স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১১ নম্বর পিআইসি’র চলতি নদীরপাড়ে অক্ষয়নগর গ্রামের পাশের অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ অপ্রয়োজনীয় বলে অভিযোগ করায় শুক্রবার সকাল ১০টায় একটি তদন্ত দল সরেজমিনে বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে। বেড়িবাঁধ প্রয়োজনীয়তার পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে উত্তেজনাকর জবানবন্দি পেশ করায় নির্মাণ কাজ স্থগিত ঘোষণা করেন তদন্ত দল।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বেড়িবাঁধ পরিদর্শনকালে চলতি নদীরপাড়ে অক্ষয়নগর, হুড়ারকান্দা, বালাকান্দা, মুসলিমপুর, সাহেবনগর, কাইয়ারগাঁও এলাকার গণ্যমান্য সহ¯্রাধিক মানুষ সমবেত হন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এস.ও আশরাফুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুস ছাত্তার, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন, উপ-সহকারী কর্মকর্তা (ভূমি) একেএম সাব্বির, ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান, ইউপি সদস্য আনসার মিয়া, ইউনুস মিয়া, সাজিয়া বেগম, সাবেক ইউপি সদস্য আলাউর রহমান, ইদ্রিছ আলী, মমিন মিয়া, পিআইসি চেয়ারম্যান ইবনে মোমেন, সদস্য সচিব রইছ মিয়া, পিআইসি সদস্য সাচ্চু মিয়া, আবুল বাশার, জামাল হোসেন, আবু সুফিয়ান, কৃষক মনফর আলী, আব্দুল কাইয়ূম, আফসর উদ্দিন, মিরাশ উদ্দিন, সৈয়দ আহমদ, মুজিবুর রহমান, হাজী ইউনুস আলী প্রমুখ।
তদন্ত দলের কাছে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, চলতি নদীরপাড়ে বোরো ফসল প্রতি বছর হুমকির মুখে পড়ে। তাই নিরাপদে বোরো ফসল ঘরে তোলতে অক্ষয়নগর গ্রামের পাশে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে হুড়ারকান্দা, বালাকান্দা, সাহেবনগর, কাইয়ারগাঁও এলাকায় বোরো ফসল রক্ষা করতে বেড়িবাঁধের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। প্রতি বছর এই এলাকার একাধিক গ্রামের জমিতে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে আসছে। এই প্রকল্পের একাধিক জায়গায় বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু অক্ষয়নগর গ্রামের পাশে চলতি নদীরপাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে গিয়ে একাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে, তদন্ত দলের কাছে অক্ষয়নগর গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, অক্ষয়নগর গ্রামটি অতি নিচু এলাকায় গড়ে ওঠেছে। তাই প্রথম দফা পাহাড়ি ঢলে পুরো গ্রাম ডুবে যায়। এমন অবস্থার মধ্যে আবার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে বৃষ্টির পানি আটকে বছরের কয়েক মাস গ্রাম জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত হবে। এছাড়া হুড়ারকান্দা থেকে অক্ষয়নগর পর্যন্ত কোনো সময় বেড়িবাঁধ ছিল না। আমাদের অক্ষয়নগর গ্রামের যেসব জমি আছে, সকল জমি শাক-সবজি ফলন হয়। বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে সবজির ফলন হবে না।
উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তির কথা শুনে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর আগে কোথায় কোথায় বাঁধ হবে, এই বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা গ্রামবাসীকে নিয়ে সভা করে জায়গা নির্ধারণ করেছেন। বাঁধের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না এটাও তারাই নির্ধারণ করেছেন। এখন এই নিয়ে কেউ বলছেন বাঁধ হলে ভাল হবে, কেউ বলছেন বাঁধ না হলেই ভাল হয়। তাহলে এ বিষয়ে আরও ভেবেচিন্তে সিন্ধান্ত নিতে হবে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, ‘বোরো ফসল রক্ষায় কীভাবে কোথায় বাঁধ হবে, এটাতো স্থানীয়রা নির্ধারণ করেছেন। আমরা পিআইসিদের কাজ দেখাশোনা করব। বেড়িবাঁধ যেন ফসল রক্ষা কাজে ব্যবহৃত হয়, এটা চিন্তা করে স্থানীয়দের মতামত নেয়া হয়। এই বাঁধ যদি ফসলরক্ষার জন্য কাজে না লাগে তাহলে আরও চিন্তা করে কাজ করতে হবে এবং বাঁধ হলে আগের নকশা অনুযায়ী কাজ হবে।’
পিআইসি সদস্য সাচ্চু মিয়া বলেন, ‘অক্ষয়নগর গ্রামের অংশে বেড়িবাঁধ না হলে পানি ঢুকে অন্যান্য বছরের মতো আমাদের এলাকার বোরো ফসলের ক্ষতি হবে।’
ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, ‘অক্ষয়নগরের অংশে বেড়িবাঁধ হলে গ্রাম জলাবদ্ধাতায় আক্রান্ত হবে।’
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের হুড়ারকান্দা থেকে অক্ষয়নগর পর্যন্ত খাল রয়েছে। এই খাল আবার কেউ কেউ দখল করে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দিয়েছেন। বেড়িবাঁধ এলাকা পরিদর্শনকালে বেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ার পক্ষের এবং বিপক্ষের মানুষের মধ্যে উত্তেজনাকর কথাবার্তা এবং দাঙ্গা সৃষ্টির আশংকা হলে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইয়াসমিন নাহার রুমা অক্ষয়নগর অংশের বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ উভয়ের সমঝোতা না আসা পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেন।