জগন্নাথপুরের একটি ইউনিয়নের যে আওয়ামী লীগ নেতা সরকারি বরাদ্দের সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতিটি সড়কে না লাগিয়ে নিজ বাড়িতে লাগিয়েছেন তিনি সত্যিই কি আওয়ামী আদর্শের অনুসারী? নিশ্চয়ই দেশের ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক দলটি এমন আদর্শ ধারণ করে না যেখানে দলের একজন কর্মী কখনও জনগণের সম্পদকে নিজের সম্পদ মনে করতে পারেন। বরং যিনি এমন গর্হিত কাজটি করেছেন তিনি দলটির গায়ে নিজ কৃতকর্মের কলঙ্ক এঁকে দিয়েছেন, এমনটি বললে কি অসংগত হবে? আসলে আজকাল এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলতে হয়। দল থেকে ব্যক্তিকে পৃথক করাটা কঠিন হয়ে যায়। জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের ওই নেতা সড়ক বাতিটি নিজ বাড়িতে লাগানোর আগে ওএমএস’র চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগেও অভিযুক্ত। দলটি যদি ওই ব্যক্তির কৃতকর্মের দায় অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে তখন দলটির গায়ে লেগে থাকা একবিন্দু কলঙ্কচিহ্ন ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে। দল কি এমনটি করবে?
গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ‘জগন্নাথপুরের সেই আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে এবার সড়ক বাতি’ শীর্ষক খবরে সড়ক বাতি নিজ বাড়িতে লাগানোর খবর পরিবেশনের পাশাপাশি অভিযুক্তের একটি বক্তব্যও সংযুক্ত রয়েছে। সেখানে তিনি বলছেন, ‘সরকারি দুইটি লাইট কোথায় স্থাপন করতে হবে আমাকে বলা হয় নি। তাই কোন নির্দিষ্ট স্থান না পেয়ে আমি বাড়িতে স্থাপন করেছি।’ কি চমৎকার ব্যাখ্যা! তিনি দুইটি সড়ক বাতি স্থাপনের মতো কোন জায়গা পান নি এত বড় একটি ইউনিয়নে। আসলে কথা বলার জন্যও এখন কেউ কিছু চিন্তা করেন না। যা মুখে আসে তাই বলে ফেলেন। আমাদের প্রশ্ন, আপনি জায়গা খুঁজে পান নি ঠিক আছে, জিজ্ঞেস করেছেন কর্তৃপক্ষকেÑ কোথায় লাগাবেন এটি? সেটি না করে নিজ বাড়িতে লাগিয়ে দিলেন কোন বিবেচনায়? আসলে এসব প্রশ্নের কোন জবাব পাওয়া যাবে না। সর্বত্র আজ ব্যক্তির সর্বগ্রাসী লোভ-লালসার কাছে প্রতিষ্ঠানগুলো জিম্মি হয়ে গেছে।
এটি তো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি দুর্নীতি ঘটনা মাত্র। যে দেশে দুর্নীতির কারণে ২৫ লাখ মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন বোরো ফসল শতভাগ তলিয়ে যায়, যেখানে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ধসে পড়ে নির্মাণের অল্প দিনের মধ্যেই, রাস্তা ভেঙে পড়ে, পলেস্তারা খসে যায়; সেখানে দুইটি সড়ক বাতি নিজ বাড়িতে লাগিয়ে ফেলা এমন আর কি অপরাধ। তিনি দেখে শিখেছেন। সবাই করে, আমি কেন করব না, এমন মানসিকতার প্রলম্বন আর কি। ব্যক্তির কারণে এমন করেই দল/প্রতিষ্ঠান আজ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে ভীষণভাবে। এখান থেকে উত্তরণ ঘটানোর একটি উদগ্র নাগরিক আকাক্সক্ষাও সমাজে ক্রিয়াশীল। দলনেতাদের এই আকাক্সক্ষার জায়গাটি আত্মস্থ করতে হবে। নতুবা দল আর জনগণের মধ্যে যে দুস্তর ব্যবধান তৈরি হবে তা ঘুচানো যাবে না কিছু দিয়েই। সুতরাং সময় থাকতে সাবধানতা অবলম্বন করার কথাটিই ভাবা উচিৎ।