পুলক রাজ
সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে বেশিরভাগ সবজির দাম। টমেটো ও গাঁজরের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশী। সবজির এমন দামে ক্রেতাদের মধ্যেও কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, চাহিদা তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বেড়েছে সবজির দাম। সেই সাথে বেড়েছে পেঁয়াজ, রসুনের ও তেলের দামও।
সরেজমিনে জেল রোড, ষোলঘর, জগন্নাথবাড়ি, আলফাত স্কয়ার, পূর্ব বাজার, ওয়েজখালী বাজার ঘুরে দেখা যায়, যে টমেটো কিছুদিন পূর্বেও কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছিল সেই টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দামে বিক্রি হওয়া গাঁজর দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। ২৫ থেকে ৩০ টাকা দামে বিক্রি হওয়া বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, মুলা ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা, রসুন ১০৫ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজ দাম ৩০ থেকে বেড়ে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা রুহুল আমিন বলেন, রমজান মাসে লকডাউনের কথা বলে সবজির দাম বেড়েছিলো। ভাবছিলাম রমজান মাস গেলে সবজির দাম কমবে। কিন্তু তার উল্টো হয়েছে। দ্বিগুণ তিনগুণ বেড়েছে দাম। যে টমেটো প্রতিকেজি ১৫ টাকা দামে কিনেছি। সেই টমেটো ৫০-৫৫ টাকা কেজি কিনতে হচ্ছে। এরকম হলে চলবে কেমন করে। মানুষ তো খেয়ে বাঁচতে হবে।
ক্রেতা আফজাল রানা বলেন, আমি ১/২ দিন পর পর সবজির বাজারে আসি। সবজির দামের কোন তাল পাই না। এক এক দিন এক এক দাম। কমার কোন নামই নেয় না। প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। হঠাৎ শুনা যায় ৪/৫ টাকা কমেছে। এরকম চলতে থাকলে কেমন করে আমরা জনগণ চলবো।
ক্রেতা সায়মা বেগম বলেন, সবজির দাম দিন দিন বাড়ছে। অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে কয়েকটি সবজির দাম। দোকানদাররা বলছেন সীমিতো রয়েছে। আগামীতে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুলা ৪০ টাকা করে কিনেছি। পেঁপে ৪৫ টাকা, লতা ৫০ টাকা আটা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা করে কিনেছি। প্রতিটি আইটেমেই দাম বাড়ানো। যে টমেটো ১৫ টাকা কেজি কিনেছি সেই টমেটো ৫৫ টাকা কেজি শুনে আর কেনা হলো না।
জেলরোড বাজারের ব্যবসায়ী মো. মাহতাব উদ্দিন বলেন, আমরাতো চাই সীমিতো দামে বিক্রি করার। কিন্তু সবজির দাম হঠাৎ বেড়ে যায় আবার কমেও যায়। আশাকরি শীতের মৌসুমে সবজির দাম কমবে।
বিক্রেতা রঞ্জন সরকার বলেন বলেন, আমদানি কম হওয়ায় দাম একটু বাড়তি। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ৭/৮ দিন পর সবজির আরো দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যবসায়ী পঙ্কজ বলেন, পেঁয়াজ ১০ টাকা বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর রসুন ১৫ টাকা বেশীতে।
সবজি বিক্রেতা সেন্টু দাস বলেন, আমাদের কিছু করার থাকে না। বাজারে প্রতিদিনই সবজির দাম উঠানামা করে। আজকে এক দামে কিনলে আগামীকাল এর চেয়ে দ্বিগুণ বেড়ে যায়। জিজ্ঞেস করলে বলে তারাও নাকি বেশী দামে কিনে।