পুলক রাজ
পৌর শহরের মধ্য হাছননগর (দপ এলাকা) এলাকায় শীতে ধুলা, এবড়ো থেবড়ো সড়ক আর বর্ষায় জল কাদার ভোগান্তিতে রয়েছেন বাসিন্দারা। পৌর কর্তৃপক্ষ গত ৪ থেকে ৫ বছর ধরে পাকা সড়ক করা হবে বলে আশ^াস দিলেও এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। এতে এলাকার প্রায় ৩০টি পরিবার দুর্ভোগে রয়েছে। বর্ষায় সড়কে বুক সমান পানি হয়। সাঁকো ছাড়া চলাচল করা যায় না। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া ও রোগীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া ও দৈনন্দিন কাজে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এবছরও মাটির সড়ক উঁচু ও পাকা করা হবে কি-না, তা নিয়ে এলাকার সচেতন মানুষের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত সড়কের উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। এলাকাবাসী অবিলম্বে সড়কটি পাকা করণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কমনা করছেন। এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন সড়কটি তাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। তবে এবার টেন্ডার হয়ে যাওয়ার কারণে সড়কটি আর হচ্ছে না।
এলাকার বাসিন্দা দিবাকর দাশ বলেন, মাটির সড়ক পাকাকরণের জন্য কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। আমরা এলাকার মানুষ খুব বিপদে আছি সড়ক না থাকায়। বর্ষায় বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। পড়াশুনা করতে এবং ঘর থেকে বের হতে পারি না। পৌরসভায় অনেক বার জানানো হয়েছে, কিন্তু তাদের কোন সাড়া মিলছে না।
তিনি বলেন, এক অনুষ্ঠানে পৌরসভার মেয়র মহোদয় অনুষ্ঠানে এসে বলে ছিলেন দ্রুত মাটির রাস্তা পাকা করা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেই। এলাকার মানুষের আসা যাওয়া করার জন্য আমি নিজের টাকা খরচ করে বর্ষার সময় সাঁকো দেই। আগামী দুই মাসের মধ্যে পানি উঠে যাবে, তখন কাজ করানো সম্ভব হবে না। আমাদের দাবি এই শীতের মৌসুমে উঁচু রাস্তা করা হোক।
রাণী দাস কুটি বলেন, বর্ষার সময় নৌকা দিয়ে পার হতে হয়। খুব বেশী সমস্যা হয়। ঘরে উঠে আসে পানি। পাকা রাস্তা করা হবে বলে আশ^াস দেওয়া হয়েছিল, পরে আর কোন খবর পাওয়া যায় নি। ৬/৭ মাস আগে সড়কের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দরখাস্তও করা হয়েছে।
আলী হায়দার বলেন, পৌরসভা থেকে বলা হয়েছে কাজ করা হবে, কিন্তু এখনও কোন কাজ করা হচ্ছে না। এলাকাবাসী বর্ষার সময় খুব সমস্যায় থাকে।
ফৌজিয়া বেগম বলেন, মাছের ফিসারী থাকায় পানি আটক থাকে। পানি নিস্কাশন হয় না। মধ্যে শহরে পানি বন্দি হয়ে থাকি আমরা, গ্রামের চেয়েও অবস্থা খারাপ।
৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চঞ্চল কুমার লৌহ বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম তাদেরকে মেয়র মহোদয়ের কাছে আসার জন্য। এই এলাকায় কিছু লোক বাইরে থেকে এসে বাড়ি করেছেন। অনেকেই পৌরসভার ভোটার না। উনারা একজায়গায় হতে পারেন না । আমরা ইলেক্টিকের খুঁটি বসিয়ে দিয়েছি ঐ এলাকায়। ’
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মীর মোশাররফ হোসেন বলেন, সড়কটা আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। তবে এবারে আমাদের টেন্ডার হয়ে গেছে। পরবর্তী টেন্ডারে এই রাস্তার কাজটি আমরা করবো ইনশাআল্লাহ।