ব্যাটারি চালিত রিক্সা ভাল না খারাপ সেই বিতর্ককে পাশে রেখে যে কথাটি বলা যায় তা হলো- এটি কিছু শ্রমজীবী রিক্সাওয়ালার অমানুষিক শ্রম কমিয়ে দিয়েছে। একসময় মানুষ হাতে রিক্সা টানত, পরে প্যাডেল চালিত রিক্সা এসেছে; এর সবগুলোতেই রিক্সাওয়ালাদের ঘাম ঝরানো কায়িক শ্রম দিতে হত। জীবিকার প্রয়োজনে এই কাজটি করতে হত তাদের। রিক্সায় ব্যাটারি সংযুক্ত হওয়ার ফলে চালকদের পরিশ্রম কিছুটা লাঘব হয়েছে। চলাচলে এসেছে গতি। উপরন্তু রিক্সা পরিবহনের জায়গায় ব্যাটারি চালিত রিক্সা আরেক ধাপ অগ্রগতি। কখনও নতুন কোন প্রযুক্তকে দমিয়ে রাখা যায় না। প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা থাকলে সে আপন নিয়মে নিজের জায়গা করে নেয়। আর প্রয়োজনীয়তা না থাকলে বিদায় নেয়। এখন যেটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা হল- এর দুর্ঘটনা ঘটানোর সক্ষমতা প্যাডেল চালিত রিক্সার চাইতে বেশি নাকি কম। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে ব্যাটারি চালিত রিক্সা বিষয়ে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা এর বিপক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু যারা বিরোধিতা করছেন প্রয়োজন পড়লে তারাই দ্রুত গন্তব্যে যেতে এখন প্যাডেল চালিত রিক্সার পরিবর্তে ব্যাটারি রিক্সায়ই উঠবেন। এ হলো মানুষের দ্রুত চলাচল করার চাহিদাপ্রসূত। মানুষের কাছে এখন সময়ের মূল্য অনেক। তাই যখন যে যান তাকে দ্রুততা দিতে পেরেছে সেই যানই পেয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। আসল কথা হলো- এর ঝুঁকি হ্রাস করা। একে নিরাপদ যানে পরিণত করা। বাংলাদেশে ব্যাটারি চালিত রিক্সা কিংবা অটো চলাচল করে, এগুলোর কোন বৈধতা নেই, কোন কর্তৃপক্ষ এই যানবাহনের লাইসেন্স দেয় না; সবই সত্য। সব থেকে বড় সত্য হল- তারপরেও এগুলো রাস্তায় চলছে। কীভাবে চলছে? বাজারে এগুলো আসছে কীভাবে? সবকিছুই তো প্রকাশ্যে হচ্ছে, গোপন কিছুৃ নেই। তার মানে হলÑ ব্যাটারি চালিত রিক্সাকে উপেক্ষা করার উপায় নেই।
ব্যাটারি রিক্সা কিংবা অটো চলাচল দেখভালের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। কীভাবে যাবতীয় ঝুঁকি দূর করে এগুলো নিরাপদ যানে পরিণত হতে পারে সেই চেষ্টার প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতি এবং তা দেখার কোন কর্তৃপক্ষ না থাকলে এইসব যানের সেচ্ছাচারিতা বাড়বে। বিপদ হবে তখন। কোন রাস্তায় রিক্সা চলবে কিংবা কোথায় চলবে না; এগুলোও কর্তৃপক্ষীয় নির্ধারণের বিষয়। শহরের মূল সড়কগুলোতে যেকোন ধরণের রিক্সার চলাচল নিষিদ্ধ করা উচিৎ। ধীর গতির যানবাহনের কারণেই সড়কে যানজট তৈরি হয়। শহর কিংবা নগরের সড়কে শ্রেণিভেদে যানবাহন চলাচলের সীমারেখা দেয়া থাকে। সময় এসেছে আমাদের পৌর শহরটিকেও এই ধরণের নিয়মের আওতায় নিয়ে আসা। আমরা মনে করি, শহরের মূল সড়কে কোন ধরণের রিক্সা বা অটো চলতে দেয়া উচিৎ নয়। পাড়া বা গলি রাস্তায় এগুলো চলাচল করবে। তাহলে মূল সড়ককে আমরা যানজট মুক্ত রাখতে পারব। পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভেবে দেখতে পারেন। মানুষ যখন জানবে, মূল সড়কে রিক্সা বা অটো চলাচল করবে না তখন মানুষ সেটি অভ্যাস করে নিবে। পরিবহন ব্যবস্থাও ওইভাবে দাঁড়িয়ে যাবে।
মানুষ এখন অনেক সভ্য হয়েছে। তাই একজন মানুষ আরেকজন মানুষের কায়িক শ্রমে চলা যানে চড়তে অস্বস্তি বোধ করে। মানুষ যত মানসিকভাবে উৎকর্ষতা অর্জন করে তার ভিতরের মানবিক গুণাবলীরও তত বিকাশ ঘটে। অন্যদিকে যান্ত্রিক অগ্রগতি উন্নতিরও লক্ষণ। ব্যাটারি চালিত রিক্সা অন্তত কিছু মানুষের রুটি রোজগারের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। এটি কম শ্রমনির্ভর ও একটু দ্রুত গতির হওয়ায় আপাতত এর চাহিদা থাকবে বলেই আমরা মনে করি। সুতরাং ব্যাটারি চালিত রিক্সা উচ্ছেদের পরিবর্তে একে নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সময়োচিত হবে বলে আমরা মনে করি।