- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বেরীগাঁও-মুছরা বাইপাস সড়কে ভোগান্তি চরমে

আকরাম উদ্দিন
সদর উপজেলার সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বেরীগাঁও-কৃষ্ণনগর-মীরেরচর-মুছরা ত্রিমুখি পর্যন্ত ভেঙে যাওয়া বাইপাস সড়কে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়ক দ্রুত মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, এই বাইপাস সড়কের পাশে রয়েছে সুরমা ইউনিয়নের বেরীগাঁও, নলুয়া, বানীপুর, কৃষ্ণনগর, কোনাগাঁও, ঢালাগাঁও, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মীরেরচর গ্রাম ও মুছরা পয়েন্ট। সড়কের দীর্ঘ ১০ বছর আগে মেরামত কাজ হয়েছিল। পিকআপ ও ট্রলি চলাচলের কারণে সড়ক ভেঙে বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোনো কোনো স্থানে ঢালাই ভেঙে রড বেরিয়ে পড়েছে। এই এলাকার মানুষের সহজ যোগাযোগের বাইপাস সড়ক হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। হালুয়ারঘাট থেকে ডলুরা শহীদ মিনার যেতে এই সড়ক ব্যবহার করলে সময় অনেকটা কম লাগে। মঙ্গলকাটা বাজার হয়ে চলাচল করতে হয় না। এই জন্য সড়কের গুরুত্ব অপরিসীম।
শিক্ষার্থী রহমান হোসেন ও জাকিয়া বেগম বলেন, এই সড়কে চলাচলে মারাত্মক কষ্ট হয়। যানবাহনে আসা-যাওয়া যেমন কষ্ট, পায়ে হেঁটে চলাচলেও মারাত্মক কষ্ট। সড়ক সংস্কারে দীর্ঘদিনের দাবি আমাদের।
পথচারী আব্দুর রহিম বলেন, ডলুরা শহীদ মিনার যেতে যানবাহন ও মানুষ চলাচলের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম এই সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের মেরামত কাজ না হওয়ায় ভাঙাচোরা থাকায় মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আওয়াল বলেন, অনেক দিন আগে সড়কের মেরামত কাজ হয়েছিল। এখন সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এই সড়ক সহজ চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। সড়কের মেরামত জরুরি প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষানবীশ আইনজীবী মতিউর রহমান বলেন, সুরমা নদীরপাড় থেকে যেকোনো স্থানে আসা-যাওয়া করতে ৩টি মুল সড়ক রয়েছে। তম্মধ্যে বেরীগাঁও থেকে কৃষ্ণনগর হয়ে মুছরা পর্যন্ত এটি বাইপাস সড়ক। ডলুরা বা চৌমুহনী অথবা এই এলাকার বিভিন্ন স্থানে যেতে মঙ্গলকাটা বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে সড়কের মেরামত কাজ জরুরি প্রয়োজন।
সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল হাই বলেন, আমাদের এলাকার সড়ক পিকআপ ও ট্রলি চলাচলে মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়। এই এলাকার সড়কের পাকাকরণের কাজ তেমন ভাল হয় না। সড়কের টেকসই উন্নয়ন হলে এভাবে ভাঙতো না।
সুরমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বেরীগাঁও-কৃষ্ণনগর-কোনাগাঁও সড়কে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে থাকেন। ভাঙা সড়কের কারণে মানুষের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। দ্রুত সড়কের মেরামত কাজ করে মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে আনা উচিৎ।
সদর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বেরীগাঁও-কৃষ্ণনগর- কোনাগাঁও সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি বরাদ্দ আসে তখন সড়কের মেরামত কাজ হবে।

  • [১]