স্টাফ রিপোর্টার
জলমহালের দ্বন্দ্বে আব্দুল আজিজ (৬০) নামের এক ইজারাদার খুন হয়েছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৮ টায় সুনামগঞ্জ শহরতলীর শিয়ালমারা জলমহাল সড়কের পাশে লিয়াকত আলীর ধানের জমিতে এই ঘটনা ঘটে। আব্দুল আজিজের বাড়ি সুনামগঞ্জ পৌরশহরের ওয়েজখালী এলাকায় জলমহালের সন্নিকটে।
খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়। লাশের ছুরতহাল রিপোর্ট শেষে মঙ্গলবার সকালে নিহতের পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী খুশমালা বেগম (৪৫) জানান, তাঁর স্বামী আব্দুল আজিজসহ ৮-১০ জন মিলে কয়েক বছর ধরে শিয়ালমারা নামের জলমহালে মাছ শিকার করে আসছেন। সোমবার সকাল অনুমান ৮টায় রমিজ উদ্দিন নামের একজন অংশীদার ফোন দেন জলমহালের খলায় যেতে। তিনি দ্রুত চলে যান সেখানে। হয়তো হিসাব-নিকাশে বেশি ব্যস্ত থাকায় ওইদিন দুপুরে বাড়িতে আসেন নি আব্দুল আজিজ। তখন খাবার পাঠিয়ে দেয়া হয় জলমহালের খলায়। পরিবারের লোকজন সারাদিন অপেক্ষার পর রাতেও নানা দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জলমহালের ভাগবণ্টন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল।
তিনি জানান, রাত অনুমান সাড়ে ৮টায় তাজ উদ্দিন নামের একজন খবর পাঠান আব্দুল আজিজ খুন হয়েছেন। যিনি বাড়িতে খবর নিয়ে আসেন তিনি জানিয়েছেন, তাজ উদ্দিন ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড়ে এসে গ্রামের এক বাড়িতে উঠেন। হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে আব্দুল আজিজের পরিবারে নিহত হওয়ার খবর পৌঁছানোর কথা বলেন। এই খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে যান।
নিহত আব্দুল আজিজের বড় ছেলে মাও. মোহাম্মদ ওয়াজকুরুনি জানান, রাত অনুমান সাড়ে ৮টায় খবর পান তাঁর বাবা খুন হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জলমহালের অংশীদারগণ হিসাব-নিকাশ নিয়ে ঝামেলা করে আসছিল তাঁর বাবা আব্দুল আজিজের সাথে। তিনি জলমহালের ভাগের একটি বড় অংশের মালিক।
মাও. মোহাম্মদ ওয়াজকুরুনি আরও জানান, এলাকার ওয়ারিছ হত্যা মামলার ২ নম্বর সাক্ষী তাঁর বাবা আব্দুল আজিজ। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার সাক্ষী গ্রহণের দিন ধার্য্য ছিল।
নিহত আব্দুল আজিজের আপন চাচাতো ভাই কালা মিয়া জানান, দেখার হাওরের একাংশ শিয়ালমারা জলমহাল। এই জলমহালের একটি বড় অংশের মালিক হলেন আব্দুল আজিজ। জলমহালের আয়-ব্যয় হিসাব-নিকাশ নিয়ে আব্দুল আজিজের সাথে অন্যান্য অংশীদারগণ ঝামেলা চলছিল। ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুখে ও বুকের বিভিন্ন স্থানে তাকে কূপানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জলমহালের শরিক অন্য কারোরই নামও ফোন নম্বর দিতে পারেন নি তিনি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী মঙ্গলবার বিকালে বললেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।