স্টাফ রিপোর্টার
ভেষজ চিকিৎসায় করোনামুক্ত হলেন ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. কে এম শাহীন রেজা। গত ২৮ মে এই চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হন। ১৫ দিন করোনার সঙ্গে লড়ে ভেষজ চিকিৎসা নিয়েই সুস্থ হলেন এই করোনাযোদ্ধা। ডা. শাহীন রেজা বললেন, রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কিছু ভেষজ চিকিৎসা সুস্থ মানুষেরাও নিতে পারেন।
৫২ বছর বয়সী ভেষজ এই মেডিকেল অফিসার (অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার) সুনামগঞ্জের করোনাজোন হিসাবে পরিচিত ছাতকে এই সংকটকালে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (এএমসি) হলেও এই সময়ে করোনা ইউনিটেও দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাকে। করতে হয়েছে নমুনা সংগ্রহের কাজও। গত ২৮ মে তাঁর শরীরে করোনা শনাক্ত হলে হাসপাতালের কেবিনেই তিনি আইসোলেশনে থাকেন। ডা. শাহীন রেজা জানালেন, আক্রান্ত হবার পর তাঁর শরীরে ব্যাথা ও জ্বর হয়। প্রথম দিন থেকেই তিনি ভেষজ চিকিৎসা শুরু করেন। প্রথমদিন ৫০ গ্রাম আদা, ৫ থেকে ৭ দানা রসুন, ৫০ গ্রাম কাছা হলুদ, ২ টা লেবু চাকি চাকি করে কেটে দেওয়া, ২ চামচ খাটি সরিসার তেল, ৮ দানা সাদা এলাচি, ৮-১০ দানা লবঙ্গ, আধা চামচ কালোজিরা, ৪-৫ টি বাসক পাতা এবং ১৫-২০ টি তুলসি পাতা একত্রে আড়াই গ্লাস পানিতে মিশ্রিত করে সিদ্ধ করেন। ১০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেটে ফুটানোর পর চুলার আগুনের তাপমাত্রা কমিয়ে দেন। সিদ্ধ দেওয়া ওষুধি দ্রব্যের বাসনের (হাড়ি’র) উপর মুখ রেখে তোয়ালে বা গামছা দিয়ে মাথা ঢেকে চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে শ্বাস নেন, মুখ দিয়ে ছাড়েন। এভাবে সকল উপাদানের মিশ্রন করে ১০ মিনিট করে দিনে চারবার করতে থাকেন। ভাপ নেবার পর প্রতিবারই উপাদান মিশ্রিত এই ওষুধি খাবারসহ মগে ঢেলে দেন। সহনীয় তাপমাত্রা হবার পর চায়ের মতো সকল উপাদানসহ খেতে থাকেন। এই চিকিৎসা চলে ১৫ দিন।
তিনি জানান, এছাড়াও ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ক্যাপসুল ডি সেফা দিনে ৩ বার, স্কয়ার হারবালের লিবোলাইপ দৈনিক ৩ টা, জেনথিং ২ বেলা ২ টা, বিকোজিন ২ বেলা ২ টা, সি-ভিট ২ বেলা ২ টা, একমি হারবালের চ্যাবন প্রাস এক চামচ করে দিনে ৩ বার, বাসক সিরাপ ২ চামচ করে ৩ বার এবং হামদর্দ’এর লিনা ৩ বেলা ৩ টা খান এই চিকিৎসক।
তিনি জানান, গত ১৫ দিন এভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন, শতভাগ সুস্থ তিনি, এখনো ভেষজ চিকিৎসার মধ্যেই আছেন। তাঁর মতে সুস্থ মানুষেরাও ভেষজ চিকিৎসা নিতে পারেন। তাতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার শুভগাছা গ্রামের মরহুম কে এম ছোবহান ও মরহুমা সুফিয়া বেগমের সন্তান ডা. কে এম শাহীন রেজা তাঁর নিজ এলাকায় করোনাকালের আগে সপ্তাহে একদিন ফ্রি চিকিৎসা দেওয়ায় এলাকায় গরীবের ডাক্তার হিসাবেই পরিচিত।