স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের ছোট-বড় ৫২ টি হাওরের ২ লাখ ২২ হাজার ৬৯৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) সংশোধিত নীতিমালা-২০১৭ এর আওতায় স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভা হয়েছে।
রবিবার বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রাথমিক এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম জানান, চলতি অর্থ বছরে সুনামগঞ্জের বোরো ফসল রক্ষায় ৯১৫ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধের প্রাথমিক জরিপ কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৫৭৩ কিলোমিটার বাঁধের জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। ২৪ টি টিম হাওরে বাঁধের জরিপ কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫ নভেম্বরের মধ্যে জরিপ কাজ শেষ করা হবে। এরপর কৃষকদের দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের কাজ শুরু হবে। প্রাথমিক বরাদ্দে বাঁধ নির্মাণের জন্য ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা অনুমোদন হয়েছে। এছাড়াও গত অর্থ বছরের পিআইসিদের বাঁধ নির্মাণ কাজের বকেয়া পাওনা ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৮৬ হাজার ছাড় হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যেই পিআইসিরা বকেয়া টাকা পেয়ে যাবেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. ফরিদুল হাসান, দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুনুর রহমান মামুন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাদি উর রহিম জাদিদ, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি নুরুর রব চৌধুরী, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, নুরুর রব চৌধুরী, সাংবাদিক লতিফুর রহমান রাজু, দৈনিক আমাদের সময়ের জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বিন্দু তালুকদার, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমীর রেজা, সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটু প্রমুখ।
সভায় জেলা কমিটির সদস্যগণ, গণশুনানীর মাধ্যমে হাওরপাড়ের প্রকৃত কৃষকদের দিয়ে পিআইসি গঠনের মাধ্যমে বাঁধ নির্মাণ কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানান।
প্রসঙ্গত, গত অর্থ বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ১০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১০ টি পিআইসির মাধ্যমে সুনামগঞ্জের ৫২ টি হাওরের ২ লাখ ২৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ফসলরক্ষায় ৬১৯ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষন করা হয়েছিল।