- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ভাটির হাওর : চাই সমস্যা বুঝে যথাযথ প্রতিকার

অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার
ভাটির হাওরে অগণিত ও অনেক বিপরীতমুখী সমস্যা। আগাম পাহাড়ি ঢলের পানি সুনামগঞ্জ প্লাবিত করেই দক্ষিণের জেলাগুলির হাওর আক্রান্ত হয়। হাওরের সর্বউত্তরের জেলা সুনামগঞ্জ তাই সুনামগঞ্জের বন্যার প্রাথমিক সমাধানই গোটা ভাটির হাওরের জন্য নিরাপত্তা। সমাধানের একমাত্র কোনো উপায় নেই, তবে প্রধান দুটি সমস্যা সমাধান করলেই ফসল রক্ষা নিরাপদ হবেই হবে। প্রথমটি হলো দুই ধাপে নদী খনন, দ্বিতীয়টি বাঁধগুলিতে ‘রাবার ড্যাম’ স্থাপন।
নদী খননের প্রথম ধাপে সুনামগঞ্জের ধরমপাশার গোমাই—কংস নদীর মুখ, জয়শ্রী থেকে সুকদেবপুর সুমেশ্বরী—সুরমার মুখ, জগন্নাথপুরে ভমভমি বাজারের কাছে ভটেরখাল—মহাসিং নদীর মুখ এই তিনটি মুখ খুলে দিলে প্রথমিক বন্যার পানি ভাটির দিকে যাবে। সেইসাথে প্রয়োজনে এই মুখগুলির আশপাশে বা উজান ভাটিতে কিছু খনন করলে পরের সার্বিক খননের ক্ষেত্রে আরও ভালো হবে। এই প্রস্তাবিত কাজটি যদি দায়িত্ব নিয়ে করা যেতো এবার ২০২২ সনের আগাম বন্যার মতো এইটুকু পানি এক দৌড়ে তৎক্ষনাৎ দক্ষিণের বড় নদীতে চলে যেতো। ‘৮০’র দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত এই তিনটি নদীর মুখ গভীর ছিলো (লঞ্চ চলতো) ফলে আগাম বন্যার উব্ধী পানি হাওরগুলিকে নিরাপদ করে এই নদীমুখ দিয়ে বড় নদীতে চলে যেতো। গত চল্লিশ বছরে উল্লিখিত নদী ও নদীমুখগুলি ভরাট হয়ে বৈশাখের আগাম পানি আটকে দেয় ফলে পানি কোনো দিকে যেতে না পেয়ে হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ঠাঁই করে নেয় আর কপাল ভাঙ্গে কৃষকের। তাই আর দেরি না করে ত্বরিত এই কাজটা করা দরকার।
দ্বিতীয় ধাপে একনাগারে একটি বা দুটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জেলার ‘প্রবাহিত ও মরা’ মিলিয়ে ৩২ নদী পর্যায়ক্রমে খনন করতে হবে। জেলা প্রশাসনকৃত ২০০২ ইং ও ২০১৬ সনে লিখিত ‘সুনামগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনা’ বইয়ে জেলার অভ্যন্তরীণ ৩২ টি নদীর দৈর্ঘ, প্রস্থ, গভীরতার বর্ণনা আছে। এই নদীগুলির বর্তমান গভীরতা ক্রমান্বয়ে ৬, ৮, সর্বোচ্চ ১০ ফুটে নেমে এসেছে যা ভাটির জেলার নদী হিসেবে মোটেও কাম্য গভীরতা নয়। নদীগুলিকে কাম্য গভীরতা অর্থ্যাৎ ষাটের দশকের গড়ে ২৫ ফুট নাব্যতায় নিয়ে গেলে টালি করে দেখা গেছে মোট ২০ বিলিয়ন ঘনফুট মাটি উঠবে। তার পাশাপাশি জেলার ১৮৬৬ বিল ও খালগুলি খনন করলে প্রায় নদী খননের সমপরিমাণ মাটি বা পলি পাওয়া যাবে। উত্তোলিত শুধু নদীর মাটি দিয়ে ৬ ফুট উঁচু ১০০ ফুট প্রস্থ লম্বালম্বি ৫৩১৩ মাইল ৮৫০০.