বিশ্বজিত রায়, জামালগঞ্জ
জামালগঞ্জের মান্নানঘাট-গজারিয়া সড়কে চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম এই সড়কের বেশ কয়েকটি অংশে ভয়ংকর ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। গেল বর্ষার উপর্যপুরী বন্যা ল-ভ- করে দিয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক। এতে করে পথে পথে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন অন্তত ৩০ টি গ্রামের মানুষ। শুকনো মৌসুমে বিকল্প রাস্তায় কোনরকম চলাচল করতে পারলেও পানি বাড়ার সাথে সাথে ভোগান্তির মাত্রা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পথচারীরা। দ্রুত এই সড়ক সংস্কার ও মেরামতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জামালগঞ্জ সদর ও ফেনারবাঁক ইউনিয়নজুড়ে বিস্তৃত এই সড়কে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মান্নানঘাট থেকে গজারিয়ামুখী সড়কের সেলিমগঞ্জ বাজার সংলগ্ন অংশ ভয়ংকর ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভাঙনকৃত সড়কে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে আছে পাকা সড়কের অবশিষ্ট অংশ। পায়ে হেঁটে পাশের বিকল্প সরু সড়ক দিয়ে পথ পাড়ি দিচ্ছে মানুষ। এছাড়া সেলিমগঞ্জ থেকে গজারিয়া যেতে রামপুর ও জামলাবাজ সড়কের আরও ৪-৫টি অংশ ভেঙে বড় বড় খালে পরিণত হয়েছে। ভেঙে যাওয়া সড়কের কোন কোন পাকা অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোন কোন এলাকায় পাকা অংশ খন্ড-বিখ- হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙনকৃত এসব স্থানে এসে যাত্রীরা যান থেকে নেমে অন্যত্র ঘুরে ভাঙা অংশ পার হচ্ছেন। এই দুর্ভোগ লাঘবে যত দ্রুত সম্ভব সড়কের কাজ শুরু করার দাবি জানিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মান্নানঘাট-গজারিয়া সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক। উপজেলা সদরসহ জেলা সদরের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা এই সড়ক দিয়ে জামালগঞ্জ সদর ও ফেনারবাঁক ইউনিয়নের কালাগুজা, কাশিপুর, শরীফপুর, সৈয়দনগর, বাহাদুরপুর, শান্তিপুর, ফেনারবাঁক, সেলিমগঞ্জ, ভূতিয়ারপুর, সুজাতপুর, রামপুর, জামলাবাজ, জলিলপুর, গজারিয়া, কামদরপুর, আলীপুর, মোড়লপুর, আমানীপুর, করুণাপুর, বিষ্ণুপুর, নিধিপুর, রাজেন্দ্রপুর, তায়েবনগর, আব্দুল্লাহপুর, যশমন্তপুর, শ্রীমন্তপুর, কৃষ্ণপুর, শুকদেবপুরসহ প্রায় ৩০টি গ্রামের অর্ধলক্ষ মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে আসছেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের খানে খানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
গজারিয়া গ্রামের মোটরসাইকেল চালক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, এই সড়কে যাতায়াত করলে বোঝতে পারবেন কী কষ্ট হয়। গাড়ি চালাইতে গিয়া কতটুকু কষ্ট হয় মুখে বোঝাইয়া কওয়া যাইত না। রাস্তাটা জরুরীভাবে কাজ করা দরকার।
একই গ্রামের মোটরসাইকেল চালক মো. কালা মিয়া বলেন, সেলিমগঞ্জ থাইক্যা গজারিয়া পর্যন্ত ৬-৭টা ভাঙা আছে। গত বন্যায় ভাইঙা লইয়া গেছে সড়ক। এখন এই সড়কে চলাচল করতে মারাত্বক সমস্যা হয়। ভাঙায় গিয়া যাত্রী লামাইয়া সাইডে দিয়া লইয়া যাইতে হয়। এতে কইরা ড্রাইভার ও যাত্রীদেরও খুব কষ্ট হয়। তেল খরচও বেশি হয়। রাস্তাটা তাড়াতাড়ি ঠিক না করলে যাত্রী-চালক সবার কষ্টই দিন দিন বাড়ব।
জামলাবাজ গ্রামের মো. শহীদ মিয়া বলেন, আমাদের বাড়ির কাছেই বড় বড় তিনটা ভাঙা। এ সড়কে চলাচল করতে জনগণের যে অসুবিধা হয় সেটা কেউ না আসলে বোঝতে পারবে না। এখন পর্যন্ত এই ভাঙা সড়কের কোন কাজ হয় নি। পানি আসার আগে কাজ হওয়াটা জরুরী।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, এ সড়কের কাজের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এখনও আসেনি। তবে একটা প্রকল্পের দুই কিলোমিটার সড়কের অনুমোদন এসেছে। এখন প্রাক্কলন তৈরি করে পাঠানো হবে। এটা পাস হয়ে আসলে পরে দরপত্র আহ্বান করা হবে। তারপর কাজ শুরু হবে।
উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, দেড় কিলোমিটার কাজ এসেছে। এই দেড় কিলোমিটার কাজে আমরা প্রাক্কলন তৈরি করব। প্রাক্কলন করে আগামী অর্থবছরে অর্থাৎ পানি চলে গেলে পরবর্তীতে করতে পারব। হাওরের বাস্তবতায় তিন বা চার মাস কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। এ চার মাসে মধ্যে এই কাজ করা সম্ভব নয়।
