আকরাম উদ্দিন
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরের একটি বেড়িবাঁধকে সারাবছর জন্য চলাচলের উপযোগি করতে পাকা সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন দুই উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। বছরে বছরে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিবর্তে সরকারী বরাদ্দে স্থায়ী ও পাকা সড়কে রূপান্তর করার পক্ষে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী মনে করেন তাতে বছরে বছরে বাঁধের ব্যবসা বন্ধ হবে। স্থায়ী সড়কে বাঁধের কাজ হবে। এলাকার মানুষের যোগাযোগ চাহিদাও মিঠবে।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার বিশ^ম্ভরপুর বাজার থেকে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নিয়ামতপুর বাজার পর্যন্ত উঁচু বেড়িবাঁধকে স্থায়ী সড়কে রূপ দিলে কয়েক হাজার মানুষের শুকনো ও বর্ষা মওসুমে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। বিশ্বম্ভরপুর বাজার থেকে রাধানগর, রায়পুর, ছাতলপাড়, জিরাগ তাহিরপুর হয়ে সদর উপজেলার গৌরারং ইউপি’র নিয়ামতপুর গ্রামের পাকা সড়ক পর্যন্ত বেড়িবাঁধে কাজ হয় প্রতিবছর, এবারও লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে মেরামত করা হয়েছে এই বেরীবাঁধ। প্রতিবছর শুকনো মওসুমে নির্মিত এই বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের একাংশের মানুষ এবং ফতেহপুর ইউনিয়নের মানুষ যানবাহনসহ চলাচল করেন। কিন্তু বর্ষায় এখানকার মানুষ পড়েন যাতায়াত ভোগান্তিতে।
ফতেহপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুশ শহীদ বলেন, শুকনো মওসুমে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় এবং বাজারে যেতে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে ছোট ছোট যানবাহন চলে। কিন্তু বর্ষায় বেড়িবাঁধ ভেঙে দেওয়ায় নৌকায় যেতে হয়। বেড়িবাঁধকে সড়কে রূপ দিলে এখানকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।
কলেজ শিক্ষার্থী আবদুল বাছিত বলেন, এই বেড়িবাঁধকে স্থায়ী সড়কে রূপ দিলে পরিবেশ প্রতিবেশের কোন ক্ষতি হবে না। বরঞ্চ গৌরারং ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দিগেন্দ্র বর্মণ ডিগ্রী কলেজে লেখাপড়া করার সহজ যোগাযোগ সড়ক তৈরি হবে। এতে দুই উপজেলার শিক্ষার অগ্রগতি ত্বরান্নিত হবে।
বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক রাজু বর্মন বলেন, প্রতিবছর খরচার হাওরের প্রশস্ত বেড়িবাঁধ দেখে আক্ষেপ হয়। যদি বেড়িবাঁধ পাকা সড়কে রূপান্তর হতো। কিন্তু হয় না। স্বপ্ন স্বপ্নই থাকে হাওরবাসীর। আমরা এই বেড়িবাঁধকে পাকা সড়কে নির্মাণের দাবি জানাই।
ঘাগটিয়া গ্রামের ছমির আলী বলেন, আমাদের সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন হলে, জীবনমানেরও উন্নয়ন হতো। এই বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেন না। এবার আমরা বেড়িবাঁধকে পাকা সড়কে রূপান্তরের দাবি জানাই।
ছাতলপাড় গ্রামের সালেক মিয়া, জাহানুর মিয়া, আনফর আলী, তাজ মিয়া বলেন, প্রতিবছর আমাদের গ্রামের পাশে নির্মিত বেড়িবাঁধ ভাঙে হাওরের আফালে। যদি বেড়িবাঁধের দুই পাশে ব্লক স্থাপন করে আরসিসি ঢালাই করে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হতো। তবে ফসল রক্ষা হতো, গ্রামও বাঁচতো এবং মানুষ চলাচলের সড়কও হতো।
জিরাগ তাহিরপুর গ্রামের দিরেশ তালুকদার, আশিক মিয়া বলেন, বর্ষায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে নৌকায় চলাচল করতে হয়। যদি এই বেড়িবাঁধ পাকা সড়কে রূপান্তর হয়, তবে বর্ষায় ও শুকনায় সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যানবাহনে চলাচল করতে পারবে।
সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের উমেদশ্রী গ্রামের আব্দুল হেকিম, সামিউল হক ও শরফুন নেছা বলেন, গৌরারং ইউনিয়নের অর্ধেক মানুষ হেমন্তে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু বর্ষায় নৌকায় চলাচল করতে হয়। এতে ভোগান্তি বাড়ে।
ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন বলেন, বিশ্বম্ভরপুর বাজার থেকে হাওরের পাশে দিয়ে নিয়ামতপুর সড়ক পর্যন্ত প্রতিবছর বেড়িবাঁধ নির্মাণ হয়। যদি এই বেড়িবাঁধ জন চলাচল সড়কে পরিণত করা যায়, তবে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, বেড়িবাঁধকে সড়ক হিসাবে নেওয়ার আগে খরচার হাওরের পানি নিষ্কাশন, মাছের অভয়াশ্রম এবং হাওরে ধানের ফলন নিয়েও ভাবতে হবে। হাওরের জীববৈচিত্রও বাঁচাতে হবে। একটি পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে এই বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থান দিয়ে নৌকা আসা-যাওয়ার ব্যবস্থাসহ কয়েকটি কজওয়ে বা বক্স কার্লভাট নির্মাণ করে স্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা যেতে পারে।