পুলক রাজ
ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তুতি চলছে ধান শুকিয়ে গোলায় তোলার। ক্ষেতের ধান কেটে আঙ্গিনায় তোলার পর ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষক-কৃষাণীদের। ধান মাড়াই, শুকানো, ধুলাবালি ও ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছেন নারীরা। তবে, এসব কাজের পর ধান ঘরে তুলতে প্রয়োজন বাঁশের তৈরি দাড়ির। যা দিয়ে তৈরি হয় গোলা। ধানের ময়লা পরিষ্কার করতে প্রয়োজন হয় কুলা। ধান তোলার মৌসুম এলেই তাই কদর বাড়ে বাঁশের তৈরি দাড়ি-কুলা, টুকড়ি, ছাতার। সারা বছর এসব তেমন বিক্রি না হলেও বৈশাখে বাঁশ বেতের তৈরি এসব পণ্যের কদর বাড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্যবাজার, পুরাতন কোর্টের কৃষি পণ্যের দোকানগুলোতে জমে উঠেছে মৌসুমি ব্যবসা। বাঁশের তৈরি দাড়ি, ছাতা, কুলা, টুকরি বিক্রি হচ্ছে বেশি। ৭০ থেকে ৯০ টাকায় ছাতা, দাড়ি ১০০-১১০ টাকা, কুলা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, টুকরি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পৌর শহরের পুরাতন কোর্টের পাইকারি ব্যবসায়ী প্রদ্যুন্মময় বণিক বলেন, বৈশাখ মাসে আমাদের একটু বেশী-বেচা কেনা হয়। বিভিন্ন গ্রামে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কাস্টমারও মোটামুটি আসছে। দাড়ি, টুকরি বেশী বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, লকডাউন হয়ে গেলে মানুষ তো আমাদের দোকান বন্ধ পাবে। তখন কেমন করে জিনিসপত্র কিনবে। তাই অনেকেই আগেই কিনে ফেলছে।
কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, ধান রাখার জন্য দাড়ি দিয়ে গোলা বানানো হয়। তাই শহরে দাঁড়ি কিনতে আসছি। লকডাউনে দোকানপাঠ বন্ধ থাকবে তাই বেশী কিনে নিচ্ছি।
পুরাতন কোর্টের আফরোজ আলী বলেন, ধান রাখার দাড়ি, টুকরি, ধান কাটার সময় মাথায় রোদ না লাগার জন্য বাঁশের ছাতা মোটামুটি ভালোই বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক সুজন আহমদ বলেন, এবার বৈশাখী ধান তোলতে কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে রোদে পুরে ধান কাটতে হয়। মাথাটা রোদ থেকে একটু বাঁচাবার জন্য ছাতা কিনতে আসছি। মানুষের কাছ থেকে শুনেছি করোনা ভাইরাসও বাড়ছে নাকি। লকডাউনও দিসে সব মিলাইয়া আমরা কৃষকরা বিপদেই আছি।