- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ভূমিকম্পের ক্ষতি রোধে মাটি পরীক্ষা করে ভবন নির্মাণের অনুমতি

সু.খবর ডেস্ক
ভূমিকম্প থেকে জানমাল রক্ষায় সতর্কতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে সারাদেশে একই দিনে মহড়াসহ বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী শ্রমঘন এলাকায় মাটি পরীক্ষা করে ভবন নির্মাণে পাইলিং ঠিক করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। বাংলাদেশ ‘বড় ধরনের ভূমিকম্প’র ঝুঁকিতে থাকা এবং ছোটখাট ভূকম্পন অনুভূত হওয়ার মধ্যে এ কথা জানালো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।  
অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) রিয়াজ আহমেদ বলেন, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ শ্রমঘন এলাকায় রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) সহায়তায় মাটি পরীক্ষা করবো।  
‘এরপর ভবনের জন্য কোথায় কতটুকু পাইলিং করতে হবে, বিল্ডিং কোডের জন্য তা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে,’ জানান তিনি।
তিনি বলেন, ভূমিকম্প মোকাবেলায় সারাবছর ধরে মহড়া করছি এবং আবার করবো। ভূমিকম্প সচেতনতায় করণীয় সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেবো। বিল্ডিং কোড যেন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়- সে বিষয়ে সচেতনতা করা হবে।
ভূমিকম্পের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আগামী মাস থেকে চালু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সিটি করপোরশেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর, ফায়ার ব্রিগেড, আরবান স্বোচ্ছাসেবকদের এই কর্মসূচিতে নিয়ে আসা হবে।
নেচার জিওসায়েন্স জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যে ভূ-গঠন কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে তাতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুটি গতিশীল ভূ-গাঠনিক প্লেট পরস্পরের ওপর চেপে বসতে থাকায় সেখানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের গবেষকরা বাংলাদেশকে ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
এরই মধ্যে গত মঙ্গল-বুধবার বাংলাদেশে ভূমিকম্পন দেখা দেয়, যার মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ ও রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৮। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৫৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমারের চাউক অঞ্চলে; কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের ৮৪ কিলোমিটার গভীরে।
বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে বিশাল সংখ্যক মানুষ আশ্রয়হীন হবে সেজন্য এ বছর ৬০ কোটি তাবু কেনা হয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, আমরা আড়াইশ’ কোটি টাকার ভারী যন্ত্রপাতি কিনেছি। আরও কেনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (ভূমিকম্প) মো. মহসীন জানান, যেহেতু ভূমিকম্পের পূর্ব কোনো সতর্কতা নেই, সেজন্য আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি চলছে।
ভূমিকম্প মোকাবেলায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় মহড়া করছি জানিয়ে যুগ্ম-সচিব বলেন, সারাদেশে মহড়া করার চেষ্টা চলছে।
‘মহড়ার আওতায়: এক মিনিট বা তিন মিনিট বা পাঁচ মিনিট সারা দেশ থমকে যাবে। যে যেখানে আছেন সেখানে থেমে যাবেন। গাড়ি-ঘোড়া চলবে না। ঘরের মধ্যে থাকলে বিমের কাছে দাঁড়াবেন, স্কুলে থাকলে নির্দিষ্ট স্থানে থাকবেন।’
দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও এই কর্মসূচিকে অনেক বড় জানিয়ে মো. মোহসীন বলেন, এটি নিয়ে ব্যাপক প্রচার চলবে। অনেক কাজ করতে হবে।
কর্মসূচির মধ্যে একটি বড় ভবন তৈরি করার পরিকল্পনা সরকারের আছে জানিয়ে যুগ্ম-সচিব বলেন, যাতে ৮-১০ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও সেখান থেকে মনিটর করা যায়।
ভূমিকম্প হলে এবং উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার জন্য উদ্ধার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে বলে জানান মো. মোহসীন।
ভূমিকম্পের সময় অটোমেটিক বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ যাতে বন্ধ হয় সেজন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ চলছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মহড়া নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে বলে জানান যুগ্ম-সচিব।
পাশাপাশি ভূমিকম্পের সচেতনতামূলক বার্তা রেডিও-টেলিভিশনে প্রচারের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রণালয়ের এই কর্মকর্তা।
ভূমিকম্প নিয়ে সহযোগী-দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গেও বসবেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারাও জনগণকে সচেতন করতে আগ্রহী।

  • [১]