বিএনপি চেয়ারপার্সন ১৫ আগস্ট তাঁর কথিত জন্মদিনে কেক কাটার কর্মসূচী বাদ দিয়ে বিজ্ঞজনোচিত কাজ করেছেন। দলের মহাসচিব গণমাধ্যমকে বলেছেন, বন্যা ও সাম্প্রতিক দেশীয় প্রেক্ষাপটে বেগম জিয়া কেক কাটার মতো আড়ম্ভরপূর্ণ কর্মসূচী থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত সপরিবারে বঙ্গবন্ধ নিহত হওয়ার দিনে বেগম জিয়ার মহাসমারোহে জন্মদিন পালনের বিষয়টি অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছিলো। এবার আওয়ামী লীগের কিছু অঙ্গ সংগঠন ঘোষণা দিয়েছিল কেক কাটা হলে সেটি প্রতিহত করার। যা হোক শেষ পর্যন্ত বেগম জিয়া কেক কাটা কর্মসূচী পরিহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছেন। অনেকে বলে থাকেন, রাজনৈতিকভাবে বিএনপি কোণঠাসা অবস্থায় থাকার কারণে এবার এমন কর্মসূচী পালন করা থেকে পিছিয়ে এসেছে দলটি। পেছনে ঘটনা যাই থাকুক না কেন আমরা ঘাড় ফিরিয়ে পিছনে তাকাতে চাই না। চোখের সামনে যেটি ঘটেছে সেটি দেখতে চাই। আমরা মনে করি অনুদার ও অসহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবেশের মধ্যে এটি ইতিবাচক। এর আগে বিএনপি যেমন জঙ্গি প্রতিরোধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে প্রশংসিত হয়েছিল এবারও তেমনি জন্মদিনের বিলাসিতা ত্যাগের মাধ্যমে আরেকবার তিনি প্রশংসিত হলেন। আমরা সুস্থ ধারায় বিএনপির এমন প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাই এবং এর স্থায়িত্ব কামনা করি।
বিএনপির নমনীয় আচরণের সাথে আওয়ামী লীগের তুলনা করলে স্পষ্টত ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূল নেতৃত্ব পর্যায়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অহমিকা চোখে পড়ে। এই সুনামগঞ্জে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন নয় ভাগে বিভক্ত হয়ে পালন করেছে। জেলা সদরে কিছু অনভিপ্রেত বক্তব্য সর্বস্তরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে। ধর্মপাশায় এক নেতা শোক দিবসের ব্যানার ছিড়ে ফেলেছেন। এইসব আচরণ জাতীয় শোকদিবসের আবহ ও ভাবগাম্ভির্যের সাথে মানানসই নয়। মনে হয়েছে যাবতীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজনের উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তাঁর মহান আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার জন্য নয় বরং সবগুলো আয়োজন ছিলো নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের। জনগণ নিরবে সবকিছু অবলোকন করে হতাশ হয়েছেন। এই জনগণ যখন রাজনৈতিক দলের কর্মকা-ে বিরক্ত হয়ে যান তখন দলের দাঁড়াবার জায়গা থাকে কোথায়? আজ বিএনপি ও দলের প্রধান জাতীয় রাজনীতিতে, হোক তা কৌশলগত, যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, আওয়ামী লীগও যদি একই ধরনের সংযম বজায় রাখতো তাহলে আমরা নিশ্চিত দেশের অগ্রগতির অনেক বাধা দূরিভূত হয়ে যেতো। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংযম ও আদর্শনিষ্ঠা দেশকে দ্রুত সামনে এগিয়ে নেয়। এর বিপরীত অবস্থান দেশকে পিছিয়ে রাখে, নতুবা অগ্রগতির কাক্সিক্ষত গতিকে রুদ্ধ করে রাখে। আমরা সর্বাবস্থায় রাজনীতির সুস্থতা ও পারস্পরিক সহাবস্থানের নীতিতে বিশ্বাস করি। এই বিশ্বাস দ্বারা তাড়িত হয়েই সকলের প্রতি সুস্থ রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানাই।
দেশ আজ যে সংকটকাল অতিক্রম করছে, আমাদের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মহোদয় যাকে মৃদু কাঁপুনির সাথে তুলনা করেছেন, তা মোকাবিলায় দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আজ ঐক্য এবং ন্যুনতম কর্মসূচীর ভিত্তিতে সমঝোতার ভীষণ প্রয়োজন। অনৈক্য ও মুখোমুখি অবস্থান আঁধারের শক্তিকে উৎসাহিত করে। পৃথক পৃথক ভাবে সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলেই জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরি হয়েছে। সকলেই ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফরমে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন। এরকম অবস্থায় যদি সকলকে একই প্লাটফরমে আনা যেত তাহলে যে সুদৃঢ় সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি হতো তা ভেদ করা কোন অপশক্তির পক্ষে সম্ভব হত না। এই অটুট সুরক্ষাবেষ্টনী তৈরিতে বেগম জিয়ার জন্মদিন পালনের জৌলুসতা পরিহার নিশ্চিতভাবেই শক্তি জুগাবে। আমরা এমনতর উপলব্ধির জয়যাত্রা কামনা করি।