বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন বৃহৎ শুল্কস্টেশন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী’র আমদানী কারক ও শ্রমিকদের আশার সঞ্চার হয়েছে। চার বছর পর এই সীমান্তের দুই শুল্কস্টেশন দিয়ে আবার নতুন করে ভারতের মেঘালয় থেকে পাথর আমাদানী শুরু হয়েছে। সোমবার থেকে নামবে কয়লাও।
বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলী শুল্কস্টেশন দিয়ে ভারতের মেঘালয় থেকে কয়লা আমদানী হয়ে আসছে ১৯৯১ সাল থেকে। ২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল প্রথম এই তিন বন্দরের বাগলী দিয়ে মেঘালয়ের চুনাপাথর আমদানী শুরু হয়। এরপর ২০১৫ সালে বড়ছড়া দিয়ে চুনাপাথর আমদানী হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হয় চারাগাঁও দিয়ে প্রথম চুনাপাথর আমদানী। ২০১৫ ও ১৬ ইংরেজির পর বড়ছড়া দিয়ে আর চুনাপাথর আমদানী হয় নি।
করোনা মহামারীর কারণে মার্চ মাস থেকে গত সোমবার পর্যন্ত এই ৩ শুল্কবন্দর দিয়ে কোন কিছুই আমদানী হয় নি। ব্যবসা বন্ধ থাকায় প্রায় ৮০০ আমদানী কারক এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার শ্রমিকের দুর্বিসহ দিন কেটেছে। মঙ্গলবার থেকে এই তিন বন্দরের মধ্যে বড়ছড়া দিয়ে চুনাপাথর আমদানী শুরু হয়েছে। প্রথম দিন মেঘালয় থেকে আমদানী হয় চার গাড়ী চুনাপাথর। পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে, শনিবার আমদানী হয়েছে ৩৬ গাড়ী চুনাপাথর।
তাহিরপুর সীমান্তের উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট আমদানীকারক খসরুল আলম বললেন, দেশে মেঘালয়ের কয়লার চাহিদা আছে, চুনাপাথরেরও আছে, কালো-সাদার মিশ্রণের চুনাপাথর কন্সট্রাকশনের কাজে লাগে। সাদা পাথর সিমেন্ট তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। আমরা আশা করছি কয়লা ও চুনাপাথর আগের মতোই নামা শুরু হবে। বন্দরের আমদানীকারক শ্রমিক সকলের মধ্যেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে।
তাহিরপুরের বিশিষ্ট আমদানী কারক মুজিবুর রহমান বলেন, বড়ছড়া দিয়ে আমার পাথর নেমেছে গত মঙ্গলবার থেকেই। শনিবারও নেমেছে। আপাতত এসব পাথরের ক্রেতা সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণার ক্রাশার মালিকরা এবং আগুন জ¦ালিয়ে যারা চুন তৈরি করে তারা। মেঘালয়ের পাথর নামা অব্যাহত থাকলে, এখান থেকে সারা দেশেই পাথর সরবরাহ করা যাবে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের বললেন, আমরা আশা করছি ২০২১ সাল এই তিন বন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জন্য ভাল যাবে। পাথর এবং কয়লা দুটোই আমদানী হবে।
তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের সদস্য সচিব রাজেশ তালুকদার বললেন, ২০১৫-১৬ সালের পর বড়ছড়ার দিকে পাথর আমদানী হয় নি। এবার আবার আমদানী শুরু হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ের মাইন ওনার্স এ- এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের সভাপতি জুলিও সিজার ডিংডাং বলেছেন সোমবার থেকে (১২ অক্টোবর) কয়লাও রপ্তানী শুরু করবেন তারা।
তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দোকার বলেন, করোনাকালে বেকায়দায় ছিলেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা, সামান্য পরিমাণে পাথর আমদানী শুরু হয়েছে বড়ছড়া দিয়ে, চারাগাঁও ও বাগলী দিয়েও কয়লা এবং পাথর আমদানী শুরু হবে এমন কথা জানিয়েছেন রপ্তানী কারকরা। রপ্তানী কারকদের কথা অনুযায়ী আমদানী রপ্তানী শুরু হলে আবার ৩ টি শুল্কবন্দরই সচল হবে।
বড়ছড়ার রাজস্ব কর্মকর্তা সুদীপ্ত শেখর দাস বললেন, মঙ্গলবার থেকে সামান্য পরিমাণে চুনাপাথর আমদানী হচ্ছে বড়ছড়া দিয়ে, প্রতিদিনই আমদানীর পরিমাণ বাড়ছে। কয়লার কোন এলসি এখনো পাওয়ায় যায় নি। তবে কয়লাও নামবে বলে রপ্তানী কারকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।