- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ভাড়া বাড়ায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা

স্টাফ রিপোর্টার
জহুরা বেগম। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে বাড়ি। জরুরী প্রয়োজনে সকালে তিনি তার বোনকে সাথে নিয়ে সুনামগঞ্জ এসেছেন। মোটর সাইকেল করে তাদের যাতায়াত করতে হয়। স্টেশনে এসে জানতে পারেন ভাড়া বেড়েছে। আগে নিয়মিত ৪০ টাকা করে যাতায়াত করেছেন। কিন্তু আজকে স্টেশনে এসে জানতে পারলেন ভাড়া জনপ্রতি ৬০ টাকা করে। দরকষাকষি করেও অবশেষে ৬০ টাকা করে দুইজনে ১২০ টাকা ভাড়া দিয়ে সুনামগঞ্জে এসেছেন। কাজ শেষে তিনি বোনকে নিয়ে আবার সুনামগঞ্জ আব্দুজ জহুর সেতু সংলগ্ন সড়কে সিএনজি স্টেশনে আসেন। এদিক সেদিক ছোটাছুটি করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই বাড়ি ফিরেন।
জহুরা বেগমের মতো অসংখ্য যাত্রী ভাড়া বাড়ায় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। গণপরিবহণে নতুন ভাড়া কার্যকরের প্রথম দিন রবিবার কোথাও সরকার নির্ধারিত নতুন ভাড়ার চার্ট দেখা যায় নি। সরকার কিলোমিটার হিসাবে ভাড়া নির্ধারণ করে দিলেও যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ওয়েবিল অনুযায়ী। ভাড়া বাড়ানোয় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যাত্রী সাধারণ আকষ্মিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলছেন, সুনামগঞ্জে গেল বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বাজারে জিনিসপত্রের দাম উর্ধ্বমুখী, এরই মধ্যে ভাড়া বেড়েছে। কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে নি। এটি আমাদের ওপর একটি বিশাল চাপ তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের মূল্য ভোক্তা পর্যায়ে পুননির্ধারণ করা হয়েছে। রাত ১২টার পর থেকে ডিপোর ৪০ কিলোমিটারের ভেতর ভোক্তা পর্যায়ে খুচরা মূল্য লিটার প্রতি ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা, লিটার প্রতি অকটেন ১৩৫ টাকা ও লিটার প্রতি পেট্রোল ১৩০ টাকা হবে। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে।
সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়। সেই সময় এই দুই জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ৬৫ টাকা থেকে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। ৮ মাসের ব্যবধানে আবার বাড়ানো হলো তেলের দাম। তবে ওই সময় পেট্রোল আর অকটেনের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলেরই দাম বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ফের বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং পরিবহন নেতারা বৈঠক করে নতুন এ বাস ভাড়া নির্ধারণ করেন। নতুন ভাড়া অনুযায়ী আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লা রুটে বাস ও মিনিবাসে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ৪০ পয়সা বেড়ে দুই টাকা ২০ পয়সা হয়েছে, যা এতদিন ছিল এক টাকা ৮০ পয়সা। এছাড়া ঢাকাসহ সব মহানগরে চলাচলকারী বাসগুলোতে ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ৩৫ পয়সা বেড়ে দুই টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে, যা এতদিন ছিল দুই টাকা ১৫ পয়সা। রবিবার থেকে এ ভাড়া কার্যকর হয়েছে।

‘ ভয়াবহ বন্যার পর এই ভাড়া বৃদ্ধি যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’


জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের বড়পেছি গ্রামের মুরুব্বি ইয়াবর মিয়া বললেন, আগে ৭০ টাকা ভাড়া দিয়ে সুনামগঞ্জে এসেছি। আজ হঠাৎ করে স্টেশনে এসে জানতে পারি ৯০ টাকা ভাড়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধিতে এমনিতেই আমরা চরম সমস্যায় আছি। ভয়াবহ বন্যার পর এই ভাড়া বৃদ্ধি যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’।
জগন্নাথপুর উপজেলার পাটলি গ্রামের আব্দুল হেকিম বললেন, কয়েকদিন পর পর কোন না কোন পণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু আয় তো বাড়ছে না। সকল কিছু আমাদের আওতার বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা কিভাবে চলব?
তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর এলাকার সাইফুল ইসলাম বললেন, আগে ১০০ টাকা দিয়ে সিলেট যেতাম, কিন্তু আজকে ১৪০ টাকায় টিকেট কেটেছি। হঠাৎ ভাড়া বাড়ায় আমাকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
জগন্নাথপুর এলাকার গাড়ি চালক সুমন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে আমরা ভাড়া ৭০ টাকার পরিবর্তে ৯০ টাকা করে নিচ্ছি। কর্তৃপক্ষের চার্ট হাতে আসেনি। আসলে পরে আমরা চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নেব।
জগন্নাথপুরের গাড়ির কন্ট্রাক্টর আক্কাস মিয়া বললেন, তেলের দাম বাড়ায় আমরা আপাতত যাত্রীদের কাছ থেকে ৭৫ টাকার পরিবর্তে ৮০ টাকা নিচ্ছি। তালিকা হাতে পেলে সেই তালিকা দেখে ভাড়া নেব।
সাচনাবাজার এলাকার ফতেহপুর গ্রামের ভাড়ায় চালিত বাইক চালক সজিব হাসান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় আমরা ভাড়া ২০ টাকা বাড়িয়েছি। আগে ১০০ টাকা করে নিয়েছি, এখন ১২০ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছি।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে বসে জাতীয়ভাবে নির্ধারিত ভাড়া যাতে সবাই নেয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

  • [১]