- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বেড়েছে দুশ্চিন্তা শহর, ছাড়ছে মানুষ

আকরাম উদ্দিন
করোনা প্রতিরোধে কঠোর লকডাউন সোমবার থেকে। বেকার হবার আশংকায় শহর ছাড়ছেন শ্রমজীবী দুরপাল্লার মানুষেরা। আতঙ্কে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। জীবন জীবীকা নিয়ে আবারও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন। শনিবার শহরে মানুষের আগমন ছিল তুলনামূলক কম। বেশিরভাগ স্বচ্ছল পরিবারের মানুষ বেশি পরিমাণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে দেখা গেছে।
সোমবার থেকে সারা দেশে পক্ষকালব্যাপী কঠোর লকডাউনের ঘোষনায় বিভিন্ন দোকানপাটের ব্যবসায়ী কর্মচারীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। শহরের হোটেল রেস্তোরা, কাপড়ের দোকান, গার্মেন্টস, জুতার দোকান, স্যানিটারীর দোকান, রড সিমেন্টের দোকান, বইয়ের দোকান, অফিস স্টেশনারী, সেলুন, ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর এবং বিভিন্ন মার্কেটের দোকানপাটের ব্যবসায়ীসহ দিনমজুর শ্রেণির মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একই সাথে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও রিকশা শ্রমিকেরাও পড়েছেন বিপাকে। এসব যানবাহনের চালক ও দোকানপাটের কর্মচারীরা কঠোর লকডাউনে বাড়িতে বেকার সময় পার করবেন। দিনমজুররা কাজ না পেয়ে বেকার থাকবেন। এসব মানুষেরা তাদের পরিবারের দৈনন্দিন ভরণপোষন নিয়ে নানা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ধর্মপাশার লঞ্চযাত্রী সোনা মিয়া বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি। কঠোর লকডাউন হলে শহরে বেকার থাকতে হবে। অযথা বাসা ভাড়া গুণতে হবে আমাদের। তাই বাড়িতে চলে যাচ্ছি। বেকার সময় কাটাবো নিজ গ্রামে। কিছু একটা করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করবো।
শহরের হোটেল শ্রমিক হারুন মিয়া বললেন, আগে বলা হতো লক ডাউন। এখন নাম পরিবর্তনে হয়েছে কঠোর লকডাউন। কথা একটাই। হোটেল বন্ধ হলেই আমার পরিবারের ছোট ৩ ছেলে ২ মেয়ে নিয়ে পড়ি মহা সমস্যায়। হোটেল বন্ধ থাকলে তো মহাজন আমাকে বেতন দেবেন না। পরিবারের ভরণপোষন নিয়ে মহা সংকটে পড়ি। এই লকডাউনেও কপালে এমনটাই হবে।
শহরে আসা ধনপুরের রিকশা শ্রমিক এলিম উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে যা উপার্জন করি তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার খরচ হয়। রিকশা না চালালে দিনে এক বেলা খেয়ে থাকতে হয়।
আমবাড়ি’র সিএনজি চালক সুনু মিয়া বলেন, গাড়ি চালিয়ে ভাত খাই। না চালালে উপোস। আমার পরিবারে ৭ জন। বিগত সময়ের লকডাউনে প্রায় দিন না খেয়ে থাকতে হয়েছে।
দিনমজুর কাছম আলী বলেন, মানুষে বাজার করে আমি মাথায় বুঝা নিয়ে পৌঁছে দেই বাসায়। লকডাউনের সময় পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করি। শহরে মানুষ আসে না। বাজারও কেউ করে না।
জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. আলাউর রহমান বলেন, হাওর নদীর মাছ বাজারে নিয়ে আসলেও ভাল ক্রেতা পাওয়া যায় না। কম দামে বিক্রি করতে হয় মাছ। ফেরি করে যারা মাছ বিক্রি করেন, তারাও বাসা-বাড়িতে ঢুকতে পারেন না। এতে কম দামেই চলে মাছ বিক্রি।
সবজি বিক্রেতা আবুল মিয়া বলেন, লকডাউনের সময় সবজি বাজারে নিয়ে আসতে হয় পরিমাণ মতো। শহরের স্থায়ী বাসিন্দারাই কিনে নেন কিছু সবজি। অন্যরাতো শহর ছেড়ে নিজ গ্রামে চলে যান।
বাজারে আসা ক্রেতা সাজাউর রহমান বলেন, লক ডাউনের সুযোগে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী যারা খাদ্য দ্রব্য বিক্রি করেন তাদের ক্ষতি নেই। তাদের বরং অনেকটাই লাভ। লকডাউনের দোহাই দিয়ে বেশি দামে মালামাল বিক্রি করেন। বাজার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

  • [১]