৮ কিঃমিঃ সড়ক নির্মাণ সম্ভব। তাই এই পলিটাকে শুধু মাটি নয় সম্পদ ভেবে ভরাট কার্যক্রম করলে জেলার ২৮৮৮ টি গ্রামের যেগুলি গভীর হাওরে অবস্থিত সেগুলির চারপাশ ভরাট করে নিরাপদ করে দেওয়া যায়। হাওরের উঁচু নিচু কান্দাগুলি সমতল করে দেওয়া যায় তাতে পঁচিশ শতাংশ কৃষিজমি বাড়বে। বেড়িবাঁধ দেওয়া কান্দাগুলি স্থায়ী ভরাট করে জলজ গাছ বন লাগিয়ে দিলে হাওরে জলাভূমির প্রভূত উন্নতি হবে মৎস্য সম্পদের পরিমান হাজার গুণ বাড়বে। সেই একই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মৌলভীবাজারের মনু, কুশিয়ারা, হবিগঞ্জের খোয়াই, নেত্রকোণার মগড়া ও কংসের দুটি শাখাও খনন করা জরুরী। এছাড়াও জরুরি ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরভেদ করে মেঘনার দিকে ধাবিত নদীগুলি খনন করা অত্যাবশ্যক।
অন্য একটি মূল যে প্রস্তাব ছিলো হাওরের প্রতিটি বাঁধে মাটির বাঁধ না দিয়ে ‘রাবার ড্যাম’ স্থাপন করা। কেননা এত বছর মাটি দিয়ে বাঁধ দিতে দিতে আশে পাশের কান্দায় কাটার মতো মাটি নেই এবং কোনোদিন দূর থেকে বেশি দামে মাটি আনতে হবে। বাঁধগুলিতে ‘রাবার ড্যাম’ স্থাপন করলে আর মাটি কেটে বছর বছর বাঁধ দিতে হবে না। আর বর্ষায় বাঁধ বেড়িবাঁধের মাটি পানিতে গলে নদীর তল ভরাটও হবে না। ফসল কাটার পর ‘রাবার ড্যামে’র পাম্প ছেড়ে দিলেই ব্লাডার নিচে বসে যাবে তখন হাওরের কৃষকের নৌ—চলাচলের সুবিধা হবে।
বিভিন্ন সমস্যার আবর্তে হাওরের ব্যাখ্যা এখন হালভাঙ্গা নাবিকের মতো হয়ে গেছে। হাওর এ পর্যায়ে এসে গুচ্ছ হাওরে পরিণত হয়ে গেছে, কীভাবে ! যেমন ১০/১২ টি হাওর একত্রে এরিয়া ৩০০/৪০০ বর্গকি:মি: চারপাশে ৪/৫ টি বাঁধ একটি ভাঙ্গলে সবগুলিতে পাানি ঢুকবে, বাঁধগুলি রক্ষা হলে সবগুলি হাওর রক্ষা হবে। যাক্ সে ব্যাখ্যা অন্য লেখায় দেবো। যা বলছিলাম—— বর্তমান জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে দেওয়া তথ্য জেলার হাওরে ১৭০০ কিঃমিঃ বেড়িবাঁধ, পিআইসি ৭২৭ টি নিয়ে বাঁধের হিসাবটি গুলিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে যতগুলি পিআইসি ততগুলি বাঁধ, না, তাই বলে বাঁধ এতগুলি নয়, ৫২ টি হাওরে ১৪৩ টি বাঁধ বা জাঙ্গাল। এজিইডি’র মতে প্রতিটি বাঁধের ‘রাবার ড্যামে’ গড়ে ৩৫/৪০ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে। প্রতি