স্টাফ রিপোর্টার
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগুন লেগেছে। বেড়েই চলেছে জিনিসপত্রের দাম। জিনিসের দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। দিনমজুর শ্রেণী পেশার মানুষ পড়েছেন মারাত্মক বিপাকে।
বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তিন মাস আগে যে তেল ৯০ টাকা লিটার বিক্রি হয়েছে। সেই সোয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা করে প্রতি লিটার। ভেজিটেবলস তেল ৮৫ টাকার পরিবর্তে প্রতি লিটার ১২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। সোয়াবিন তেল ফ্রেস, তীর, পিওর, পুষ্টি, চান্দা, বসুন্ধরা ইত্যাদি প্রতি লিটারে বেড়েছে ৪৫ টাকা করে। প্রতি কেজি ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে ১২০ টাকা করে। ভালমানের ডালে দাম বেড়েছে ৩০ টাকা করে। চানা (ছোলা) ৫৫ টাকা থেকে ৭০ টাকা করে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা করে দাম বেড়েছে। ২২ টাকা কেজি মূল্যের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। গত ৩ মাসে পেঁয়াজে বেড়েছে ১৩ টাকা করে প্রতি কেজিতে। চিনি প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা করে। পোলাও চাউল কালিজিরায় বেড়েছে ১৫ টাকা করে কেজিতে। ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা প্রতি কেজি, আটা ৩৫ টাকা করে। বেসন ৬০ টাকা প্রতি কেজি। রসুন ৫৫ টাকা করে প্রতি কেজি।
বাজারে আসা আব্দুল হানিফ বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমবে কমবে বলে আজ তুঙ্গে উঠেছে। মোদিমালের দোকানে গিয়ে দাম জিজ্ঞেস করলে মন খারাপ হয়ে যায়। আমার জীবনেও এভাবে দাম দেখিনি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের।
সাজাউর রহমান বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের যেভাবে দাম বেড়েছে। দিনমজুর সাধারণ মানুষ মারাত্মক বিপাকে পড়েছে। সকল প্রকার জিনিসপত্রের দাম কমানো জরুরি প্রয়োজন।
রহমত আলী বলেন, দৈনন্দিন রুজির বেশির ভাগ টাকা চলে যায় মসলাপাতিতে। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সংসার চালানো খুবই দায়।
বিশ্বজিৎ দেব বলেন, আমার জীবনের প্রথমবারের মতো দেখেছি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এভাবে বাড়তে। এখন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে গেলে দাম শুনে মাথা নষ্ট হয়ে যায়। অল্প অল্প কিনে চলে আসতে হয় বাজার থেকে।
ব্যবসায়ী প্রাণের রায় বলেন, আমরা সামান্য লাভে বিক্রি করি। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের বিক্রিও অনেকটা কমে গেছে। মানুষ আগের মতো কিনতে চান না।