- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ভাইয়ের কাঁধে চড়ে নিরাপদে পৌঁছল রৌজ

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
চুতর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকুন্নাহার রৌজ কিছুদিন আগে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পায়ে আঘাত পায়। তাই সেই পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে। তার পক্ষে একা একা চলাও অসম্ভব। প্লাস্টারকে সুরক্ষিত রাখতে পানি থেকে দূরে থাকতে হবে তাকে। কিন্তু হঠাৎ বন্যায় তাদের বসতঘরে পানি উঠায় পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে বিপাকে পড়ে সে। তাই পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা সদরে তার চাচাতো ভাই আলমগীরের বাসায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু উপজেলা সদরের সাথে তাদের বাড়ির যোগাযোগের সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন বন্ধ রয়েছে। তাই আলমগীর রৌজকে কাঁধে নিয়ে রওনা দেন। শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে আলমগীর রৌজকে কাঁধে করে হাঁটু পানি মাড়িয়ে তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছে- এমন দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। রৌজ ধর্মপাশা সদর ইউনিয়নের আবুয়ারচর গ্রামের লুৎফুর রহমানের মেয়ে ও ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে করে দুই উপজেলার প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রতিটি বসতঘরে পানি উঠায় বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দী মানুষেরা। কেউ কেউ স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। গোয়াল ঘর ডুবে যাওয়ায় গবাদী পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। দেখা দিয়েছে চরম গো-খাদ্য সংকট।
প্রবল বর্ষণের ফলে গত বুধবার মধ্যরাত থেকে ধর্মপাশার কংশ নদ ও মধ্যনগরের সুমেশ্বরী নদীতে ক্রমাগত পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর পানি বৃদ্ধির ফলে ধর্মপাশা উপজেলার সদর বাজারসহ ৬টি ইউনিয়নের ও মধ্যনগর উপজেলার সদর বাজারসহ ৪টি ইউনিয়নের প্রতিটি রাস্তাঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়াও ধর্মপাশা উপজেলা সদরের সাথে আশপাশের গ্রামগুলোর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৭ হাজার ৯০০টি পরিবারের ৪৭ হাজার ৪০০ জন লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যার্তদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে দেড় টন করে মোট ১৫ টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। আরও শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যালাইনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জরুরি সমস্যায় কেউ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

  • [১]