বছর ১৫/২০ করে ড্যাম স্থাপন করলে ১০ বছরে প্রায় শেষ হয়ে যেতো। ‘২২ সনে সোয়া শ’ কোটি টাকা হাওরে ব্যয় হলেও বর্ষার পর দেখবেন কোনো উন্নয়ন চিহ্ন পাবেন না। তেমনি ২০১৮ থেকে ২০২১ সন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ শ’ কোটি টাকা হাওরকে কেন্দ্র করে ব্যয় ও লুটপাট হয়েছে পেলেন কোনো উন্নয়নের চিহ্ন ? না পাবেন না, চিহ্ন থাকলে তো কার্যকরী উন্নয়নই হতে।
তদ্রুপ ‘৮০’র দশকের মাঝামাঝি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কৃষকের বাঁধ রক্ষায় কষ্ট দেখে দরদী হযে তাদের দায়িত্বে বাঁধ দেওয়ার প্রস্তাব উপরে পাঠালো। পাশ হলো স্থানীয় সরকার সরকারি বরাদ্দ নিয়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ দেবে এবং অন্য একটি কনট্রাক্টার গ্রুপের মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ বাঁধে ¯¬ুইসগেট দেবে প্রস্তাব পাশ করায় । প্রত্যেক উপজেলায় ৫/৬ করে জেলার সব হাওরে প্রতিটি গেইটে তখনকার সময়ে প্রতিটি ২০/২৫ লাখ টাকায় প্রায় ৪০/৫০ টি স্লুইসগেটে ১৫/২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। কিছুদিন পর থেকেই এ প্রজেক্ট হাওরের জন্য সঠিক নয় ভুল প্রমাণিত হলো। আর হাওরের কৃষক এতদিন বুঝতে না পারলেও দীর্ঘদিন পর বুঝতে পারলো এবং পরিষ্কার হলো অর্থ লুটপাটের জন্যই ইউ/প ও টিকাদার গোষ্ঠী হাওরবান্ধব, কৃষকবান্ধব হয়ে উঠেছিল। তাদের ভুল কার্যক্রমে বেশি সমস্যায় পড়লো হাওরপাড়ের কৃষক, যখন স্লুইসগেটের জন্য হাওরে নৌকা নিয়ে চলাচল করতে পারছিলো না। কেননা হাওর এমনই এক বেসিন যেখানে পানি প্রয়োজনে আটকও করতে হবে চলাচলেরও সুবিধা রাখতে হবে। সেখানে কৃষক নৌকা নিয়ে ঢুকতে না পারলে কাজ করতে পারে না। তাই কৃষক স্লুইসগেটের পাশে বাঁধ ভেঙ্গে নৌকা চলাচলের রাস্তা করতে বাধ্য হযেছে।
আবিষ্কর্তাদের মাথা থেকে স্লুইসগেটের ভুত গেলো, আড়াই দশক পর এবং ২০১৭ সনের হাওর বিপর্যয় দেখে অনেক যোগ—বিয়োগ পূরণ—ভাগ করে পাউবো হাওররক্ষার নতুন পদ্ধতি ‘কজওয়ে’ আবিষ্কার করলো। কী সেই কজওয়ে ? ‘কজওয়ে’ হলো হাওরের বাঁধের দু’পাশে স্পার দিয়ে নিচ বা বটমটি পাকা করে জিওব্যাগে মাটি ভরে থরে থরে বসিয়ে দেবে ফসল উঠে গেলে পানি চলাচলের সুবিধার্থে সরিয়ে দেবে। আর ‘রাবার ড্যাম’ হলো বাঁধে স্পারের নিচে যে স্পেইসটা থাকবে তাতে একটি বেলুন যত ফুলিয়ে দেবে তত টাইট হয়ে বসবে। ফসল উঠলে পাম্প ছেড়ে দিলে নিচে বসে যাবে, নৌকা চলতে পারবে। এখানেও