স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের সবচেয়ে বড় সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফরম বিক্রয়ে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটার অভিযোগ ওঠেছে। ওই স্কুলে অনলাইনে ভর্তির আবেদর না করে অফলাইনে বিক্রয় হচ্ছে ফরম। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্রে (স্মারক নং-৩৭.০২.০০০০.১০৭.৩১.৩৩৩.২০২১,অংশ-১, ২৯৬৮) লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেদন ফরমের মূল্য কোনভাবেই ১১০/= (একশত দশ টাকা) টাকার উপরে গ্রহণ করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীদের চার ফরমে ৪০০/= (চারশ চল্লিশ) টাকা রাখা হচ্ছে। সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেছেন, কোথাও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে না। নিয়ম মোতাবেকই হচ্ছে ভর্তি ফরম বিক্রয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের গেল ২১ নভেম্বরের ভর্তি সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয় হতে কোন ভর্তি ফরম বিতরণ করা হবে না। ভর্তির আবেদন কেবল অনলাইনে https://gsa.teletalk.com.bd ঠিকানায় পাওয়া যাবে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ১৬ নভেম্বর থেকে ছয় ডিসেম্বর পর্যন্ত। ভর্তির আবেদন ফি ১১০ (একশত দশ) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা শুধুমাত্র টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল হতে sms এর’ মাাধ্যমে প্রদান করা যাবে। এই পরিপত্রে অবশ্য উল্লেখ রয়েছে, অনিবার্য কারণে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লটারি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারেন নি এমন প্রতিষ্ঠান শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত (ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী) স্থানীয় ভর্তি কমিটির মাধ্যমে লটারি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী নির্বাচন করবেন। তবে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আবেদন ফরমের মূল্য কোনভাবেই ১০০/= (একশ দশ) টাকার উপরে গ্রহণ করা যাবে না। সুনামগঞ্জের সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম বিক্রিতে এই নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কমপক্ষে ৪৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে এখানে। কোন কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এর চেয়েও বেশি আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে।
সুনামগঞ্জের অপর সরকারি স্কুল সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এই প্রতিবেদককে বললেন, রোববার সকালে সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ট শ্রেণির ভর্তি ফরম কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। তাকে বলা হলো সাধারণ কোঠা’র ডে/ মর্নিং দুই শিফটের দুটি ফরম এবং যেহেতু শিক্ষার্থী’র মা সরকারি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ওই কোঠায় আরও দুটি ফরম ডে ও মর্নিংয়ের নিতে হবে। তিনি ফরম বিক্রেতাদের জিজ্ঞেস করলেন, এ ধরণের কোন নিয়মতো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নেই। আমাদের স্কুলে (সরকারি জুবিলী স্কুলে) ১০০ টাকা দিয়ে অনলাইনে যে কোন কোঠায় আবেদন করতে পারছে শিক্ষার্থীরা। এখানে আরেক নিয়ম কেন। ভর্তি ফরম বিক্রয়কারীরা কোন জবাব দিলেন না।
দুপুর ১২ টায় গণমাধ্যমকর্মী সোহানুর রহমান ওই স্কুলের ভর্তি ফরম আনতে গেলে ফরম বিক্রেতারা বলে দেন, একজন শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক আবেদন ফরম নিতে পারবেন। পরিবারে মুক্তিযোদ্ধা থাকলে (ডে ও মর্নিংয়ের জন্য) সাধারণ কোঠা এবং মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় চারটি, প্রতিবন্ধী হলে আরও দুটি, সরকারি চাকুরীজীবী হলেও আরও দুটি নিতে পারবেন। ফরম বিক্রয়ের দায়িত্বে থাকা ওই ব্যক্তি বললেন, বেশি ফরম নিলে লটারিতে ঠিকে যাবার সম্ভাবনা বেশি। যত পারেন বেশি নেন। ওই গণমাধ্যম কর্মী বললেন, ষষ্ট শ্রেণিতে সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিফটে ২৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি নেবার কথা, সেখানে ২০০ জন নেবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বাকী ৪০ জনের সিটের কী হবে? এই নিয়ে কথা আছে অভিভাবকদের মাঝে।
সরকারি এসএসসি বালিকার লাগোয়া এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইনচান মিঞা বললেন, একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অন লাইনে বা অফলাইনে কোনভাবেই ভর্তি ফরম বাবদ ১০০/= (একশ দশ) টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। এই নির্দেশনা কর্র্তপক্ষের আছে।
সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক একে আজাদ মিয়া বললেন, টেলিটকের মাধ্যমে ১১০ টাকা দিয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীরা অনলাইনে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাধারণ কোঠাসহ নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য কোঠায়ও আবেদন করতে পারছে। ভর্তি ফরমের জন্য ১১০ টাকার বেশি কাউকে দিতে হবে না।
সরকারি এসসি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজ মো. মাশহুদ চৌধুরী বললেন, নিয়মের কোন ব্যত্যয় হচ্ছে না। ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থী একজন একাধিক ফরম কিনতে কোন অসুবিধা নেই। যারা বেশি কিনবেন, তাদের লটারিতে ভর্তির সুযোগ বেশি। যারা কিনতে পারবে না, তারা তাহলে বঞ্চিত হবে কি না। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা বঞ্চিত হলেও কিছুই করার নেই। তিনি বললেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি লটারির পক্ষে নয়। লটারিতে মেধাবিরা ভালো স্কুলে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। ১২০ জন এর স্থলে ১০০ জন শিক্ষার্থী নেবার ভর্তি বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ষষ্ট শ্রেণিতে যারা অকৃতকার্য হবে, তাদের আসন শূণ্য না রাখলে, ওরা যাবে কোথায়।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বললেন, একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ভর্তি ফরমের ফি বাবদ ১১০ টাকার বেশি রাখার সুযোগ নেই।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শেখ মহিউদ্দিন বললেন, বিষয়টির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।