সু.খবর ডেস্ক
ভূমি ব্যবস্থাপনায় হয়রানির কথা জানালেন মন্ত্রী নিজেই। ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ভূমি ব্যবস্থাপনায় হয়রানির কথা জানিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি নিজের বাব-দাদার জমি ওয়ারিস হিসেবে জমা খারিজ করতে যায় তাহলে বোঝা যায় কী পরিস্থিতি এখনো বিরাজ করছে।’ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ‘দেশের উপজেলা পর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) গণের অনুকূলে গাড়ি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ভূমিমন্ত্রী জানান, ভূমি ব্যবস্থাপনায় এক সময় চরম স্থবিরতা ছিল। সেটা থেকে আমরা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি। আমাদের মন্ত্রণালয়ের লোকজন এখন অ্যাকটিভ হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আগে এই ক্ষেত্রটিকে ডাম্পিং স্টেশন মনে করা হতো। কিন্তু এখন আর সেই পরিস্থিতি নেই। মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষ জমি মিউটেশন করতে গেছে যে হয়রানির শিকার হয় সেটা থেকে আমরা শিগগির মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হবো।
সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে থেকে এসিল্যান্ডদের নতুন যাত্রা শুরু হলো। উপজেলা লেভেলে কাজ করতে গেলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়
তাদের। কিন্তু এখন নতুন গাড়ি পাওয়ায় তারা আর কোনো সমস্যায় পড়বেন না। যখন-তখন তারা মাঠে ছুটে যেতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘তবে সরকারি নতুন গাড়ি ব্যবস্থায় এসিল্যান্ডদের আন্তরিক হতে হবে। এটিকে নিজের শতভাগ আন্তরিকতা দিয়ে ব্যবহার করতে হবে, যেন কোনো ক্ষতি না হয়।’
ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এই গাড়ি দেশের জনগণের টাকায় কেনা হয়েছে। এটার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে এসিল্যান্ডরা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেশের ৮৫ ভাগ মামলা মোকদ্দমা হয় জমিকে কেন্দ্র করে। সুতরাং এসিল্যান্ডরা যদি যথাযথ ভূমিকা পালন করে, জনবান্ধব হয় তাহলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ মোটেই অসম্ভব নয়।’
সারাদেশে ৪৯৪টি গাড়ি সহকারী কমিশনারদের (ভূমি) অনুকূলে দেয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ৯৬টি গাড়ি কেনা হয়েছে। এসব গাড়ির মধ্যে ৬০ জনের হাতে মঙ্গলবার গাড়ির চাবি তুলে দেন ভূমিমন্ত্রী। আর বাকি ৩৬টি গাড়ি আগামী ২০ সেপ্টেম্বরে হস্তান্তর করা হবে। এই ৯৬টি গাড়ি কিনতে সরকারের খরচ হয়েছে ৪৯ কোটি ৬০ লাখ ৮০ হাজার ৪৮০ টাকা। এরমধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০০টি গাড়ি, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০০টি গাড়ি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাকি গাড়িগুলো কেনা হবে।