আকরাম উদ্দিন
ভাদ্র মাসে ‘তালের পিঠা’। এই প্রাচীন প্রবাদটি এখনও মানুষের মুখে মুখে। তালের পিঠা গ্রাম-গঞ্জের মানুষের ঐতিহ্যবাহী পিঠা। প্রতিবছর এই সুস্বাদু পিঠার স্বাদ গ্রাম-গঞ্জের মানুষেরা উৎসবের আমেজ নিয়ে উপভোগ করেন। এ বছর ভাদ্রের প্রথম থেকেই শহরের বিভিন্ন স্থানে পাকা তাল বিক্রি শুরু হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে পিঠা তৈরির ধুমও পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের বায়না ধরা পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত এখন পিঠাশিল্পীরা।
রসে ভরা পাকা তালের সুঘ্রাণে মাতোয়ারা করে তোলে পিঠাশিল্পীদের। তালের রস দিয়ে পিঠা তৈরি করতে সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন তাঁরা। একাধিক গৃহিনী জানান, পাকা তাল থেকে সুস্বাদু রস অতি যতেœ সংগ্রহ করেন তারা। তাল থেকে রস দু’হাতে চিবিয়ে বের করতে হয়। পরে এই রস ভাল করে আঁশমুক্ত করতে হয়। সংগৃহিত রসের সাথে নারকেল, চিনি বা গুড় এবং চালের গুঁড়ো বা ময়দা মিশিয়ে এক ধরণের সুস্বাদু পিঠা তৈরি করা যায়। রসের সাথে নারকেল, চিনি বা গুড় এবং চালের গুঁড়ো বা ময়দা মিশিয়ে গরম তেলে ভেজে তালবড়া তৈরি করা যায়। সুজি, নারকেল, চিনি বা গুড় মিশিয়ে কির তৈরি করা যায়। আবার সাবু, নারকেল, চিনি বা গুড় মিশিয়ে কির তৈরি করা যায়।একইভাবে মালপোয়া ও পাটিসাপটাসহ অন্যান্য পিঠা তৈরি করেন পিঠাশিল্পীরা।
ইব্রাহীমপুর গ্রামের পিঠাশিল্পী আঁখি বেগম জানান, গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পিঠা ‘তালের পিঠা’। এই পিঠা তৈরিতে অনেক কষ্ট হয়। অতি যতেœ পাকা তাল থেকে রস সংগ্রহ করতে হয়। সংগৃহিত রস থেকে আঁশমুক্ত করাটাই কঠিন কাজ। পরে এই রসের সংমিশ্রণে অন্যান্য পিঠা তৈরি করা যায়।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও
পাকা তাল বাজারে বিক্রির ধুম পড়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে এখন পাকা তাল বেচাকেনা শুরু হয়েছে। এ বছর শুধু স্থানীয় এলাকার তাল বাজারে আসেনি, এবার জেলার বাইরে থেকেও তাল এসেছে। ঢাকা ও ময়মনসিংহের তাল এখন সুনামগঞ্জের বাজারে। বড় আকারের এই তাল প্রতিটি ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় তাল বড় আকারের প্রতিটি ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব তাল শহরের থানার সামনে, জগন্নাথবাড়ি এবং বালুরমাঠ এলাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়াও সবজি বিক্রেতারা ফেরি দিয়ে ঘুরে ঘুরে বাসা-বাড়িতে তাল বিক্রি করছেন।
সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ডলুরা গ্রামের তাল বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর আমি তাল বিক্রি করি। তালের দাম গত বছর যেমন ছিল এবারও এমনই।’
সদর থানার পূর্ব কোণের ফল বিক্রেতা আব্দুল আজিজ বলেন, ‘এবার স্থানীয় তাল বিক্রির পাশাপাশি জেলার বাইরে থেকেও বড় আকারের তাল নিয়ে এসেছি। এবারও তাল ভাল বিক্রি হচ্ছে।’
বালুর মাঠ এলাকায় ফল বিক্রেতা নুরুল হক বলেন, ‘তাল বিক্রি বাড়বে মানুষ পিঠা তৈরি করে যদি একবার তালের স্বাদ উপভোগ করে, তখন বার বার তালের পিঠা খেতে চাইবে। তখন তাল বেশি বিক্রি করা যাবে।’
শহরে ফেরি দিয়ে তালের পিঠা বিক্রেতা রঞ্জিত বর্মণ বলেন, ‘আমি এবার তালেরবড়া তৈরি করে বিক্রি করছি। তালের বড়া বিক্রিও ভাল হচ্ছে। আমার তৈরি তালের বড়া যারা একবার খেয়ে যান তারা আবারও খেতে আসেন।’