ইকবাল কাগজী
(পূর্ব প্রকাশর পর) প্রকৃতপ্রস্তাবে মানুষের জ্ঞানের রাজ্যে বিচ্ছিন্নতা ব্যাপক বিস্তৃত একটি প্রপঞ্চ । এই ব্যাপক বিস্তৃত বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে, এই যাকে বলে, ভাসাভাসা কিংবা দায় সারা গোছের যেনতেনপ্রকারেণ একটা ধারণা নিয়ে নিশ্চায়ক মীমাংসা উপস্থিত করা, আর যাই হোক, অন্তত সুবিবেচনার কাজ হবে না। বিচ্ছিন্নতার ব্যাপকতা কতোটা প্রলম্বিত তার একটা ধারণা চাই। একটা উদাহরণ দিচ্ছি। “কিন্তু পুঁজিবাদের পরিস্থিতিতে ব্যক্তি-মালিকানার আধিপত্য মানুষের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য ব্যাপক ব্যবস্থা অবলম্বনে বাধা দেয়, আর একচেটিয়াপতিদের মুনাফার তাড়নায় ছারখার হয় প্রাকৃতিক সম্পদ।” (আ. ন. ইয়াকভলেভ ও অন্যান্য, রাজনীতির মূলকথা, অনুবাদ : ননী ভৌমিক, প্রগতি প্রকাশন মস্কো, ১৯৭৫, পৃষ্ঠা : ২৮-২৯)। উপর্যুক্ত বাক্যটিতে ধারাবাহিক বিযুক্তি কিংবা বিচ্ছিন্নতার প্রাপঞ্চিক বয়ার্ণনা (বয়ান+বর্ণনা) প্রকটিত হয়েছে। ‘মালিকানার আধিপত্য বিস্তার’, ‘মানুষের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বাধা প্রদান’ ও ‘প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিসাধন’ এই তিনটি ক্রিয়া বিযুক্তির তিনটি উদাহরণ। ব্যক্তি-মালিকানার আধিপত্য প্রথমেই সমাজকে মালিকানা থেকে বিযুক্ত করে (সমাজিক মালিকানাকে ব্যাহত করা), মালিকানার বিযুক্তি মানুষের পরিবেশকে সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা থেকে আলাদা করে, সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদকে পৃথক করে প্রকৃতিগত সুস্থিতি থেকে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুস্থিতির বিনষ্টি প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য থেকে বিছিন্ন হয়ে প্রকারান্তরে পৃথিবী জীবন থেকে বিচ্ছিন্নতার সম্মুখিন হয়। আমরা জানি বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যেই পৃথিবীকে মৃত্যুপথযাত্রী একটি গ্রহ হিসেবে ঘোষণা করছেন, অর্থাৎ ভবিষ্যতের কোনও এক সময় অবশ্যই মানবজাতিকে গ্রহান্তরে অনিবার্য নির্বাসনে যেতে হবে। মানবজাতির গ্রহান্তরে নির্বাসন একটি মহাজাগতিক বিযুক্তি। এখানে একটি বিযুক্তি আর একটি বিযুক্তিকে অনিবার্য করে তোলে একটার পর একটা বিযুক্তি তৈরি করেছে। প্রকৃতপ্রস্তাবে সমাজে বিযুক্তির প্রপঞ্চটি এতো ব্যাপক যে, কেউ কেউ মনে করেন, বিযুক্তির একটি বয়ান যা, বিশ্বব্রহ্মা-সহ মানুষের ইতিহাসও তাই। অর্থাৎ মোটামুটি বিযুক্তি কিংবা বিচ্ছিন্নতার একটি বয়ান তৈরি করা আর বিশ্বের ইতিহাস বিনির্মাণ সমার্থক।
