পুলক রাজ
পৌর শহরের কাজির পয়েন্ট ও বিলপাড় এলাকায় বৃষ্টি দিলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশে বের হওয়া লোকজনকে পড়তে হয় সীমাহীন ভোগান্তিতে। বৃষ্টি হলেই পানিবন্দি থাকেন এসব এলাকার মানুষ।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, গত বছরের মতো এবছরও বৃষ্টিপাত হলেই জলাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। পৌর শহরের বিলপাড়, কাজির পয়েন্ট, ষোলঘর, নতুনপাড়া, হাজিপাড়া, নবীনগরসহ এসব এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এসব এলাকা থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। কোনো কোনো বাসা-বাড়িতে উঠেছে পানি।
বিলপাড় বাসিন্দা রুহেল আহমদ বলেন, বিলপাড় এলাকার একটা সড়ক সবসময় পানিবন্দি থাকে। হালকা বৃষ্টি দিলে পুরো বিলপাড় এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে আমরা সাধারণ মানুষ মহাবিপদে পড়ি। তিনি বলেন, বিলপাড়ের পিছনে একটা অনেক বড় বিল ছিলো। এখন সেই বিল ছোট হয়ে গেছে মানুষের বাসাবাড়ি তৈরি করার জন্য। আগে এলাকার পানি বিল হয়ে দেখার হাওরে গিয়ে পড়তো। কিন্তু এসব এলাকায় ঘরবাড়ি উঠায় ও খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় নাকাল হতে হচ্ছে।
বিলপাড় বাসিন্দা আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর শোনা যায় শীতের মৌসুমেই বর্ষার মৌসুমের জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি নিষ্কাশনের কাজ করানো হবে। শুধু বলেই আসছেন পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা। কাজের বেলায় পাওয়া যায় না তাদেরকে।
ফয়জুর রহমান বলেন, সকাল হতেই কাজির পয়েন্ট হয়ে বাজারে আসতে হয়। কিন্তু হাঁটু পানি দেখে তো চোখ কপালে উঠে গেছে। প্রথমে ভেবেছি বন্যা হয়ে গেছে। কাজির পয়েন্ট পার হয়ে আর পানি নেই। প্রতিবছরের মতো এ বছরও একই সমস্যা জলাবদ্ধতা। পৌরসভার পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা নেই। একটু চেষ্টা করলেই জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব।

নবীনগর বাসিন্দা ফরিদ হোসেন বলেন, নবীনগর হয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। সড়কের তো বেহাল দশা দীর্ঘ বছর যাবত, এর মধ্যে একটু বৃষ্টি দিলেই ওই এলাকায় জলাবদ্ধতায় মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ফলে প্রতিনিয়তো দুর্ঘটনা ঘটতে থাকে।
তিনি বলেন, শহরের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। ড্রেনের ভেতরে ময়লা- আবর্জনা থাকায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয় না। বৃষ্টিতে ড্রেনের ময়লা পানি সড়কে উঠে যায়। এসব মাড়িয়েই আমাদের পথ চলতে হয়।
২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ ইয়াছিনুর রশিদ বলেন, বিলপাড়ে জলাবদ্ধতা হওয়ার কথা না। ড্রেন সড়ক সব করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও একটু বৃষ্টি দিলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। কারণ কাজির পয়েন্ট ড্রেনের মুখে কিছু দোকানদার ময়লা-অবর্জনা ফেলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে রেখেছেন।
তিনি বলেন, মতিন মিয়া নামের একজন বালু, পাথর রেখেছেন পানি যাওয়ার রাস্তায়। ওয়াবদায় একজন মুক্তিযোদ্ধা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছেন। বিলপার মসজিদের এখানে ৮০ হাজার টাকা খরচ করে পানির নিষ্কাশনের ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে পৌরসভা থেকে। কিন্তু পাইপের সামনেও এলাকার কিছু মানুষ পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা বন্ধ করে রেখেছেন। আমরা যারা জনপ্রতিনিধি রয়েছি খুব চেষ্টা করে যাচ্ছি এলাকা সুন্দর করে রাখার জন্য। এলাকার মানুষ যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে আমরা কি করতে পারি।

১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাওসার বলেন, নবীনগর এলাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে। আমার খারাপ লাগছে, এখানে ড্রেনের ব্যবস্থা করা হবে। কাজটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা করবো।
