- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

বয়স্কদের জন্য পেনসন কর্মসূচি, প্রবীণ ব্যক্তিদের আশীর্বচনে এই দেশ আরও এগিয়ে যাক

ষাটোর্দ্ধ বয়সের ব্যক্তিদের জন্য পেনসন চালু করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বয়স্ক ভাতা নামে একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী বর্তমানে চালু থাকলেও এর ব্যাপ্তি সীমিত থাকায় সকল শ্রেণি-পেশার বয়স্কদের জন্য তা ফলপ্রসূ হয়ে উঠতে পারেনি। বয়স্ক মানুষদের সমাজ ও পরিবারে বোঝা মনে করা হয়। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি এই নেতিবাচক মনোভাব আরও প্রকট হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। অধিকাংশ পরিবারগুলোর দৈনিক আয় থেকে দৈনিক ব্যয় মিটানোর পর সঞ্চয় বলতে অবশিষ্ট আর কিছু থাকে না। বরং দিনকার আয় তার চাহিদার তুলনায় এতোটাই কম যে তা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটানোই দুঃসাধ্য হয়ে উঠে। ক্ষুধা নিবারণের পর এই আয় দিয়ে চিকিৎসা, বিনোদন, মানসম্মত শিক্ষা প্রভৃতি খাতে ব্যয় করার অবকাশ থাকে না। বয়স্ক মানুষরা স্বভাবতই জরা ও ব্যাধিগ্রস্ত থাকেন। তাদের নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। দরিদ্র পরিবারের উপার্জনক্ষম সন্তান বয়স্ক মা-বাবার কষ্ট দেখে নিরবে অনুতাপদগ্ধ হয় কিন্তু নিজের অক্ষমতার জন্য কিছুই করতে পারে না। বয়স্ক মা-বাবাও সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টের কথা গোপন রাখেন। পরিবারের এই অসাহয়ত্ব মুচনের দায় রাষ্ট্রের । যে ব্যক্তি কর্মক্ষম অবস্থায় সারা জীবন শ্রম ও মেধা দিয়ে দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রকে বিভিন্নভাবে সহায়তা জুগিয়ে গেছে তার বিপন্নাবস্থায় কি রাষ্ট্র নামক সত্তাটি মুখ ফিরিয়ে থাকবে? পশ্চিমা উন্নত দেশগুলো একটা কাঠামো দাঁড় করে ফেলেছে। ওই কাঠামোয় বয়স্ক ও প্রবীণ ব্যক্তিদের দায় রাষ্ট্র গ্রহণ করে। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশগুলো সেইভাবে ওই দায়িত্ব পালন করতে পারে না আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে। কিন্তু চেষ্টা যে শুরু হয়েছে তা বুঝা গেল প্রধানমন্ত্রীর চিন্তা থেকে। তিনি সঠিকভাবেই বয়স্কদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব বিষয়টি হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন। তাই যে দাবি কেউ কখনও করেননি তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।
বৃহৎ অর্থে রাষ্ট্র একটি পরিবার। সরকার এর অভিভাবক। আর নাগরিক সমাজ ওই পরিবারের সদস্য। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা সক্ষম তারা কাজ করেন। এই কাজের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র বেঁচে থাকে, উন্নত হয়। রাষ্ট্রের তহবিল তৈরি হয় কর্মক্ষম মানুষের উপার্জনের মাধ্যমে। এই তহবিল ব্যয় করার ক্ষেত্রে আগে দেখতে হয় পরিবারের সকল সদস্যের কল্যাণ। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় তাই কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণাটি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যে জনগণের করের টাকায় রাষ্ট্র নামক বৃহৎ পরিবারটি সচল থাকে সেই পরিবারের বয়স্ক বা কাজে অক্ষম সদস্যদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র নিশ্চুপ থাকতে পারে না। যে রাষ্ট্র নিশ্চুপ থাকে তাকে মানবিক রাষ্ট্র বলার অবকাশ থাকে না। সামর্থের বিষয়টি আপেক্ষিক। যতটুকু সামর্থ ততটুকু সহায়তা করার মানসিকতা থাকলেই সঠিক পথে থাকা বুঝায়। বলা বাহুল্য বাংলাদেশে এই জায়গায় বহু ঘাটতি ছিল। অপ্রয়োজনীয় খাতে অঢেল টাকা খরচের দৃষ্টান্ত, লুটপাট চলার বাস্তবতা থাকলেও গণমানুষের কল্যাণমূলক কর্মসূচি সামর্থের তুলনায় কমই ছিল বলা যায়। প্রধানমন্ত্রীর ষাটোর্দ্ধ বয়সের প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য পেনসন কর্মসূচি চালু করার মাধ্যমে রাষ্ট্রের মানবিক পথ চলার যে অনুপম দৃষ্টান্ত তৈরি হল তা আরও সমৃদ্ধ হোক। এজন্য একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করি তেলে মাথায় তেল দেয়ার নীতি পরিহার করে মানুষের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে যার যতটুকু সহযোগিতা দরকার ন্যায্যতার ভিত্তিতে ততটুকু সহায়তা বিতরণের সঠিক নীতিমালা ওই কমিটি তৈরি করবে। দ্রুত এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন হোক এবং প্রবীণ ব্যক্তিদের আনন্দে উদ্ভাসিত আশীর্বচনে এই দেশ আরও এগিয়ে যাক।

  • [১]