উপরের ভাষ্যরচনায় বিচ্ছিন্নতার একটি নেতিবাচক ব্যাপকতার বয়ান পাওয়া গেলো। এবার বিচ্ছিন্নতার ব্যাপকতার একটি ইতিবাচক ভাষ্য উদ্ধৃত করছি, যেখানে বিচ্ছিন্নতার ব্যাপকতা, এই যাকে বলে, যৎসামান্য হলেও উপলব্ধি করা যায়। ‘নতুন দিগন্ত’র সম্পাদকীয়তে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর বয়ান প্রস্তুত করে লেখা হয়েছে, “সামাজিক মালিকানা ব্যবস্থায় মানুষের সৃষ্টিশীলতা অবারিত হবে, প্রাচুর্য দেখা দেবে বিশ্বজুড়ে, মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং মানুষের সঙ্গে উৎপাদনের ও প্রকৃতির বিচ্ছিন্নতা দূর হবে, অবসান ঘটবে অভাব ও সংঘাতের, যুদ্ধ পরিণত হবে অতীত ইতিহাসে; মানুষের উৎপাদিকা শক্তিকে পুঁজিবাদীরা উন্নতির যে স্তরে নিয়ে গেছে সেখান থেকে সে চলে যাবে উন্নততর এক স্তরে। থাকবে সৃজনশীলতার বিপুল অবকাশ। প্রয়োজনের জগৎ থেকে মানুষ চলে যাবে স্বাধীনতার জগতে।” (সম্পাদকীয়, নতুন দিগন্ত, ষোড়শ বর্ষ চতুর্থ সংখ্যা, সমাজ-রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র, জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৮, পৃষ্ঠা : ০৯।) এইটুকু পড়ার পর মনে হয়েছে, জীবনের সবটুকু থেকেই জীবনভর বঞ্চিত থেকে গেলাম। জীবনটা একটা বিচ্ছিন্নতার কৃষ্ণবিবর (ব্লাক হোল)। এই বিবরের স্রষ্টা পুঁজিবাদ। এই গুহায় সম্পদের প্রাচুর্য, মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের একাত্মতা, মানুষের সৃষ্টিশীলতার স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ইত্যাদির কোনওটাই নেই। পুঁজিবাদের তৈরি করা সমাজবাস্তবতার সবটাই ফাঁকা। মানুষ হিসেবে এখানে আমি সত্যিকার অর্থেই মানুষের উৎকর্ষতা থেকে বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন একটি অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা মানুষ। এখানে বৈজ্ঞানিকরা প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে নিজেদের ইচ্ছা, কল্পনা ও কর্মকে স্বাধীনভাবে কাজে লাগিয়ে সর্বমানবের জন্য শ্রেয় সৃষ্টির স্রষ্টা হতে পারেন না, মানুষ হিসেবে মানবিক উৎকর্ষতা অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন এবং প্রকারান্তরে অবমানব হয়ে উঠেন। তাঁরা তৈরি করেন মানবসভ্যতার জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অকল্যাণকর ও অসুন্দর মারণায়ুধ অ্যাটমবোমা, অ্যাটমবোমার পর তৈরি করেন অ্যাটমবোমার চেয়েওে হাজার হাজার গুণ বিধ্বংসী ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন বোমা। বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীরা এখানে পুঁজির দাস, তাই বিজ্ঞানীদের সৃষ্টি মানুষের জন্য শ্রেয়তা ও আনন্দের উৎস না হয়ে ভয়ঙ্কর আতঙ্কের উৎস হয়ে উঠে। কিন্তু মানুষের সৃষ্টিকে হতে হবে সুন্দর, সৌন্দর্যমণ্ডিত সৃষ্টিই শিল্প রূপে স্বীকৃত। সৃষ্টি যখন কৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে তখন সেটার শিল্পমর্যাদাচ্যুতি ঘটে। হাইড্রোজেন বোমা তো পৃথিবীতে তৈরি করাই আছে। এবংবিধ মারণাস্ত্রের চেয়ে সর্বার্থে অধিক কৌন্দর্যসম্পন্ন কোনও সৃষ্টির সম্মুখিন যেনো মানবসভ্যতাকে আর হতে না হয় কোনওদিন। এমন বিচ্ছিন্নতা চাই না পৃথিবীর।
