ইয়াকুব শাহরিয়ার, পাগলাবাজার
জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট না দেওয়ায় টাকা ফেরতের দাবি করেছেন পরাজিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। শনিবার দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আক্তাপাড়া মিনা বাজারে বাজার কমিটির কার্যালয়ে শালিসের মাধ্যমে টাকা ফেরতের দাবি করেন তারা।
২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ১০ নং ওয়ার্ডে যেসব ভোটাররা ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করেছেন সেসব ভোটারদের কাছে কৌশলে টাকা ফেরতের দাবি করেছেন প্রার্থীরা। তবে উৎকোচের টাকা ফেরত চাওয়ার দাবির কথা জানতে চাওয়া হলে কোনো উত্তর না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান প্রার্থীরা ।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে আক্তাপাড়া মিনাবাজারে বাজার পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে শালিস বৈঠকের মতো করে আলোচনার মাধ্যমে টাকা ফেরতের দাবি করেন সদস্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। এসময় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুরসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীরা পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর কালাম ও কিছু সংখ্যক সদস্যদের নিকট টাকা ফেরত দেয়ার দাবি করেন।
শনিবারের শালিস বৈঠকে কলকলিয়া ইউনিয়ন
পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাসিম, দরগাপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রওশন খান সাগর, হাজি জালাল উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম, ছুফি মিয়া, পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছালেক উদ্দিন, শহীদুর রহমান শহীদ, জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী নুরুল আমীন, সোহেল মিয়া, বিশিষ্ট মুরুব্বি সৈয়দ সবুর আলী ও আবদুল হামিদসহ অনেকের উপস্থিতিতে প্রার্থীদের পক্ষে এ অভিযোগ করেন সমর্থকেরা। উপস্থিত সবাই ভোট প্রদান করতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের টাকা নেয়ার ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেন।
সূত্র জানায়, আগামী শনিবার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের যে কোনোস্থানে একই বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত বৈঠক হবে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হবে।
নিজের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে উপস্থিত সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সমাজের সচেতন মহলসহ আমরা এই চাপ দিচ্ছি এজন্যই যে, ভবিষ্যতে যেন কোনো জনপ্রতিনিধি এমন গর্হিত কাজ করার সাহস না পায়। তারা জনপ্রতিনিধি, তাদের হাতে ইউনিয়নের সকল ক্ষমতা। তারা যদি এমন কাজ করেন তাহলে আমরা কি ধরে নেবো সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদই তারা বিক্রি করে দেবে?’ তিনি জানান- ‘সরকার যদি ঢালাওভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিধান না রেখে শিক্ষাগত যোগ্যতার হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিধান রাখতেন তাহলে এমন গর্হিত কাজ হতো না।’
সকল অভিযোগের কথা অস্বীকার করে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর কালাম বলেন, ‘আমি এমন কাজ করি নি। কেউ যদি সালামি হিসাবে আমাকে জোরপূর্বক কিছু দিয়ে থাকেন তাহলে আমি তা নির্বাচনের পর পরই ফিরিয়ে দিয়েছি। আমার সাথে কারো কোনো লেনদেন নেই। কেউ যদি তার কালো টাকা কোনো সদস্যকে দিয়ে থাকেন সেটা তারা চাইলে কৌশলে উদ্ধার করে নিতে পারেন।’ আগামী শনিবার পূর্ব বীরগাঁও-এ একই বিষয় নিয়ে আবার আলোচনায় বসা হবে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘এ ব্যাপারে আমি কিছু এখনো জানি না। যদি বসা হয়, আর যদি কারো সাথে কোনো সদস্যদের দেনা পাওনা থাকে আমি তা মিমাংসা করে দেবো। আমার অবস্থান এখানে একদম স্বচ্ছ।’