- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ভুয়া ভাউচারে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাওয়া

ধর্মপাশা প্রতিনিধি
প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ অনুযায়ী অখিল সরকার নামে এক ব্যক্তি ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের মাসকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (মধ্যনগর ক্লাস্টার) কক্ষ, বারান্দা, আঙিনা ও বাথরুম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে ১ হাজার করে চারবারে ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু মাসকান্দা গ্রামে অখিল সরকার নামের যে দুজন ব্যক্তি রয়েছেন তাদের সাথে বলে জানা যায়, দুজনের কেউ-ই সেই টাকা পাননি। এমনকি তারা কখনওই বিদ্যালয় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজও করেননি। অথচ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় চন্দ্র সরকারের স্বাক্ষরিত চারটি প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ দেখিয়ে চার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোনো অখিল-ই যেহেতু সেই টাকা পাননি তাহলে ওই টাকা প্রধান শিক্ষক আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ করাই যায়। কিন্তু প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, তিনি ওই টাকার ব্যাপারে কিছুই জানেন না। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে চার হাজার টাকা কে হাতিয়ে নিয়েছেন?
জানা গেছে, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ১৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্কুল সেক্টর রেসপন্স (সিএসএসআর) প্রকল্পের অধীনে সুরক্ষা সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ৫৮ লাখ ২০ হাজার বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩০ হাজার টাকার মধ্যে গত বছর প্রতি বিদ্যালয়ে ১২ হাজার টাকা করে ছাড় দেওয়া হয়। এবার ১৮ হাজার টাকা প্রতি বিদ্যালয়ের বিপরীতে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মালামাল ক্রয়ের কথা থাকলেও সেটি করা হয়নি বলে জানিয়ে চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন মাসকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় চন্দ্র সরকার। তিনি জানালেন, মালামাল ক্রয়ের জন্য মধ্যনগর উপজেলার কয়েকজন শিক্ষক নেতাদের নিয়ে টিম (সিন্ডিকেট) গঠন করা হয়। টাকা উত্তোলন করে টিমের হাতে টাকা দিয়ে দিতে হয়েছে। পরে টিমের পক্ষ থেকে মালামাল ক্রয় করে বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। আর পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বাবদ অখিলের ৪ হাজার টাকা টিমের পক্ষ থেকে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। তিনি আরও জানালেন, এ টিমের নেতৃত্ব দিয়েছেন খালিসাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলম, সাড়ারকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভূপতি রঞ্জন তালুকদারসহ আরো কয়েকজন।
সরেজমিন একাধিক বিদ্যালয়ের মালামাল ক্রয়ের ভাউচার অনুসন্ধ্যান করে দেখা যায়, প্রতি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত এবারের ১৮ হাজার টাকার মধ্যে ১৪ হাজার টাকার মালামাল ক্রয় করা হয়েছে। আর ৪ হাজার টাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বাবদ পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভাউচারে ব্যবহার করা একাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সাথে যোগাযোগ করে দেখা যায়, তারা কেউ সেই টাকা পাননি। কৌশলে মধ্যনগর ক্লাস্টারের ৮৫টি বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোনো কোনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা সিন্ডিকেটের পকেটস্থ হয়েছে।
বাট্টা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল সরকার বলেন, ‘চার হাজার টাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রমোদ বিশ্বাসকে দেওয়া হয়েছে।’ কিন্তু প্রমোদ বিশ্বাস জানিয়েছেন তিনি কোনোদিন বিদ্যালয় পরিস্কার করেননি। এমনকি তাকে প্রধান শিক্ষক মৃদৃল কোনো টাকা পয়সাও দেয়নি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তার নাম ব্যবহার করায় তার সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।
সরেজমিন বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসব তথ্য যাচাই করতে গেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রঞ্জন তালুকদার জানান, ভাউচার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে রয়েছে। আর সভাপতি নুরুজ্জামান জানালেন, তাঁর কাছে ভাউচার নাই। ভাউচার প্রধান শিক্ষকের কাছে আছে।
সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য খালিসাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাধন শিক্ষক রাশিদ আলম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন, তিনি এ টিম বা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত নন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মানবেন্দ্র দাস বলেন, ‘সিএসএসআরের মালামাল সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্রয়ের নিয়ম রয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা ক্রয়ের সুযোগ নেই। আর এমনটি হয়েছে কি না জানি না।’

  • [১]