বলতে কোনও দ্বিধা নেই যে, বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে প্রগাঢ় ও গভীর আলোচনা তো দূরের কথা, আলোচনার সূত্রপাত করতে যে-যৎসামান্য জ্ঞান অপরিহার্য, সেটাও বোধ করি আমার নেই। এইটুকু স্বীকার করে নিয়েই বলছি, বিচ্ছিন্নতাকে যে-ভাবে উপলব্ধি করেছি, যদিও সেটা একান্ত ব্যক্তিগত, তার একটা বয়ার্ণনা (বয়ান+বর্ণনা) যেনতেনপ্রকারেণ ‘ভাষাসাংস্কৃতিক’ পরিপ্রেক্ষিতের পরিসর বিবেচনার নিরিখে বিবৃত করেছি মাত্র এবং প্রসঙ্গান্তর যে ঘটেনি এমনও নয়। সঙ্গত কারণেই সেটা ভাসাভাসা, ভীষণ ফিকে ও জলো হওয়াই স্বাভাবিক, তদুপরি মূর্তনির্দিষ্ট অভীষ্টানুসারিও হতে পারে নি। প্রসঙ্গের বিচ্ছিন্নতা বরাবর থেকেই গেছে। এইটুকু অবিমৃষ্যকারিতার জন্য ক্ষমা চাই।
বিচ্ছিন্নতার প্রপঞ্চটি যৎপরোনাস্তি ব্যাপক ও জটিল, সহজ কথায় সহজে বুঝানো প্রায় অসম্ভব। বিচ্ছিন্নতা বলতে বুঝাতে পারে, কোনও নির্দিষ্ট মূর্তবিমূর্ত বস্তুরÑ অর্থাৎ যে-কোনও ভৌতসত্তা, কল্পমূর্তি, চিত্রকল্প, কিংবা সামাজিক, আর্থনীতিক, রাষ্ট্রনৈতিক, দার্শনিক কোনও প্রপঞ্চ ইত্যাদির- ব্যক্তি বিশেষের চেতনায় অচেনা হয়ে পড়া, প্রচ্ছন্ন কিংবা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াকে। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক বিন্যাসের নিরিখে পুঁজিবাদ সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণ এরকম “পুঁজিবাদের নিয়ম এই যে অন্য সবকিছুকে হটিয়ে দিয়ে সে মুনাফা খুঁজবে, এবং যতো মুনাফা পাবে ততোই মুনাফালোভী হয়ে উঠবে। মুনাফার উন্নতিকেই প্রচার করতে থাকবে দেশের ও দশের উন্নতি বলে। যদিও উন্নতিটা দেশের নয়, ব্যক্তির; দশের নয় একের।” (সম্পাদকীয়, নতুন দিগন্ত, ষোড়শ বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা এপ্রিল-জুন ২০১৮, পৃষ্ঠা : ০৭)। এখানে প্রথমত অন্য সবকিছুকে হটিয়ে দেওয়া, দ্বিতীয়ত মুনাফার উন্নতিকে দেশের ও দশের উন্নতি বলে প্রচার করা ও তৃতীয়ত ব্যক্তি বিশেষের উন্নতিকে দেশের ও দশের উন্নতিরূপে প্রতিপন্ন করা ইত্যাদি মিলেমিশে প্রকারান্তরে জনমানসে বিচ্ছিন্নতার প্রপঞ্চ তৈরি করছে। এই বিচ্ছিন্নতার নিহিতার্থ একটাই, মানুষের চেতনায় অধ্যাস (যা যা নয় তা, অর্থাৎ এক বস্তু অন্য বস্তুরূপে প্রতিপন্ন হওয়া) সৃষ্টি করা। একটি ঐতিহাসিক অধ্যাসের মূর্তনির্দিষ্ট উদাহরণ হলেন প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়া। তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক হয়ে উঠা একটি বিখ্যাত ঐতিহাসিক বিচ্ছিন্নতা এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে, জাতিসত্তার বাঙালি থেকে বাংলাদেশিতে রূপান্তরপ্রকরণ। একজনের বিশ্লেষণ এরকম, “তিনি (জিয়া) যা বললেন তার সারমর্ম হল নবসৃষ্ট বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সীমানার অধিবাসী আমরা, তাই আমাদের জাতীয়তা বাংলাদেশী, অন্য কথায়, এ দেশের মানুষের বাঙালিত্ব ১৯৭১ সালে হঠাৎ গজিয়ে উঠেছে, এর প্রাচীনতর কোনও ভূমিকা নেই, উৎস নেই, স্মৃতি নেই। কিন্তু লক্ষণীয় ব্যাপার একই ব্যক্তি আবার ধর্মনিরপেক্ষতাকে সংবিধান থেকে মুছে দিচ্ছেন। এটা মুসলমানের দেশ বলে