প্রতিবছর বিল—ভাউসার করার ভালোই সুযোগ থাকবে। তবে আগাম বন্যার উবধী পানির বাঁধভাঙা স্রোতে কজওয়ের ব্যাগ যখন এক ধাক্কায় অসীম দূরত্বে নিয়ে ফেলবে তখন আবার নতুন চিন্তা করবে ‘রাবার ড্যাম’ নির্মাণের কাজে মনোনিবেশ করবে। অর্থ্যাৎ হাওরকে মাধ্যম করে পূর্ণ অর্থ লুটপাটটা সেরে চিরস্থায়ী ব্যবস্থায় যাবে এটাই আমার দেশের উন্নয়ন কাজের নিয়ম। দীর্ঘবছরের অভিজ্ঞতায় হাওরে মাটির বাঁধ কার্যকর নয় প্রমাণিত হয়েছে স্লুইসগেট অনপযোগী বাকি রইলো কজওয়ে তাও অনুপযুক্ত বলে অর্ধদশকেই ফল পাওয়া যাবে। আমার হাওরে অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে উন্নয়নের এক্সপেরিমেন্ট ব্যয় ও ‘মতিন বুঝ’ দেওয়া এমনই হয়।
ডিসি সুনামগঞ্জের দেওয়া তথ্য গত চার বছর শুকনো বৈশাখে ধান উঠার পর জুন মাস পর্যন্ত হাওরে পানি আসে নাই। বাঁধ বেড়িবাঁধ ঠিকই দেওয়া হয়েছিল আদৌ আগাম পানি আসে নাই তবু বলতে শোনা গেছে পিআইসি প্রশাসন কৃষকের ফসল রক্ষা করে দিয়েছে। এবার ২০২২ সনে যে পানি নদীতে এসেছে তা খুব পানি নয় সবগুলি নদীর পানির গভীরতা মাপলে গড় গভীরতা হবে বড়জোর ৭/৮ ফুট। নদী খনন হলে গভীর হতো অন্তত ১০/১২ ফুট তাহলে তো বর্তমান নদীর পানির স্তর পাড় থেকে ২ ফুট নিচে চলে যেতো। ২ রা এপ্রিল সম্ভবত ডিসি প্রশাসনের ফেইসবুকে প্রচারিত একটি প্রজ্ঞাপন দেখে একটু মন্তব্যসহ মোবাইল নম্বর দিয়ে লিখেছিলাম। আপনার স্পিডবোটে আমাকে নিয়ে চলুন এখনই উপযুক্ত সময় ৪ ঘণ্টায় অন্তত দুটি আবদ্ধ মুখ দেখিয়ে আনবো এইটুকু আগাম বন্যার পানি কীভাবে আটকে আছে আর কীভাবে সামলানো যায়। উনি উনি কথাটি কানে তুললেন না ! আর কী বলবো ! উপরে উল্লিখিত এই যদি হয় বাস্তবতা ও পরিসংখ্যান তাহলে নদীর পাড়ে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ তো দেওয়ার দরকার পড়ে না।
হাওরের এসব উল্লিখিত উন্নয়নমূলক কাজ একটি অবস্থায় এনে হাওরের ফসল আরও পরিকল্পিত ও হাওর উপযোগী স্বল্প আয়ুর বীজ ধান সংগ্রহ করাই হবে প্রধান কাজ। ভিয়েতনাম একটি উচ্চ ফলনশীল ধান আবিষ্কার করেছে যা মোট ১০০ দিনে পাকে, আমার দেশের ‘বিনা’ ধান গবেষণ ইনস্টিটিউটও একটি ধান আবিষ্কার করেছে যা ১১০ দিনে পাকে। কিন্তু আমার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বা বিএডিসি এমনসব ধানের প্রচার ও ‘প্রদর্শনী—মাঠ’ করে কৃষককে আগ্রহ জাগাবে তাও জোরের সাথে করছে না। কৃষক বা গ্রামীণ জীবনধারার মানুষেরা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় যেসব জীবন