- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বোমা মেশিনের তান্ডব বিলীন হওয়ার পথে কাইয়ারগাঁও

স্টাফ রিপোর্টার
চলতি নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের বোমা মেশিনের তান্ডবে বিলীন হতে চলেছে সদর উপজেলার কাইয়ারগাঁও গ্রামের বিভিন্ন অংশ, ফসলি জমি এবং শতাধিক ঘর-বাড়ি। সংঘবদ্ধ বালুখেকোদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যা নামতেই চলতি নদীতে চলে অবৈধ ড্রেজারের তান্ডব। দিনে হাত দিয়ে পাথর উত্তোলন করেন শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের তোলা পাথরে ১০-১৫টি’র বেশি পিকআপ বোঝাই হয় না। কিন্তু প্রত্যেক দিন কমপক্ষে তিনশ’ পিকআপ ও ট্রলিতে পাথর নিয়ে আসা হয় মইনপুর গ্রামের সুরমা নদীরপাড়ে।
কাইয়ারগাঁও গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বোমা মেশিন দিয়ে সন্ধ্যা নামতেই পাথর উত্তোলন শুরু করে, সারা রাত চলে তান্ডব। তীরের পাশ থেকে গভীর গর্ত করে বা পাড় কেটে পাথর উত্তোলন করায় ভোর থেকে গ্রামের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়তে থাকে। এই কারণে ঘর-বাড়ি, গাছ-গাছালি, ফসলি জমি ধোপাজান চলতি নদীতে প্রতিনিয়ত বিলীন হচ্ছে। চলতি নদীর পাড়ের কাইয়ারগাঁয়ের বেশিরভাগই ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে।
গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী বললেন, জমি জমা, বসতভিটা সবই গেছে নদীতে। শত শত বোমা মেশিন চলে রাতের বেলা, বাধা দিলে বিপদ হবে।
আব্দুল মনাফ বলেন, আমরা ঘর-বাড়ি হারিয়েছি নদীতে। মাথা গোঁজার ঠাই নেই। হাতে পাথর তোলে জীবীকা নির্বাহ করছি।
সোহাগ মিয়া বলেন, পাথর খেকোদের তান্ডবে জীবন বিপন্ন। এদের কবল থেকে রক্ষা চাই।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুকশেদ আলী বললেন, ধোপাজান চলতি নদীর পাড়ের কাইয়ারগাঁও গ্রাম পুরোটাই বিলীন হয়েছে। মানুষ ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, গাছ-গাছালি হারিয়ে পথে বসেছেন। গ্রামটির অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে।
সুনামগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি একেএম আবু নাসার বলেন, রাতের বেলায় বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করা হয়, এই খবর আমাদের কাছে প্রতিদিনই আসে। এসব বিষয় সকল দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও জানা আছে। কিন্তু প্রতিকারের কোনো উদ্যোগ নেই।
পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এমরান হোসেন বললেন, এর আগেও ধোপাজান চলতি নদীর সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর অংশে অভিযান চালিয়ে ৫০ টি বোমা মেশিন পুড়ানো হয়েছিল। আবারও আমরা সেখানে অভিযান চালাবো। বিশ^ম্ভরপুর ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলবো, তারা যেন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন।

  • [১]