স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘনকুয়াশার কারণে আকাশ মেঘলা এবং কমছে তাপমাত্রা। মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘনকুয়াশা পড়ছে। ভারতের মেঘালয়ের পাশে এই জেলা হওয়ায় শীত অন্যান্য অঞ্চল থেকে একটু বেশি বলছেন মানুষজন।
শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে শীতের গরম কাপড় বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে। রিক্সা চালক থেকে দিনমজুর সবারই নির্ভরযোগ্য জায়গা ফুটপাত। নি¤œ আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্য আয়ের মানুষের প্রথম পছন্দ ফুটপাত। শিশু থেকে শুরু করে ৬০ বছরের বয়ষ্ক ছুটছেন এই দোকানগুলোতে। পছন্দের কাপড়টি সাধ্যের মধ্যে কিনতে পেরে স্বস্তির হাসি ফুটছে অনেকের মুখে। গত কয়েক দিনে এমন চিত্র দেখা গেছে শহরের ফুটপাতের দোকানগুলোতে। বেচা বিক্রি ভালো হচ্ছে বলে জানালেন ফুটপাতের কাপড় বিক্রেতারা।
সরজমিনে দেখা যায়, শহরের পুরাতন কোর্ট পয়েন্ট, জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, পৌর মার্কেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, নতুন কোর্টের সামনে ও আব্দুজ জহুর ব্রীজের পাশে ফুটপাতে বসেছে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ দোকান। অনেক দোকানী ভ্যানগাড়ী করে বিক্রি করছেন গরম কাপড়। সারাদিন দোকানে মানুষের উপছে পড়া ভিড়। পঞ্চাশ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পাঁচশত টাকায় বিক্রি হচ্ছে এসব গরম কাপড়।
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. আব্দুল জলিল। দিনমজুরের কাজ করে পরিবার চালান। শীত পড়ায় শহরে এসেছেন গরম কাপড় কিনতে। তিনি বলেন, শহরে এসেছি শীতের কাপড় কিনতে। মার্কেটে গিয়েছি প্রথমে। অনেক দাম। তাই ফুটপাতের দোকানে এসেছি। একটি জ্যাকেট নিয়েছি।
দিন মজুর মহারাজ বলেন, এই কয়েকদিনে প্রচুর শীত পড়েছে। সকাল-সন্ধ্যা কুয়াশা পড়ে। সকালে শীতের জন্য কাজে যেতে পারি না। ফুটপাতের দোকান থেকে ভালো ভালো শীতের কাপড় পাওয়া যায়। দামও কম। আমার জন্য জ্যাকেট কিনবো। পছন্দ হয়েছে। দামে হলে নিবো।
তাহিরপুরের বাসিন্দা রবিউল আলম রবি বলেন, আমাদের মধ্যবিত্তের এবারের কেনাকাটা এই ফুটপাত থেকেই হবে। মহামারি করোনা যে ক্ষতি করেছে তা পোষাবার নয়। ফুটপাতের কাপড়ের মানও ভালো, দামও কম। পরিবারের সবার জন্য কিছু গরম কাপড় কিনবো।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার অক্ষয় নগর গ্রামের বাসিন্দা রুকুন উদ্দিন। শহরের ডিএস রোডে শহীদ মিনারের পাশে কাপড়ের দোকান তার। তিনি বলেন, নভেম্বর মাসে ব্যবসা হয়নি। কিন্তু ডিসেম্বর মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে শীতের কাপড় বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। শীতও পড়েছে। কি ধরণের শীতের পোষাক মানুষ কিনছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিশুদের কাপড়, মেয়েদের সুয়েটার ও ছেলেদের জ্যাকেটের চাহিদা বেশি।
ফুটপাতের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, মার্কেট থেকে আমরা অনেক কম দামে শীতের কাপড় বিক্রি করছি। এজন্য এতো মানুষের ভিড়। সামনের মাসে আরো বাড়বে।