উপকরণ আত্মস্থ করেছে এত সহজে সেটা পরিত্যাগ করে পরীক্ষিত না হলে নতুন কিছু সহজে আর গ্রহণ করতে চায় না। তার বাস্তবসম্মত কিছু কারণও আছে এর অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে। যেমন ধরুন সুপেয় পানি নিয়ে এভূখণ্ডে কত কাহিনী গ্রামীণ মানুষ দেখেছে ও সহ্য করেছে তবু দীর্ঘস্থায়ী কোনো পন্থা শিক্ষিত সমাজ দিতে পারেনি। সৌব বিদ্যুৎ যদি একটি ব্যাটারিতে ধরে রাখা যায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখার এমন কোনো পদ্ধতিও তো চিন্তা করা যায় যেহেতু এ অঞ্চলের আবহাওয়ায় প্রতি তিন/চার পর নিয়মিত বৃষ্টি হয়। ষাটের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত গ্রামের মানুষ নিজের সংরক্ষিত পুকুরের পানি পান করতো আমরা তখনকার শিক্ষিতরাও সে পানিই পান করেছি। সেই আমরাই একসময়ে গ্রামে গিয়ে সে মানুষদেরই ছবক দিয়ে বলেছি সাবধান টিউবওয়েলের পানি ছাড়া পান করবেন না। পঞ্চাশ বছরও ভালো করে পেরুলো না সেই আমরাই শিক্ষিতপনা দেখিয়ে বলছি সাবধান টিউবওয়েলের পানি খাবেন না এতে আর্সেনিক আছে নানা অসুখ হবে। কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে আধুনিক শিক্ষিত সমাজের মানুষ হয়েও এমন করলে পেছনে পরা মানুষেরা আর পত্রপাঠ বিশ্বাস করবে কেন?
তাই বলছি আমাদের হাওরের শুকনো মৌশুম মধ্য ডিসেম্বর থেকে ৩০ মার্চ বাংলা ১লা পৌষ থেকে ৩০ চৈত্র এই সাড়ে চার পাঁচ মাসে কাটা যায় এমন ধান আবিষ্কারের চিন্তা, প্রচার ও প্রসারের জন্য ‘প্রদর্শনী মাঠ’সহ আরও কার্যকরী পদক্ষেপ ‘ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট’গুলি নেবে এটাই প্রত্যাশা। আর হাওরের আদি সুস্বাদু সুগন্ধিযুক্ত শাইল জাতের ধানগুলিকে উচ্চ ফলনশীল জাতে রূপান্তর করে নতুনভাবে ফিরিয়ে দিলে হাওরের কৃষক এটাকেই স্বর্গীয় দেশ মনে করবে। লেখায় তিনটি করণীয়—— প্রথমে নদীমুখ খুলে দেওয়া, সবগুলি নদী খনন, আগাম জাতের ধান কৃষককে বাতলে দেবে। দেওয়া হবে তো ? কাজগুলি সম্পন্ন হলে নিবন্ধটি খেলা পর্যন্তই শাল্লার ছায়ার হাওরের কিষাণ—কিষাণী আভা রাণী, কানাই দাস, ডালিম কুমারের ফসল তলিয়ে জমিতে পড়ে বুকফাটা কান্নার আর্তচিৎকার এবং চন্দ্রসোনার থাল হাওরের সত্যকথা বলার দোষে মানহানির কথা শুনতে হবে না। ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন ও নিরাপদে থাকবেন। এই বলে এখানেই শেষ করছি।
লেখক— সাবেক সভাপতি, সিপিবি, সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি।

  • [১]