- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ভারী বৃষ্টিপাতে কৃষকের বুকে কাঁপন তৈরি হয়েছে

চৈত্র মাসে বর্ষা মৌসুমের মতো অঝোর বর্ষণ হচ্ছে। সপ্তাহখানেক যাবৎ থেমে থেমে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বোরো ধানের চারাগুলো বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে হাওরে। হাওর থেকে পানি বেরোচ্ছে ধীর গতিতে। এদিকে হাওর রক্ষা বাঁধগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় নি। বিভিন্ন জায়গায় এখনও শেষ হয়নি বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কারের কাজ। একটি আগাম বন্যার আশংকা করা হচ্ছে এবার। এজন্য কৃষকদের মুখে রাজ্যের অন্ধকার। সারা বছরের প্রচেষ্টায় একটি মাত্র ফসল ফলান তাঁরা। বোরো ফসল। ভাটি এলাকায় বোরোর বাইরে বিকল্প আর কোন ফসল নেই। কৃষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন মাঠের ফসল নিয়ে। পাহাড়ি ঢল নামলে হাওরগুলো তলিয়ে যাবে। বৃষ্টির জমে থাকা পানি আরও কিছুদিন ধানের গুড়ায় জমে থাকলে ধান গাছগুলো পঁচে যাবে। এখন বেশি ফলন লাভের আশায় কৃষকরা উন্নত ফলনশীল ধান চাষ করে থাকেন। একারণে ধানের কাটাই মৌসুম সনাতনী বোরো মৌসুমের চাইতে কমপক্ষে ১৫ দিন পিছিয়ে গেছে। আগে যেখানে চৈত্রের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে বৈশাখের মাঝামাঝি সময়েই ফসল কাটা শেষ হয়ে যেত এখন সেখানে কাটা শুরুই হয় বৈশাখের মাঝামাঝি সময় থেকে। এতে করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে অতিবর্ষণ, অতি খরা, শিলাবৃষ্টি এমনসব দুর্যোগের পরিমাণ বেড়েছে। বাংলাদেশের ষঢ় ঋতুভিত্তিক আবহাওয়ার  আচরণে গত কয়েক দশক ধরে যে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে এখন সেটি তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিবর্তিত আবহাওয়ার আচরণের সাথে সংগতি রেখে আমাদের ফসল মৌসুম সমন্বয় করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমের জন্য চরম বিপর্যয় তৈরি করতে পারে বলে অতি সাধারণভাবে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। কৃষিকে গৌণ অবস্থানে রেখে বাংলাদেশের টেকসই কিংবা স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের চিন্তা করা বাতুলতা মাত্র। পৃথিবীর জলবায়ুর যে পরিবর্তন হচ্ছে তার সাথে খাপ খাইয়ে আমাদের কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমকে সমন্বিত করা তাই অতি জরুরি কর্তব্য হয়ে পড়েছে। আমাদের কৃষি বিশেষজ্ঞ বা এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো কি বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন?
বাঁধের কাজে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের বিষয়ে এবার জেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। হাওরবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনীতিকরা এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার হয়েছেন। একজন সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে আলোচনা করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এতসব প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে বাঁধ নির্মাণের কাজে জড়িত ঠিকাদার, পিআইসি, পাউবো কতটুকু সংশোধন হয়েছেন তার সঠিক কোন হিসেব নেই। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখে কৃষকদের বুক যেভাবে কাঁপছে তাতে মনে হয় কৃষকরা আসলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্মাণ করা বাঁধগুলোর উপর ভরসা করতে পারছেন না। অস্থায়ী বাঁধের পরিবর্তে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য হাওর বিশেষজ্ঞরা নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বেশ আগে থেকেই। প্রযাত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত এ বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন। মৌলিক এই জায়গায় নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয় নি বলেই আপাত দৃষ্টিতে আমাদের মনে হয়। তবে বাঁধের বিকল্প হিসেবে রাবারড্যাম নির্মাণ করার একটি মডেল ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। রাবারড্যাম যদি হাওরের পানি রুখতে পারে তাহলে এইটিকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।  
পরিশেষে চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে হাওরের অবস্থা সার্বক্ষণিক তদারকিতে রাখার জন্য আমরা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।    

  • [১]