব। এতজন সদস্য খাইতাম কেমনে? চলতাম কেমনে?
এরকম প্রশ্ন শুধু কাদিরের নয়, এই পয়েন্টে অর্ধশতাধিক নি¤œ আয়ের দিনমজুর মানুষের এই জিজ্ঞাসা। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত বাড়ি বের হওয়া আটকাতা না পারলেও কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের। এতে না খেয়ে থাকতে হবে জানায় তারা।
শহরের দোপাখালি এলাকার নারী দিনমজুর শ্রমিক জহুরা বেগম বললেন, বৃষ্টির লাগি কামকাজ নাই। আমরা কিতা করমু, বাড়িতে খালি হাতে ফিইরা যাইতো অইব। ঘরে বাচ্চাকাচ্চা তাদের খাওন কিভাবে দিবো।
হাসননগর এলাকার দিন মজুর শহীদুল ইসলাম বলেন, মেঘের লাগি আজকে তিন দিন ধইরা কাম কাজ পাইনা। ৫ জন সদস্য আমার পরিবারে। তারারে লইয়া কষ্টে আছি। ধারকর্য করে বউ রান্না করেছে, সকালে ভাত খেয়ে বৃষ্টিতে বিজে বের হইছি। আজকেও কাম নাই।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় চার পৌরসভাকে ২৫ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সোমবার পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের মাঝে এই সহায়তা দেয়া হয়। সহায়তার মধ্যে সুনামগঞ্জ পৌরসভাকে ৭.৫ মে.টন, ছাতক পৌরসভা ৭.৫ মে.টন, জগন্নাথপুর পৌরসভা ৫ মে.টন ও দিরাই পৌরসভাকে ৫ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বললেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সুনামগঞ্জের নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য আমরা আগাম প্রস্তুতি হিসেবে চার পৌরসভাকে ২৫ মে.টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অসহায় মানুষদের মাঝে এই সহায়তা বিতরণ করা হবে।

  • [১]