- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ভোটার আইডি, জন্ম ও উত্তরাধিকার সনদ জালিয়াতি জীবিত চাচাকে মৃত বাবা বানিয়ে সম্পত্তি বিক্রির অভিযোগ

টিপু সুলতান, দিরাই
দিরাই পৌর শহরে কোটি টাকার সম্পত্তি হাতাতে ভোটার আইডি কার্ডসহ জন্ম ও উত্তরাধিকার সনদে চাচাকে বাবা বানানো হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, উত্তরাধিকারী সাজতে গিয়ে জীবিত চাচাকে মেরে ফেলা হয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরী করা এসব কাগজ-পত্রে। বাস্তবে তিনি এখনও জীবিত আছেন। তাও আবার বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আমেরিকায়। এমন অভিযোগ ওঠেছে, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের নাচনী গ্রামের আব্দুল মালিকের পাঁচ সন্তান সাজনা বেগম, সাবিনা বেগম, রিবিনা বেগম, আক্তার হোসেন ও তৌকির হোসেন’র বিরুদ্ধে।  আমেরিকা প্রবাসি জীবিত চাচাকে মৃত বাবা বানিয়ে ওই প্রবাসীর কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছেন তারা। জন্ম ও ওয়ারিশান সনদসহ  জাতীয় পরিচয় পত্র (ভোটার আইডি) জালিয়াতি করে দিরাই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গত জানুয়ারি মাসে পৃথক চারটি সাফ কাবালা দলিলে ২৯ শতক ভূমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হয়। দলিল গ্রহিতারা সহকারি কমিশনারের কার্যালয়ে ভূমির নামজারি করাতে গেলে উত্তরাধিকার সনদ, জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে জালিয়াতি ধরা পড়ে। সদর ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মোতালিব মজুমদার এ সব কাগজ-পত্র জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেবার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রে বর্নিত তথ্য বিকৃত করে পিতার নাম আব্দুল মালিকের স্থলে মৃত আবুল হোসেন লিখা হয়েছে যা দন্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে ২ বছরের কারাদন্ড অথবা ৪০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দন্ডের বিধান রয়েছে ।   
উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের নাচনী গ্রামের সাজনা বেগম, সাবিনা বেগম, রিবিনা বেগম, আক্তার হোসেন ও তৌকির হোসেন  ওয়ারিশান সনদ, জন্ম সনদ এবং জাতীয় পরিচয় পত্রে নিজেদের আবুল হোসেনের উত্তরাধিকার দাবি করে গত ১৯ এবং ২৬ জানুয়ারী ১০৮, ১৬২, ১৬৩ ও ১৭৩ নং সাব-কাবালা পৃথক চারটি দলিলে ২৯ শতক ভূমি রেজিস্ট্রি করে দেন।
কুলঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া বলেন, ‘আবুল হোসেন আমার ইউনিয়নের নাচনী গ্রামের বাসিন্দা। তার কোনো ছেলে-মেয়ে নেই। তিনি বর্তমানে আমেরিকা আছেন। তাকে মৃত দেখিয়ে যাদের নামে ওয়ারিশান সনদ তৈরী করা হয়েছে তারা মূলত আব্দুল মালিকের ছেলে-মেয়ে ও আবুল হোসেনের ভাতিজা-ভাতিজি। এ ধরণের কোনো সনদ তিনি দেন নি বলে দাবি করেন।’
ভূমি রেজিস্ট্রির ব্যাপারে সাব-রেজিস্টার আনছার উদ্দিন বলেন, ‘দলিল সম্পাদনের পর বাতিলের ক্ষমতা তার নেই। কাগজ-পত্র জাল প্রমাণিত হলে দলিলের দাতা-গ্রহীতা, স্বাক্ষী, পরিচয়কারিসহ দলিল লেখক এ জন্যে দায়ি হবেন। আদালত ইচ্ছে করলে দলিল বাতিল করতে পারেন।’
সহকারি কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দিরাই পৌর শহরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে  চান্দপুর মৌজার ৯৯ জেএল’র আওতাধীন পৃথক দু’টি দাগে ২৯ শতক ভূমি শ্রী কালিপদ বনিক ও তার স্ত্রী শ্রী লক্ষী রানী বনিকের কাছ থেকে ১৯৮২ সালে  দিরাই সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ৬৮৮২ নং সাব-কাবালা দলিলে ক্রয় করেন, কুলঞ্জ ইউনিয়নের  নাচনী গ্রামের মৃত সাহিদ মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। ১৯৯১ সালে তিনি সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে ওই ভূমির নামজারি করান। নামজারি খতিয়ান নং-৯৫৩। আর, এস জরীপ চলাবস্থায় আর,এস খতিয়ানেও ওই ভূমি আবুল হোসেনের নামে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।
সহকারি কমিশনারের দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, ‘ওই ভুমি নামজারির জন্যে পৃথক চারটি আবেদন করা হয়। আবেদনর তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিস সহ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে খোজ-খবর নিতে গেলে জাতীয় পরিচয় পত্র ও জন্ম সনদে গড়মিল ধরা পড়ে। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • [১]