তিনি আমাদের বাংলাদেশী করেছেন? উপজাতিরা ? ওদের কি ধর্ম নেই? ধর্মনিরপেক্ষাতা বাদ দিলেন কেন? সুতরাং আমরা বুঝবো এটা একটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রশূলক সিদ্ধান্ত। তার নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য, আপাতত সাফল্যের জন্য, মুক্তিযোদ্ধা হয়ে এ কাজটি তিনি করে গেছেন।” (খান সারওয়ার মুরশিদ : জিয়াউর রহমান আমার সঙ্গে এক ব্যক্তিগত আলোচনায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি বাঙালির আসক্তিকে রূঢ়ভাবে দায়ী করেন, সাক্ষাৎকার, পুনর্মুদ্রণ : আর্টস- বিডিনিউজ২৪.কম, এডমিন- ১৭ জানুয়ারি ২০২০।)
বিচ্ছিন্নতা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অবধারণায় স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং সমাজবাস্তবতার পরিসরে এইসব বিচ্ছিন্নতার বিভিন্ন নামপরিচয় থাকে। হতে পারে সেটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের অপূর্ব সৃষ্টি ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’, যেখানে মিত্রতার লেশমাত্র নেই, তারপরও সেটা একটা মিত্রতা। বিচ্ছিন্নতার হাজার হাজার উদাহরণ আছে মানুষের ইতিহাসের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। এই সমাজ ও সমাজবাস্তবতার সম্পূর্ণটাই একটা অনস্তিত্বের অস্তিত্বশীলতার আড়ং। এখানে বিচ্ছিন্নতা বড়বেশি বহুরূপী। সহজে চেনা যায় না, গিরগিটির মতো রঙ বদলায়। তার কতো প্রকার, কতো মুখোশ। যেমন : উপনিহিতকরণ, গচ্ছিত রাখা। অর্থাৎ যখন বাঙালি মুসলমান ‘জল পান’ না করে ‘পানি পান’ করেন, ‘নদী নিসর্গ’র বদলে নামকরণে ‘রিভার ভিউ’ ব্যবহার করা হয়, স্বসম্পত্তি অন্যের সন্নিকটে হস্তান্তরিত হয় তখন যথাক্রমে ‘জল’, ‘নদী নিসর্গ’ ও ‘সম্পত্তি’ হতে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্য, অপর কিংবা পর হয়ে যাওয়া, বিচ্ছেদ ইত্যাদিও বিচ্ছিন্নতার উদাহরণ। ‘আমারই বঁধুয়া আন বাড়ি যায় আমারই আঙিনা দিয়া’ কবির এই উচ্চারণ নারী থেকে পুরুষের বিচ্ছিন্নতাকে প্রকটিত করে মাত্র। কবির এই উচ্চারণের ভেতরে মানুষের যৌনতার বিচ্ছিন্নতা আভাসিত হয়েছে। এই বিচ্ছিন্নতার প্রকট প্রকাশ ঘটে যখন একজন বঙ্গললনা (তাঁর নাম প্রিয়ম্বদা দেবী) বলেন, “গৃহপ্রাচীর-অভ্যন্তরে আবদ্ধ রাখার ফলে যৌন-নির্বাচন ক্ষেত্রের স্বাধীনতা ও স্বাধীকার হইতে বঞ্চিত করায় তাহাদের [নারীদের] স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যের হানি করা হইয়াছে।” (উদ্ধৃত ॥ পার্থ বসু, ব্যর্থ রাতের তারা, দেশ : ২৫ জানুয়ারি ১৯৯৭, ৬৪ বর্ষ সংখ্যা ৬, পৃষ্ঠা : ১০৬, স্তম্ভ : ৩)। এই প্রিয়ম্বদা দেবীর উত্তরসূরি তসলিমা নাসরিনের নির্বাসিত জীবনটাও একটা বিচ্ছিন্নতা, স্বাভাবিক যৌনতায় প্রত্যাবর্তনে মানুষের সংগ্রামের তিনিও একজন পথিকৃত। ভুলে গেলে চলবে না, আন্তর্জালে বিবস্ত্রতা ও মুক্তযৌনতার বিস্তৃতি তারই পথ পরিষ্কার করছে, পুঁজির প্রভুত্বকে অবহেলা করে কেউ রোধ করতে পারছে না এবং বোধ করি পারবেও না।
(চলবে)