- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার ছাড়া অন্য কিছুই হয় নি

বিশেষ প্রতিনিধি
মনি, জগলুল, রিক্তা ও সুমা বেগম গত প্রায় এক বছর ধরেই প্রতিবন্ধী স্কুলে যায় না। এদেরকে যিনি দেখভাল করতেন, তিনি রিপা বেগম (৩৭), তাদের বড় বোন। ধনাঢ্য এই মহিলা নিখোঁজ হবার এক বছর হয়েছে। নিখোঁজের পর প্রথম ৬ মাস সদর থানা পুলিশ তাঁর সন্ধান বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে রিপা বেগমের ভাই মোস্তাক হোসেনের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি’র তদন্তকারী সাবইন্সপেক্টর সর্বশেষ রিপা বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করেছেন। মুঠোফোনটি নতুনপাড়া’র নিলয়-৯৭ নম্বরের বাড়ি’র বাসিন্দা আমেনা বেগম’এর বোন কুতুবপুরের ছাহেলা বেগমের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। সিআইডি পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ২৮ জানুয়ারি নতুনপাড়া’র আমেনা বেগমকে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আদালত আমেনা বেগমকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ শহরতলির সদরগড় এলাকার মৃত গোলাফ আলী ও আজিজুন নেছার বড় মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা রিপা বেগম তার প্রতিবন্ধী ৪ ভাই বোন ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে নিলয়-১৯/৩ নতুনপাড়া’র ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তিনি প্রতিদিনই তার প্রতিবন্ধী ভাই- বোনদের নিয়ে প্রতিবন্ধী স্কুলে যেতেন। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিবন্ধী বোন রিক্তা বেগম এবং রিপা বেগম নতুনপাড়ার ভাড়া বাড়িতে ছিলেন। ওখান থেকেই রিপা নিখোঁজ হন বলে তার ভাই মোস্তাক হোসেন থানায় জিডি করেছিলেন।
রিপা বেগম’এর ভাই মোস্তাক হোসেন রোববার এ প্রতিবেদককে জানান, তার বোন নিখোঁজ হবার পর আদালতে দায়ের করা মামলায় (সিআর মামলা ১২৭/২০১৯) নতুনপাড়া’র বাসিন্দা আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে সুমন আহমদ, ক্ষিতিশ করের ছেলে সুজিত কর ও অজিত কর, নিয়াজুল বাশার পাপ্পু’র স্ত্রী ওয়াহিদা বেগম, শুকুর আলীর স্ত্রী আমেনা বেগম, সত্যজিৎ বণিক, সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের রবি মিয়ার ছেলে উজ্জল মিয়া, আবু সালাম’এর ছেলে তকবির আহমদ, উড়ারকান্দার ছমাদ মিয়ার ছেলে দ্বীন ইসলাম ও আমির উদ্দিনকে আসামী করে আদালতে মামলা করেন। ।
এদের সঙ্গে রিপা বেগমের প্রায় ৬০ লাখ টাকার নগদ লেনদেনের কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জ সদর থানাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করে আসামী সুমন, উজ্জল, তকবির আহমদকে গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু রিপা বেগমের নিখোঁজের কোন মোটিভ উদ্ধার করতে পারে নি।
রিপা বেগমের ভাই মোস্তাক হোসেন জানান, থানা পুলিশ তার বোন রিপা বেগম নিখোঁজের রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় গত বছরের জুন মাসে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব সিআইডি’র কাছে হস্তান্তরের আবেদন করেন তারা। সিআইডি’র তদন্তকারী সাব ইন্সপেক্টর গত ২৫ জানুয়ারি আমেনা বেগম নামের এক মহিলাকে তার বোনের মুঠোফোনসহ আটক করেন।
আমেনা বেগমের সঙ্গে তার বোন রিপা বেগমের ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকার লেনেদেনের প্রমাণপত্র রয়েছে বলে জানান নিখোঁজ রিপার ভাই মোস্তাক হোসেন ।
সিআইডি’র তদন্তকারী সাব ইন্সপেক্টর মো. নয়ন মিয়া বলেন, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি আমরা। রিপা বেগমের মুঠোফোনটি আমেনা বেগমের বোন ছাহেলা বেগমের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ছাহেলা বেগম বলেছেন মুঠোফোনটি আমেনা দিয়েছেন। আমেনা মুঠোফোনটি একজন প্রতিবন্ধী’র (দিলোয়ার মিয়া, বাড়ি- নতুনপাড়া)’র কাছ থেকে নিয়েছেন দাবী করলেও বিষয়টি বিশ^াসযোগ্য নয়। এই নিয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। রিপা বেগম নিখোঁজের কারণে তার ৪ প্রতিবন্ধী ভাই- বোন যে অসহায় হয়ে পড়েছে, এটিও বুঝতে পারছি আমরা। এজন্য মামলাটি মানবিক দিক থেকেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • [১]